পোস্টগুলি

জানুয়ারি, ২০১৯ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

সম্মান

"ভাইয়া সবাই মিলে এতো চাপাচাপি করছে তুমি রাজি হচ্ছো না কেন?" মিনির কিছুটা বিরক্তি মেশানো গলায় প্রশ্ন। " কিসের চাপাচাপি,কিসে রাজি হচ্ছি না?"না জানার ভান করে পাল্টা প্রশ্ন করলাম। "আর কত বার বলতে হবে,তোমার বিয়ের কথা হচ্ছে,রাজি হচ্ছো না কেন?" "কেন রাজি হচ্ছি না সেটা সবাই জানে,তারপরেও বারবার বলতে ভাল লাগছে না।যার বউ আছে সে কেন আবার বিয়ে করবে?" "তোর বউয়ের তো বাচ্চা হবে না,এটা তো বিয়ের সময় কেউ বলেনি,এখনতো সবাই জেনে গেছি।ভালয় ভালয় বলছি এই বউ ছেড়ে দিয়ে আবার বিয়ে কর,নাতী নাতনী দেখে মরি।" মা'র রাগত স্বরে স্বগতোক্তি। দীর্ঘ দিনের চেপে রাখা এই কথা মা কিভাবে জানতে পারলো ভেবে ঘেমে উঠলাম।হঠাৎ করে অস্বস্তির সাথে সাথে হৃদ স্পন্দনও অস্বাভাবিক বেড়ে গেল।দীর্ঘ সাত বছর গোপন করে রাখা কথাটাকে শেষ পর্যন্ত চেপে রাখতে পারলাম না।অহনা কখনো সন্তান জন্ম দিতে পারবে না-এটা আমি ছাড়া কেউ জানতো না,কিন্তু মা জানল কিভাবে! কিছুই হয়নি এমন একটা ভান করলাম।চেপে রাখা উত্তেজনাকে আরো চেপে রেখে বললাম,"ছেড়ে দিতে চাইলেই কি অতো সহজে কাউকে ছেড়ে দেয়া যায়?তোমরাই তো ওকে পছন...

উচিৎ শিক্ষা

ইব্রাহিম মাস্টারের উঠানে অনেক লোকের সমাগম।কোন অনুষ্টান নয় আবার কোন বিচার সালিশও নয় এমনকি কেউ মারাও যায়নি।তাহলে এতো লোকের সমাগম কেন? স্যার সাদা পাঞ্জাবি পড়ে চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে আছেন।সাদা ধবধবে দাড়ির কারনে স্যারকে মাস্টারের চাইতে মসজিদের হুজুর বলেই বেশি মনে হচ্ছে।তাকে খুব একটা চিন্তিত মনে হচ্ছে না বরং কিছুটা বিষন্ন মনে হচ্ছে।।এগিয়ে গেলাম ঘটনা কি দেখতে।না গেলেই মনে হয় ভাল করতাম।ঘটনাটার সাক্ষী হয়ে নিজেকে আজও অপরাধী মনে হয়। ইব্রাহিম মাস্টারের বড় ছেলে জোর গলায় বলছে,"আমাদের এখন সংসার হয়েছে।আয় রোজগার তেমন নাই,তাই আপনাদের কাছে আমার আর্জি আমার ঘরে বাবা মা সপ্তাহে দুইদিন খাবে আর মেজো ও ছোট ছেলের ঘরে সপ্তাহের বাকি দিনগুলো খাবে।মেজো ছেলে ও ছোট ছেলে সমস্বরে চেচিয়ে বললো,"বড় ভাই যা বলেছে ঠিকই বলেছে,আমরাও দুই দিন করে খাওয়াবো।" পেছনের অন্দর ঘর থেকে এই সময় একজন মহিলা কথা বলে উঠলো। "তিন ছেলের ঘরে দুই দিন করে খেলে সপ্তাহে ছয় দিন হয়,তারপরেও তো একদিন বাকি থাকে,ঐ একদিন কার ঘরে খাবে সেটা সবার মাধ্যমে ঠিক করে রাখ?" কেউ বলে না দিলেও আমি খুব ভাল করেই জানি ঐ কন্ঠের মালিক কে,উনি ছ...