পোস্টগুলি

মে, ২০১৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

ঘোড়ার ডিম

একদা এক জংগলে বড় বড় হর্তা কর্তা পশুদের সমাবেশ হয়েছিল।যথারীতি সিংহ মহাশয় সভাপতি,শেয়াল মশাই উপদেষ্টা,গরু স্রোতা,বিড়াল বাবুর্চি,কুকুর সেবক। আলোচনার বিষয়ঃরাজনীতি। সমস্যায় জর্জরিত পশু সমাজ তাদের রাজনৈতিক ভুলের কারনে নিজ সমাজেই দাম পাচ্ছে না।সামান্য একটা বেজি বাঘকে পর্যন্ত ভয় পায়'না,সমস্যা এতোটাই গুরুতর। শেয়াল মশাই অনেক বুদ্ধি খাটিয়েও কোন সুরাহা করতে পারেনি।একে একে সবাই যখন ব্যর্থ তখন পণ্ডিত শেয়াল জিজ্ঞেস করলো,এমন কিছু কি তোমাদের নাই;যা সমাজে দেখালে তারা আমাদের দাম দিতে শুরু করবে?" ঘোড়া বললঃ"আমার কাছে এক অতি মূল্যবান জিনিস আছে,যাকে সবাই;এমনকি মানুষ সমাজও মূল্যায়ন করে।" শেয়ালঃ"কী সেই মূল্যবান জিনিস? ঘোড়াঃ" ডিম,আমি ইচ্ছা করলে একটা ডিম পেড়েই সমাধান করতে পারি,কিন্তু ডিম পারবো না।" শেয়ালঃ"তা কি রকম বাপু?" ঘোড়াঃ"পণ্ডিত মশাই,আপনি পড়ালেখা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন,রাজনীতিতে আমার ডিমের হিসাব আপনি বুঝবেন না,আর তাছাড়া সব গোমর ফাস করে দিলে রাজনীতি করতে পারবেন'না,ওটা আমার ডিমেই সীমাবদ্ধ থাক।" সেই থেকে মানুষ সমাজেও রাজনীত...

কৃত্তিম সংকট

প্রথম খন্ডঃ মৌর্য,গুপ্ত আর পাল আমলের কথা শোনেনি এমন শিক্ষিত মানুষের দেখা বাংলাদেশে মনে হয় পাওয়া যাবে'না।মৌর্য,গুপ্ত আর পালদের সুনামের কথা যেমন মানুষ শুনেছে,তেমনি শুনেছে অত্যাচার আর কুকীর্তির কথাও।খাজনা দিতে না পারলে প্রজার কী অবস্থা হতো;তা অনেকেই গল্প নাটকে দেখেছেন অথবা ইতিহাস বইতে পড়েছেন। কিছু কিম্ভুত আইন ছিল সে সময়। যেমনঃপ্রজাদের কেউ রাজার সামনে বা রাজবাড়ীর আশেপাশে জুতো পায়ে হাটতে পারতো'না,জুতো পায়ে হাটা ছিল ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। জাতীয় চেতনা বলতে তখন কিছু ছিল'না,সবই ছিল ব্যক্তিকেন্দ্রিক।জোড় যার মুল্লুক তার-অনেকটা এই রকম।যার ফলশ্রুতিতে সম্পদের মালিকানা ছিল হাতে গোনা কয়েকজনের হাতে।ফলাফল;একদিকে বিপুল পরিমান ঐশ্বর্য আর অপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্ষমতা, অন্যদিকে আধমরা প্রজা। এতো প্রতাপশালী,ক্ষমতাধর রাজারা কিন্তু শুধু প্রতাপ আর ক্ষমতার জোরে টিকে থাকেনি,তারা টিকে থেকেছে তাদের কিছু "পলিসির" কারনে। এই "পলিসির" অন্যতম একটা ছিল শিক্ষাব্যবস্থা। তখনকার পাঠশালা ছিল শুধুমাত্র রাজা আর মন্ত্রীসভার ছেলেদের জন্য সীমাবদ্ধ,প্রজাদের জন্য তা ছিল সম্পূ...

