পোস্টগুলি

2017 থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

কর্ম

আমার সামনে দুজন লোক বসে আছে,একজন পিতা অন্যজন তার পুত্র।পিতা পুত্র আমার দুর সম্পর্কের আত্মীয়।পিতার বয়স আনুমানিক ষাট থেকে পঁয়ষট্টি আর পুত্রের বয়স মোটামুটি ত্রিশের মতো।তারা দুজনেই বেশভূষায় আধুনিক।তবে পুত্রের চাইতে পিতা বেশ শক্তসমর্থ। পিতা পুত্রের মাঝে আমি আর পুত্র মহাশয় বেশ লজ্জিত মুখে বসে আছি পিতা চা পান করছেন আর পুত্রকে ধমকাচ্ছেন। পুত্র চায়ের পাত্র হাতে নিয়ে চুপ করে বসে আছেন,কোন কথাও বলছেন না চা পানও করছেন না।পিতা ধমকাচ্ছেন আর আমাকে দেখিয়ে দেখিয়ে বলছেন,"ওকে দেখ,সোনার টুকরা ছেলে,কষ্ট করে মানুষ হয়েছে,ঢাকা শহরে থেকে অনার্স পাশ করেছে।আর তুই?প্রাইমারীও পাশ করতে পারলি না,বাপের নাম উজ্জ্বল করতে পারলি না।" পুত্র এবার কাচুমাচু হয়ে বলল,"আব্বা,পড়া মাথায় না ঢুকলে আমি কী করবো আর আমি তো বসে বসে খাই না,আপনার ব্যবসা ধরে রেখেছি,সুন্দর ভাবে চালাচ্ছি।" আমি ঠিক এখানেই লজ্জা পাচ্ছিলাম।দীর্ঘশ্বাস ফেললাম,আহারে!তবু তো একটা কিছু করছে,আমি তো কিছুই করছি না,বেকার।বেচারা প্রাইমারী পাশ না করেই ব্যবসা করছে,আর আমি?আবারো দীর্ঘশ্বাস ছাড়লাম,আমি অনার্স পাশ করেও কিছুই করতে পারলাম না,ছি!কী লজ্জা! ...

মুরগী চোর

একঃ প্রাচীনকালের রাজতন্ত্রে একটা বিষয় খুব কমন ছিল-রাজ্যে রাজ্যে যুদ্ধ।একজন রাজার পরাজয়বরণ বা আত্নসমর্পন বিপরীত রাজাকে শক্তিশালী করে তুলতো।আর যখন যুদ্ধ করার জন্য কোন প্রতিপক্ষ খুজে পাওয়া যেতো না তখন রাজারা নিজের রাজ্যের প্রতি মনোযোগী হতেন।নিজের রাজ্যের দস্যু ধরে ধরে হয় কতল করতেন অথবা অন্ধ কারাগারে কয়েদ করতেন। প্রাচীনকালের মতো এখন আর রাজা মন্ত্রী বা উজির খুজে পাওয়া যায় না।তবে দেশে দেশে আজও দস্যুদের খুজে পাওয়া যায়।আমাদের চোখের সামনেই তারা দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে।তাদের খোলস আর কর্ম প্রক্রিয়া পরিবর্তন হলেও কার্যক্রম একই আছে।পরিবর্তন হয়েছে শুধু নামে।আগে ওদের নাম ছিল দস্যু,এখন নাম হয়েছে বহু।যেমন,চোর,বাটপার,ডাকাত,সন্ত্রাস ইত্যাদি।এদের মধ্যে আবার কোয়ালিটিরও অভাব নেই।যেমন চোরের মধ্যে আছে সিঁধেলচোর,গাঁটকাটা চোর,পকেটমার,ছ্যাঁচড়া চোর,গরু চোর,মুরগী চোর ইত্যাদ ইত্যাদি! দুইঃ শফিকুল ইসলাম খান আমার নিজ গ্রামের সীমান্তের কাছেই বসবাস করেন।সে আমার নিজ গ্রামের বাসিন্দা না হলেও আশেপাশের সব গ্রামের সব কিছুতেই তার সশরীরে উপস্থিত হওয়া চাই-ই চাই,তা সে বিচার শালিস হোক কিংবা বিয়ে-শাদীর দাওয়াতই হোক।সে মনে করে তা...

