পোস্টগুলি

জুন, ২০১৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

হায়েনা

  আমার গ্রাম; খুব মিষ্টি একটা গ্রাম। ছায়াঘন কুটিরের সাথে এর তুলনা চলে। পুরো গ্রাম নদীর পাড় ঘেষে গড়ে উঠেছে, নদীর বাঁকে কাশফুল। দেখে বোঝার উপায় নেই সাজানো- গোছানো গ্রামটি হায়েনার অভয়ারণ্য! আমার গ্রামের হায়েনারা সিজনাল হায়েনা। কোরবানির ঈদ আর শালিসে এদের উদয় হয় সবচাইতে বেশি।   হায়েনা সব চাইতে বিখ্যাত অন্যের  শিকার চুরি করে খাওয়ার জন্য। শিকারিকে এক পাল হায়েনা বিরক্ত করে, অন্য পাল সেই ফাকে শিকার চুরি করে। প্রথম খন্ডঃ   আমার ফুপা আর ফুপুর মধ্যে তুমুল বিরোধ চলছে। বিরোধ এতোটাই গুরুতর যে গ্রামের মতব্বরেরা  সমাধান করতে পারছে না। বিচারে এক মাতব্বর এক পাল্লা ভারী করেন তো আরেক মাতব্বর অন্য পাল্লায় চেপে বসেন। মাসের পর মাস ধরে চলে বিচার, কিন্তু শেষ হয় না।   আসল সমস্যা তারা দুজনেই মালদার পার্টি। মালদার একজন হলে এক তুড়িতেই সমস্যা সমাধান করা যেতো, কিন্তু ভিলেজ পলিটিক্স এতো সোজা কথা নয়।   চেয়ারম্যান মিথ্যা সাক্ষী দেখতে দেখতে মাফ চাইতে বাধ্য হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত তারা দুজনেই গেছেন পুলিশের কাছে "বিচার" চাইতে। দ্বিতীয় খন্ডঃ   আমাদের...

কবিরাজ

স্যার পড়াচ্ছেন, "বিপরীত শব্দ" খারাপের বিপরীত ভালো, দিনের বিপরীত রাত, চন্দ্রের বিপরীত সূর্য, গ্রহের বিপরীত উপগ্রহ।" আমি বললাম,"স্যার, পৃথিবী একটা গ্রহ, আর চাঁদ তার উপগ্রহ। গ্রহের বিপরীত যদি উপগ্রহ হয়, তবে চাঁদের বিপরীত হওয়া উচিৎ ছিল পৃথিবী, কিন্তু হয়নি। চাঁদের বিপরীত হয়েছে সূর্য। কেন?" স্যারের উত্তর পাই'নি, উল্টো বকা খেয়েছি। কেন? আমি জানিনা ।মনে হয় কেউই জানে না। সেদিন থেকে মনে হয় স্যার একজন প্রফেশনাল কবিরাজ। শুধু প্রাইভেট প্রেসক্রিপশন দিতে জানে। ভুল ধরাও যাবেনা, করাও যাবেনা। তাহলে  সাইড-এফেক্ট শুরু হয়ে যাবে। তার থেকে বরং আরেক কবিরাজের কাছে যাই চলুন। ২০১৫ সালের শীতকালের ছোট্ট একটা ঘটনা বলছি; আমার পাশের বাড়ীর দাদী খুব অসুস্থ, ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে, সবাই বুঝতে পারছি অবস্থা বেগতিক, কিন্তু তার পরিবারের কেউই দাদীকে হাসপাতালে নিতে চাচ্ছেন না। তাদের টাকা আছে কিন্তু খরচ করবে না-এই জন্য না। কারন একজন কবিরাজকে খবর দেয়া হয়েছে, তিনি আসছেন। বলে রাখি, এই পরিবার কবিরাজ অনুরক্ত পরিবার, ঘরের চাবি হারিয়ে গেলেও তারা কবিরাজের কাছে যায়,চা...

