পোস্টগুলি

এপ্রিল, ২০১৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

সহজাত প্রবৃত্তি,নাকি নির্দেশ?

 সহজাত প্রবৃত্তি বলতে কি বোঝায়?প্রাণীদের জীববৃত্তি বা মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিকে কী সহজাত প্রবৃত্তি বলে?সদ্যজাত শিশু বা প্রাণীর তো কোন বুদ্ধিবৃত্তি নেই! তাহলে? নাকি মানুষ বা প্রাণীর মনের অজান্তে ঘটে যাওয়া কোন নির্দেশকে সহজাত প্রবৃত্তি বলে?দর্শন,মনোবিজ্ঞান বা ধর্ম শাস্ত্র যাই বলেন'না কেন;এই নির্দেশ  বিষয়টা কিন্তু অত্যন্ত জটিল। ধরা যাক, একজন মানুষ তার সম্পূর্ণ স্মৃতি শক্তি হারিয়ে ফেলেছে।কাউকে চিনতে পারছে না।তার মস্তিষ্ক একদম ফাকা,সাদা কাগজের মত।তিনি কিন্তু এই অবস্থাতে সাথে সাথেই কথা বলতে পারেন। তাহলে সব কিছু মুছে যাওয়া সত্ত্বেও তিনি কিভাবে কথা বলতে পারেন?যে ভাষা শিখতে তার অন্তত দুই বছর লেগেছে সেই ভাষাতেই তিনি কিভাবে কথা বলছেন? ফাকা মস্তিষ্কে ভাষা আসলো কোথা থেকে? আমি একজনক মহিলাকে বিজ্ঞানভিত্তিক একটা চ্যানেলে দেখেছি, যিনি স্মৃতিভ্রষ্ট হওয়ার পর মাতৃভাষা ইংরেজি ভুলে বিশুদ্ধ স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলছে।তিনি জীবনে কোন দিন স্পেন যান'নি,এমনকি স্প্যানিশ ভাষা বলা তো দুরের কথা,কোনদিন শিখতে পর্যন্ত চেষ্টা করেন'নি! তাহলে এমন অদ্ভুত কান্ড কেন ঘটলো?শূন্য মস্...

ব্রিজ

শুরুর আগেঃ যার পিছনে বলার মতো কোন গল্প নাই,সে আসলে বড় হয় নাই। যে বড় হয়েছে অথচ তার পিছনে কোন গল্প নাই,হয় কেউ তাকে বড় করে দিয়েছে নয়তো সে মিথ্যার মুখোশ পরে আছে। ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যাচ্ছে,ছেলেরা সাইকেল চালিয়ে,মেয়েরা হেটে।কাচা  রাস্তায় এখনো যান চলাচল শুরু হয়নি,তাই সাইকেলই একমাত্র ভরসা। স্কুলে যাওয়ার পথে খুব উচু একটা ব্রিজ পার হতে হয় ছাত্রদের।বর্ষায় রাস্তা ভেঙে প্রাকৃতিক ভাবেই উচু হয়ে গেছে ব্রিজটা।ব্রিজ পার হতে ছাত্রদের কাল ঘাম ছুটে যায়,কারন ওরা ছোট।তবু ওরা পার হয়। শেষের দিকে আর পারেনা একজন ছাত্র।দুই জনে এক সাইকেলে চললে কষ্টটাও দ্বিগুণ হয়,তবুও সাইকেল থেকে নেমে কষ্টেসৃষ্টে  ধাক্কাধাক্কি করে ব্রিজে উঠে যায় ছেলেরা,ওরা জানে যত কষ্টই হোক না কেন ব্রিজের ওই পাড়ে আছে শান্তি,কষ্টহীন যাত্রা। ব্রিজের রেলিঙে বসা একজন ছাত্র তখন বলে ওঠে,"এই জন্যই সাইকেল কিনি না,আমাকে দেখ;আমি হেটে আসি।একা কুস্তি করতেই ভাল লাগে না,আবার দুইজন।" মধ্যমাঃ নজরুল;আমার বন্ধু,আমি জানি না ও এখন কোথায় আছে,তবে জানি যেখানেই থাক নজরুলরা সব সময় ভাল থাকে। আমি যখন স্কুলের ছা...