প্রাগৈতিহাসিক

এপোক্যালিপটো মুভিতে এজটেক সভ্যতার যে বিভৎস মানব হত্যা দেখানো হয়েছে,তাতে আমি রোমাঞ্চিত  হয়নি,হয়েছি ভীত।মুভিতে যে ভয়াবহতা উপলব্ধ করেছি,বাস্তবে যে তা কতটা ভয়াবহ ছিল;তা আর ভাবতে চাই না।কারন এজটেকরা বাস্তবে এরকমভাবে মানুষ হত্যা করতো।  মুভিতে দেখানো হয়েছে; রাজার সামনে  জীবন্ত বন্দীর হৃদপিন্ড ধারাল অস্ত্র দিয়ে বুক চিড়ে বের করা হচ্ছে।বের করে তা আগুনে পোরানো হচ্ছে,যা খাবে রাজা আর রাজার পুত্ররা,ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে তাতে তারা হবে শক্তিধর! বন্দী মানুষটা তখনো মারা যায়নি,ছটফট করছে,চারজন ব্যক্তি তাকে শক্ত করে ধরে রেখেছে।তখন ভয়ানক দর্শন একজন জল্লাদ বন্দীর মাথা এককোপে কেটে দিল।মাথা সিঁড়ি দিয়ে গড়িয়ে নামছে,নিচে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের মধ্যে যে ধরতে পারবে মাথা তার,আর দেহ সাধারন জনগোষ্ঠীর। কত ভয়াবহ ব্যাপার!তাইনা? তারা বর্বর ছিল, কারন তারা কুসংস্কারাচ্ছন্ন ছিল।ধর্ম বলতে তখন ছিল শুধু রাজার গোলামী করা।চাষা বা বন্দীর জীবন বিষয়টা রাজা বা সম্পদশালীদের কাছে তখন ছিল অতি নগণ্য!একটা খেলনা ভেঙে ফেলার চাইতেও নগন্য! এপোক্যালিপটো মুভির শেষ দৃশ...

শিরোনামহীন

আমি একটা স্কুলের শিক্ষক।ছোট ছোট বাচ্চাকাচ্চা পড়াই।তারা সুন্দর করে কথা বলে,কোন হিংসা নাই।এজন্য আমি এই প্রতিষ্ঠান কে কিন্ডারগার্টেন না বলে কিড্স গার্ডেন বলে থাকি। "অর্থী,পিপীলিকার কবিতাটা বলতো।" অর্থী:পিপীলিকা পিপীলিকা কোথা যাস একা একা? দাড়াও না একবার ভাই, ওই ফুল ফোটে বনে যাই মধু আহরনে দাঁড়াবার সময়তো নাই।" দেশের পিপীলিকা মধু খাওয়া শিখলো কবে থেকে?আগে জানতাম না।মৌমাছি আর পিপীলিকা মিত্রতা করেছে নাকি! "সাথিয়া বলতো, বনের রাজা কে?" "স্যার,বনের রাজা সিংহ।" তাজ্জব ব্যাপার!ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক চ্যানেলে হরহামেশাই দেখাচ্ছে সিংহ থাকে মরুভূমির জংগলে।যে বনে থাকে না সে বনের রাজা হলো কিভাবে?তাহলে মনে হয় জবরদখল। "তামিম,অ দিয়ে বাক্য রচনা করো।" তামিম:"অ-তে অজগর ওই আসছে তেড়ে।" আমি মনে হয় ইদানীং কানে কম শুনছি।নাহলে এরকম ভুল হতে পারে না।বিশ্বের সবচাইতে অলস প্রাণী তেড়ে আসছে!যে নাকি ক্ষুধা লাগা সত্বেও খাবার মুখের কাছে না থাকলে উপোষ  থাকে,সে নাকি তেড়ে আসে! একটা কথা প্রায়শই শুনি,বিদ্যা এখন বইতেই সীমাবদ...