পোস্টগুলি

আগস্ট, ২০১৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

দুঃখিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

নুরুল মোমেন স্যারকে মনে আছে নিশ্চই? জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান? আমার সহপাঠীরা অন্তত তাকে ভুলে যাবে না, তা সে যতবড় এলঝেইমারের রোগীই হোক না কেন! মানুষ মানুষকে মনে রাখে তার বিশেষ কিছু দোষ বা গুনের কারনে। নুরুল মোমেন স্যারের একটা গুন ছিল- পাগলামি! পৃথিবীতে যতজন মেধাবী জন্মগ্রহণ করেছে, তাদের সবাইকে আমরা সাধারনরা পাগল বলে ডাকি। কারন তাদের মেধা বুঝতে পারি না, তাই সংক্ষেপে পাগল বলে ডাকাটাই আমাদের কাছে সহজ। স্যার কী দ্বারা চালিত ছিল আমার জানা নেই; কেননা তাকে আমি কোনদিন রাগ করতে দেখিনি, এমনকি মন খারাপ করতেও দেখিনি। সদা সহাস্যমুখ স্যার আজকে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। স্যার যখন শেষবার ক্যাম্পাসে এসেছিলেন তখন তিনি বেশ অসুস্থ। তখনো তিনি আমাদের সমস্যা সমাধান করেছেন হাসি মুখে, আর তার গগন বিস্মৃত হাসি উপহার দিয়ে আমাদের বলেছেন, "বিষয়টা আমার মাথায় আছে, তোমরা মনোযোগ দিয়ে পড়াশুনা করো, কোন চিন্তা করো না।" সেই নুরুল মোমেন স্যারকেও আমি একদিন প্রচন্ড মন খারাপ করতে দেখেছি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যায়ে যারা পড়েছেন তারা জানেন আমাদের কোন হল নেই। আসলে হল আছে, কিন্তু সে...

বিদ্যা বিসর্জন

শিক্ষা ক্ষেত্রে কিছু সিস্টেম আছে যা বোকা বোকা কিন্তু তা বুঝতে পারার মতো মেধা আমার নেই। আবার বুঝতে পারলেও অনকে সময় করার কিছু না থাকায় গাধা হয়ে থাকতেই বেশি ভালো লাগে! বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমাকে একটা সার্টিফিকেট ধরিয়ে দিয়েছে, যা দেখিয়ে আমি এককাপ চা-ও পান করতে পারিনি! সম্মান পরিক্ষায় জয়ী হয়েও আমাকে বারবার প্রমান করতে হচ্ছে আমি পূর্বে সম্মানিত ছিলাম, জয়ী হয়েছিলাম। মোবাইলের মিনিট কেনার মতো করে সার্টিফিকেটের মেয়াদ বাড়ানোর মতো ঘটনা! বিশ্ববিদ্যালয় মানে বিশ্ব মানের কিছু। কিন্তু শিক্ষক নিবন্ধন পরিক্ষা দিয়া প্রমান পাইলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনার মান হাইস্কুলের চাইতে খারাপ! বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে হাইস্কুলের শিক্ষক উপযোগী করতে ব্যর্থ হয়েছে, যা আমাকে পরিক্ষা দিয়া বারবার প্রমান করতে হচ্ছে। এটাও প্রমান করতে হচ্ছে- আমি স্কুলের শিক্ষক হিসেবে অযোগ্য! অথচ আমি কিছু একটার যোগ্য হওয়ার জন্য পড়াশুনা শুরু করেছিলাম। কর্তৃপক্ষ আমাকে কিসের সার্টিফিকেট দিলো তা ভেবে পাচ্ছি না। তাই আমি আবার হাইস্কুলে ভর্তি হতে চাই, এটা জানার জন্য যে সার্টিফিকেট ছিঁড়ে ঝালমুড়ি খাওয়া যাবে কি-না! আরো একটা একটা...

কন্টাক্ট পেপার

হায়দার মিয়া প্রাইমারী স্কুলের গনিতের শিক্ষক। বয়স চল্লিশ পার হয় নাই বটে; তবে কর্ম তাকে পঞ্চাশ বছরের বৃদ্ধ উপাধি দিয়েছে। চুল দাড়ি একটাও কাচা নাই। সারা জীবন পরিশ্রম করে এখন সে ক্লান্ত। হায়দার মাস্টারের সংসারে অভাব দেখা দিয়েছে কদাচিৎ, প্রেসার দিয়েছে ঢের। কর্মযজ্ঞের দাঁড়িপাল্লা মানুষের উত্থানপতনের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে দেয়। সেই পাল্লায় কারো ভারী হয় প্রভাব, কারো ভারী হয় অভাব। সে অনুপাতে হায়দার মাস্টারের কর্মে প্রভাবের পাল্লা ভারীই বলা যায়। কর্মের পাল্লা ভারী হলে তাতে বাটখারাও বেশি লাগে। হায়দার মাস্টার এখন সেই বাটখারা নিয়ে বসেছেন। তিনি এখন নিজ বাড়িতে নিজের ছোট ভাইদের হিসাব নিয়ে মাথা হেট করে বসে আছেন। গ্রামের কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি একই প্রভাবের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বসে আছেন। সবাই হায়দার মাস্টারের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে; তিনি কী বলেন এই আশায়। মাস্টার সাহেব ছাড়া এই রকম গনিতের হিসাব গ্রামের মানুষের পক্ষে করা সম্ভব না। শত শত বছর ধরে চলে আসা এই হিসাব -যুক্তি তর্ক মানে না, প্রথাগত পদ্ধতিতে এই হিসাব নিষ্পত্তি করতে হয় -এটাই নিয়ম। কিন্তু হায়দার মাস্টার অতীত ছেড়ে বাস্তবে আসতে পারছেন না। কিছুদিন আগেও...