পরিচয়

না জানা দোষের কিছু না,জানতে না চাওয়া দোষের। আমার কাছের এক বড় ভাইকে আজ  আপনাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবো। পারলে দেখা করিয়ে দিতাম,কিন্তু তা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি অতি জ্ঞানী মানুষ, সব কিছুই তার নখের ডগায়!এমন কিছু নাই যে তিনি জানেন না!প্রাচ্য থেকে পাশ্চাত্য,বিজ্ঞান থেকে অজ্ঞান, ইতিহাস থেকে পাতিহাঁস- সব তিনি জানেন! তার একটা "সুন্দর অভ্যাস" আছে,তিনি প্রায়শই ইংরেজিতে কথা বলেন,এতে তার প্রচন্ড গর্ব।তার বিখ্যাত এবং গর্বিত একটা উক্তি হচ্ছে, "আমি তো বাংলায় কথাই বলতে পারি না।"-এই উক্তিটি অবশ্য তিনি বাংলাতেই দিতেন সবসময়। বাংলায় কথা না বলতে পাড়ায় কোন বিদেশি পর্যটক লজ্জিত হয়েছে কিনা আমি জানি না,তবে আমি ইংরেজিতে  কথা বলতে না পাড়ায় ভাইয়ের সামনে লজ্জিত হয়েছি বহুবার। একবার আমরা গ্রুপ স্টাডি করছি, বিষয় সাহিত্য। স্যার হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড কে নিয়ে কথা বলছিলাম," তিনি স্কটল্যান্ডের খুব বিখ্যাত একজন লেখক"-মাত্র এই পর্যন্ত বলেছি, ভাই কথার মাঝখানে বলে বসলেন ,"মনে হয় খুব বেশি বিখ্যাত না,খুব বিখ্যাত হলে আমি জানতাম।" কথাটা এমনভাবে বললেন;মনে হলো পৃথিবীর সব বিখ্যা...

Who is she?

একঃ ছাইয়ে কখনো কারো পা পুড়তে দেখেছেন? না দেখলেও অনেকে শুনেছেন হয়তো।আপনি দেখে বা শুনে যেভাবেই জানুন না কেন,ভুল জেনেছেন!ছাইয়ে কখনো পা পোড়ে না,পোড়ে আগুনে!একে বলে ছাই চাপা আগুন! সমাজে যেমন চোর বাটপার জন্ম হয় আবার তাদের শায়েস্তা করার জন্য কিছু নীতিবাদী মানুষেরও জন্ম হয়। যারা উত্তর না জেনেও সূক্ষ্মতর প্রশ্নের মাধ্যমে অপরাধীকে ধরে ফেলেন।হাসান ইমাম স্যার হচ্ছেন তাদের অন্যতম।তিনি হচ্ছেন সমাজের ছাইচাপা আগুন!তার আগুনে শুধু অপরাধীরাই পুড়ে মরে! শ্রদ্ধেয় হাসান ইমাম স্যার স্কুলের একটা সমস্যার সমাধান করছিলেন।বিষয় হচ্ছে;বাইরের কিছু ছেলে স্কুলের ছেলেদের মেরেছে।সিভিল ড্রেসে এসে আট-দশজনকে মেরে আবার চলেও গেছে।কারনটা বুঝতে পারছি না।স্কুলে প্রায়ই মারামারি হয়;সেই মারামারির কারন থাকে কিন্তু আজকের মারামারির কোন কারন নেই-আমরা ছাত্ররা অন্তত সেই কারন খুজে পাচ্ছি না।অনেক কথার পর স্যার জিজ্ঞেস করলেন,"ঐ ছেলেগুলো এতো সাহস কোথায় পেল,কেন  তোমাদের সাথে মারামারি করলো,কার জন্য মারামারি করলো,Who is she?" মার খেয়েও সেদিন আমাদের হাসি কেউ থামাতে পারেনি। স্যার বিষয়টা আগে থেকেই জানতেন বলে "কে...