খাইখাই

                               মোঃসিফাত হোসেন প্রত্যেক সমাজেই কিছু মানুষ থাকে যারা নিজেকে খুব চালাক মনে করে।চালাকির মাত্রা যাচাই করার জন্য যদি কোন মিটার থাকতো তবে তারা চোখ পাকিয়ে বলতো এই মিটারে গণ্ডগোল আছে।যদি বলি স্যার এটা তো মেড ইন জাপান।উত্তরে তিনি বলতেন আজকাল ভাল জিনিস বাজারে পাওয়া যায় না। চেয়ারম্যান সাধারণত গম চুরি করেন না,যা করেন তা হলো প্রত্যেকের কাছ থেকে দুই কেজি মত রেখে দেন।এটাকে চুরি বলে না,বলে হিসাব।এজন্য ইউনিয়ন পরিষদকে পরিসংখ্যান বিদ্যার স্কুল বলতে পারেন আপনি। আলি বাবা সাহেব সেইরকম একটা স্কুলের চেয়ারম্যান।উনি নিজে মনে করেন,কষ্ট করে নির্বাচিত হয়েছি বেতন দেয় কয় টাকা!নিজের খরচ উঠাতে গেলে কিছু নিজের কাছে রেখে দিলে সমস্যা নাই,সবতো নিজেদেরই! একজন লোক এসেছেঃ "চেয়ারম্যান সাহেব,আমার একটা চারিত্রিক সনদপত্র দরকার।" চেয়ারম্যানঃ"নিয়ে যান।" চেয়ারম্যান সাহেব সব সময় নিজে চারিত্রিক সনদপত্র প্রদান করেন। নতুন মেম্বার জিজ্ঞেস করলেন,"স্যার সম্মানীর গম দিয়ে কী করবে...

এ্যানটিক্স

"জন্মদিনে আমাকে কি কিনে দেবে বাবা?" জাহিদের ছেলে মিরাজ এভাবেই প্রশ্ন করলো।জাহিদ হাসি মুখে উত্তর দিলো,"এখন বলা যাবে না,কালকে হবে সব।" মিরাজ এতোটুকুতেই খুশি,ও জানে বাবা মিথ্যে বলে না। বুকের খুব গভীর থেকে একটা নিঃশ্বাস বেরিয়ে আসে জাহিদের।মা মরা ছেলেটার বয়স পাচ,তার মধ্যে সাইকেল চালাতে গিয়ে পায়ের গোড়ালি কেটে ফেলেছে।কোন ভাবেই সারছে না।অনেক কষ্টে ডাক্তার দেখাতে হচ্ছে।কষ্ট হচ্ছে কারন জাহিদ বেকার,দুই একটা কোন রকম টিউশানি আছে।তাই দিয়ে চলতে হয়।গ্রামের বাড়ি,টিউশানির টাকা এমনিতেই কম তার মধ্যে অনেকে টাকা দেয়ার সময় টালবাহানা করে। গ্রামে খরচ যেমন কম ইনকামও তেমনি কম। জাহিদের চাচা,ভাই,মামা সবাই আছে,শুধু সম্পর্কের দিক থেকে,সাহায্য'র দিক থেকে ওর কেউ নেই।মা-বাবা বেচে থাকলে কষ্টটা অন্তত ভাগ করতে পারতো জাহিদ। পরদিন। জাহিদ জেলা সদরে ঘুরছে,অসুস্থ ছেলেটাকে কি কিনে দেবে, কাছে টাকা যা আছে তাতে ও বড়জোর একটা পুতুল কিনতে পারবে,কেক কেনাই যাবে না,মিথ্যে বলতে হবে। জাহিদ অনেক কষ্টে একটা এ্যানটিক্স এর দোকানের দিকে পা বাড়ালো।এ্যানটিক্সের দোকানে পুরোন সব জিন...