মৃত্যু

অনেক্ষন যাবৎ চেষ্টা করিয়াও যখন যৎসামান্য ময়লা তুলিতে পারিলাম না,তখন খুব করিয়া লাগিয়া গেলাম।আংগুলের নখ দিয়া চুলকাইতে চুলকাইতে গায়ে রক্ত  বাহির করিয়া ফেলিলাম।হঠাৎ বোধ বুদ্ধির উদয় হইল।উহা তো ময়লা নহে, উহা তিলক! (এটাও আমাদের রোজকার কাজ।যাকে মুরুব্বিরা আকাম বলে থাকে।কিছু কিছু লোক আবার আমাদের দিয়ে এসব কাজ করিয়েও থাকে) একঃ পরিক্ষার ফাকে বা কাজের ফাকে যদি মাঝেমধ্যে ভ্রমন করা যায় তাহলে সেটা শারীরিক ও মানষিক উভয়ের জন্য প্রশান্তি বয়ে আনে।আমি অবশ্য আজকে আনন্দ ভ্রমনের জন্য বের হইনি,বের হয়েছি রিজিকের সন্ধানে।আগামীকাল আমার একটা ভাইবা আছে,তেমন নামকরা কোম্পানি না,তবে বসে বসে বাপের অন্ন ধ্বংস করার চাইতে এই চেষ্টা উত্তম। আজ পহেলা মে,রাস্তায় মানুষ আছে;গাড়ি নেই।আমার এমনিতেই ঢাকা শহর ভাল লাগে না,তার উপর আজ গাড়ি নেই।মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেল।তবে খুব বেশি দেড়ি হলো না একটা সুন্দর প্রাইভেট কার পেতে।ড্রাইভার হাত দিয়ে ইশারা করছে,ঢাকা যাবো কিনা জানতে চায়।প্রাইভেট কারে যেতে আমার মন সাড়া দিচ্ছে না।কারন আজকাল এসব যানে অপকর্ম হচ্ছে হরহামেশাই।আমার এক বড়ভাইকে ঈদের সময় ধরেছিল এইরকমভাবে।বাড়ি যাওয়ার পথে সবকিছু রেখে...

কিংকর্তব্যবিমূঢ়

খাম ঠিকানা বিহীন চিঠি হাতে নিয়ে অস্থিরতা অনুভব করছি।দেশের যা অবস্থা -কে যে কী হুমকী দেয়!পড়ার আগেই ঘামে ভিজে যাচ্ছি,রাত বাজে তিনটা।কিছুক্ষন আগে সিধেল চোর এসেছিল ঘরে।বাবা আমাকে ডেকে তুলেছে।বাবার ঘরে এসে দেখি ঘরময় তন্নতন্ন করে কিছু খোজা হয়েছে,হয়তো না পেয়ে এই হুমকী বার্তা লিখেছে।চুরি করতে এসে হুমকী বার্তা ;ব্যাপারটা ঠিক মিলছে না।কেমন যেন ডাকাত ডাকাত গন্ধ পাচ্ছি! বাবা মা দুজনেই বসে আছে চৌকিতে।মা কান্না করছে আর বাবা মৃদু মৃদু হাসছে।কান্নার অর্থ বুঝতে পারছি কিন্তু হাসার অর্থ বুঝতে পারছি না।সাহস করে চিঠির ভাজ খুললাম।খুব সুন্দর হাতে লেখা চিঠি। জনাব, বিনীত নিবেদন এই যে,আমি আপনার খুব অনুগত একজন ভক্ত এবং বন্ধু।বিদেশ ফেরৎ মানুষ আপনি,খুব আশা নিয়ে আপনাদের ঘরে এসেছিলাম।ভেবেছিলাম কিছু সোনাদানা পাবো।কিন্তু আপনি এতটাই গরীব যে আলমারি খুলে হতভম্ব হয়ে গেছি।আমার নিজের আলমারিতেও এর থেকে বেশি জিনিস আছে।আলমারিতে নতুন একটা টর্চ লাইট ছিল-নিতে পারিনি-নষ্ট,ওয়ারেন্টি থাকলে ঠিক করিয়ে নেবেন।কয়েকটা নতুন সাবান,আর পারফিউম ছাড়া কিছুই পাইনি।এতে আমার খরচ উঠবে না,তাই বাধ্য হয়ে আপনার বাবার পুরনো নকিয়া ১২০০ মডেলের মোবাইল...