বাঘা বাতাস

                মোঃসিফাত হোসেন আমার স্যার প্লাস কাকার নাম সুমন।তিনি উদ্ভট প্রশ্ন ও তার বিস্ময়কর সমাধান দেয়ার জন্য খুব বিখ্যাত।তাই তার ছাত্র হিসেবে আমার মধ্যেও কিছুটা উদ্ভট চিন্তা খেলা করবে তাতে আর দোষের কী? আমাদের গ্রামে একবার এক প্রতিবেশি কাকুর খুব শরীর খারাপ।তাকে কবিরাজ বাড়ি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কবিরাজ নানী রোগী দেখেই বললেন,"বমি মবি ভাব,মাথা ঘুরছে?" তারপর আপন মনেই বললেন,"সাপের বাতাস!সাপের বাতাস!" রোগী কাকু হ্যা সুচক মাথা নাড়লেন। শুরু হলো হাত চালান।হাত দৌড়ে মাথায় উঠে গেল।ধীরে ধীরে ঝাড়ফুঁক দিয়ে নামানো হলো হাত,সাথে সাপের বাতাস। ওইখানে সুমন কাকা উপস্থিত ছিলেন, সে মুচকি মুচকি হাসছিলেন।আমি জিজ্ঞেস করলাম,"হাসছেন কেন?" সে মুচকি হেসেই বললেন,"আল্লাহ বাচিয়েছে উনার সাপের বাতাস লেগেছে,বাঘা বাতাস লাগে নাই।" বলে খুব জোরে হেসে উঠলেন। সাপের বাতাস কি আসলে লাগে?মাথা কি আসলে ঘোরে? সাপের বাতাস আসলে কী? এই পৃথিবীতে বহু প্রজাতির সাপ আছে, তার মধ্যে বিষাক্ত সাপের সংখ্যা সীমিত।যে সাপের মাথায় দুটি লম্বা দাগ থাকে ওই সাপই বিষাক্ত সাপ।এটাই বিষ...

টিকটিকি

                       মোঃসিফাত হোসেন ধরুন, আপনি রাজনীতি করেন,ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করছেন।আপনি বললেন,"দেশের সেবা করবো,মানুষের সেবা করবো।"  আপনার সাথে আছে পরহেজগার একজন হুজুর আর আছে একজন মনোবিজ্ঞানী। হুজুর বলল,"ভাল নিয়ত করেছেন,ইনশাআল্লাহ, আপনি তা পারবেন। মনোবিজ্ঞানী বলল,"মনকে কেন্দ্রীভূত করুন,চেষ্টা করলে আপনি পারবেন, সবুরে মেওয়া ফলে।" এমন সময় একটা টিকটিকি টিকটিক করে ডেকে উঠলো। আপনি কাকে বিশ্বাস করবেন? হুজুর,মনোবিজ্ঞানী না টিকটিকি? সবুরে মেওয়া ফলে ;না মেওয়া সবুরকে খেয়ে ফেলে? টিকটিকি তোমার কত দাম,সে কথা তুমি যদি জানতে.......রিদয় চিড়ে দেখিয়ে দিতাম..........! তুমি বলো টিকটিক আর আমি ভাবি ঠিকঠিক! ধরুন, আপনার বাড়িতে একটা শিশুর জন্ম হবে।ডাক্তার বলেছে কোন অবস্থাতেই বাচ্চার জন্মের পর মুখে মধু দেবেন না,এই গরমে বাচ্চাকে তেল মাখাবেন না আরো বলেছে এই গরমে ঘরে আগুন রাখবেন না। একজন স্বনামধন্য কবিরাজ বলেছে মুখে মধু না দিলে কথা মিষ্টি হবে না,তেল না মাখালে খোল (চামড়া) শক্ত হব...