বেওয়ারিশ

ঢাকা শহরের কুকুরগুলো খুব বদ, অকারনে ডাকে আর কামড়াতে আসে।তাই মাঝে মধ্যে সিটি কর্পোরেশন বেওয়ারিশ কুকুর ধরতে আসে।গাড়িতে লেখা থাকে "বেওয়ারিশ কুকুর।" যে কুকুরের গলায় বেল্ট নেই সেটাই-ঠিকান বিহীন- বেওয়ারিশ।নাম ঠিকানা বিহীন মানুষ হয় না কিন্তু কুকুর হয়।তাই সিটি কর্পোরেশনের লোকদের খুব একটা বেগ পেতে হয় না। একঃ কত লাথি খেয়েছি জীবনে তার হিসাব নেই।সারাদিন খেটেছি শুধু রাতে একটু আরাম করার জন্য।কিন্তু সাবাই কী আর সুখ পায়? রাতেও নিস্তার নেই,বাড়ির মালিক যখন ইচ্ছা তখন দোকানে পাঠাতো।রাত ১-২ টা বলে ঢাকায় কোন শব্দ নেই,দোকান খোলা পাওয়া যাবে।একটা করে মশার কয়েল প্রত্যেক দিন কেনা বাবুল মামার একটা বদ অভ্যাস।তার সংসারে কোন কিছুর অভাব নেই-অভাব শুধু মশার কয়েলের! কিছু মানুষের জন্মই হয় চাকরের ঘারে পা তুলে খাওয়ার জন্য। থাক,এসব বলে কোন লাভ নেই, আমি চাকর মানুষ আমার কাজ হুকুল তালিম করা,বুদ্ধি দেয়া না।গরীবের মুখে উপদেশ মানায় না। একই সাথে পাশ প্রাইমারী পাশ করেছি আমি আর শামিম।ভাগ্য দোষে আমি চাকর আর শামিম ইন্ডাস্ট্রির মালিক।উপদেশ দেবে শামিম,আমি কে? একই বই পড়েছি আমি আর শামিম,বাবুল মামাও মনে হয় পড়েছে।স্যার ...

পার্থক্য

মানুষ মাত্রই মিথ্যা বলে।মিথ্যা কী সবাই বলতে পারে?বোবা কী মিথ্যা বলতে পারে? প্রশ্নটা কী বোকা বোকা মনে হচ্ছে?যে কথা বলতে পারে না সে আবার কিভাবে মিথ্যা বলতে পারে? উত্তর হচ্ছে;হ্যা পারে।কথা না বলেও মিথ্যা প্রকাশ করা যায়।মুখে বলা মিথ্যা আর প্রকাশ হওয়া মিথ্যার মধ্যে কোন পার্থক্য নাই। পার্থক্য মানেই দুটো জিনিসের মধ্যে ব্যবধান নয়।এই বোধের অভাবই আমাদের স্থবির জাতীতে পরিণত করেছে।তাই মনে হয় যেখানে একজন বোবা মিথ্যা বলতে পারে সেখানে আমার নিজের অবস্থান কোথায়? মিথ্যা বলার পরেও অনেকে মুখে বলে সত্যি বলছি।আবার কেউ মিথ্যা বলে না ঠিকই তবে সত্যকে লুকিয়ে রাখে। আমি একজন চাঁদাবাজের মুখে শুনেছি,"সৎ পথে আছি তাই কোন বিপদআপদ হয় না।"এটা আমাদের ধর্ম,  ভাল কাজের দোহায় দেয়া আর খারাপ কাজ করে ভাল ফল আশা করা।কেউ কেউ তো আবার কাজ না করেও ফল পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করে। এতো এতো মিথ্যা,এত তার রুপ; নিজেকে খুব অসহায় মনে হয়। নিজের রুপ লুকিয়ে রাখার জন্য কত কিছুই না করি।কাজের কাজ কিছু না করেই বাহানা করি,আমি এইটা করেছি ওইটা করেছি।আবার মিথ্যার মধ্যেও পার্থক্য করি।এটা কম ক্ষতিকর,ঐ মিথ্যায় ক্ষতি নেই,সেই মিথ্যায় দোষ নে...

বসন্ত

ন্যাড়া শিমুল আম্র কানন, তপ্ত বালু স্নিগ্ধ গগন। বাশের চিকন হলদে পাতায়, ধুলোয় ভরা পথের ছাতায়। বাঁশঝাড়ের পাতার ফাকে, শুকনো ডালে পিকের ডাকে। কচি পাতার দিগন্ত, এসে গেছে বসন্ত।

নক্ষত্র

একঃ রাত আর দিনের মধ্যে পার্থক্য কী? আমি তো এক সূর্য ছাড়া আর কোন কিছুর পার্থক্য দিন আর রাতের মধ্যে দেখি না।রাতে সবই তো দিনের মতোই থাকে,তারপরেও মানুষ রাতে ভয় পায় কেন? একটা মাত্র জিনিসের অভাব পুরো দুনিয়ার চেহারাটাই পাল্টে দেয় তাই না! ভেবে অবাক হতে হয়। রাতের চাঁদ কত উপকথার জন্ম দিয়েছে তার হিসাব নাই।অথচ সূর্য চাদের চাইতে কত বেশি উপকার করেছে দুনিয়ার-কে রাখে তার খবর।না চাইতে যা পাওয়া যায় তার কদর খুব কম লোকেই করে, যদিও তার মূল্য কোন কিছু দ্বারাই করা কারো পক্ষেই সম্ভবপর হয় নাই। রাত একটা অদ্ভুত সৃষ্টি।সব শ্রেনীর মানুষের জন্য রাত একটি নিদর্শন।সাধারণ মানুষের জন্য আরামের নিদর্শন,প্রেত সাধকের জন্য সাধনার নিদর্শন,চোরের জন্য সুযোগের নিদর্শন, এবাদতকারীর জন্য স্রষ্টার কাছাকাছি পৌঁছানোর নিদর্শন।এতো নিদর্শন থাকা সত্যেও সূর্য যখন উদিত হয় তখন সব নিদর্শন বাস্তবতার ছোয়া পেতে উদগ্রীব হয়ে পরে। দিন মানুষের স্বপ্ন পূরণ করে কিন্তু রাত যে স্বপ্ন দেখায় তা কেউ বলে না। দিন আশার প্রতিক আর রাত আশা জাগানোর প্রতিক।দিন যাদের কাছে নিরাশার প্রতিক তারা রাতে অন্তত ঘুমের ঘোরে কিছু পাওয়ার চেষ্টা করে,কিন্তু যারা সবল? ...

রক্তাক্ত ডায়রি

একঃ ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি আমার দাদী মানুষজনকে ঝাড়ফুঁক করতেন।তিনি পেশায় কবিরাজ না-হলেও মানুষজন তার কাছে আসতো দোয়া চাইতে। দাদীও সবাইকে দোয়া পড়ে ফুঁ দিতেন। আমি বেশ কিছু মানুষকে চিনি যারা ডাক্তারি বিদ্যায় পুরোপুরি ব্যর্থ হয়ে দাদীর শরণাপন্ন হয়েছিল।দাদীর "চিকিৎসায়" তারা আমৃত্যু ঐ রোগে ভোগেননি! আশ্চর্য কথা হচ্ছে দাদী কোরআন পড়তে জানতো না এমনকি বাংলাও পড়তে জানতো না! আমার মা তাকে অসংখ্য বার জিজ্ঞেস করেছে "আপনি কোন সূরা পড়ে নামাজ পড়েন?" দাদী কোন উত্তর দিতেন না,চুপ করে থাকতেন অথবা পাশ কাটিয়ে যেতেন। আমার দাদী কিছু না জানলেও উনি ছিলেন একজন সৎ মহিলা,কারো অনিষ্ট করা তার ধাতে ছিল না।হয়তো উনার সততাই ছিল "চিকিৎসা পদ্ধতি।" আসলে আগের যুগটাই ছিল আলাদা। দাদীর একটা ছোট্ট ঘর ছিল; ঘর না বলে বরং ঘরের মধ্যে খুপরি বলা ভালো।কেননা ঐ ঘরটা ছিল ঘরের ভেতরে বাশের চাটাই ঘেরা ছোট্ট একখন্ড খুপরি।খুপরির  ভিতর ছিল একটা লাল কাপড়ে ঢাকা টুল; যাকে দাদী আসন বলতো।আসনে থাকতো কিছু আগরবাতি কয়েকটা মোমবাতি আর কিছু পাচ দশ বা পঁচিশ পয়সার মুদ্রা।আমার কাজ ছিল এই মুদ্রা গুলো হিসাব করা আর মাঝেমধ্যে আসন...