পোস্টগুলি

জানুয়ারি, ২০১৭ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

বসন্ত

ন্যাড়া শিমুল আম্র কানন, তপ্ত বালু স্নিগ্ধ গগন। বাশের চিকন হলদে পাতায়, ধুলোয় ভরা পথের ছাতায়। বাঁশঝাড়ের পাতার ফাকে, শুকনো ডালে পিকের ডাকে। কচি পাতার দিগন্ত, এসে গেছে বসন্ত।

নক্ষত্র

একঃ রাত আর দিনের মধ্যে পার্থক্য কী? আমি তো এক সূর্য ছাড়া আর কোন কিছুর পার্থক্য দিন আর রাতের মধ্যে দেখি না।রাতে সবই তো দিনের মতোই থাকে,তারপরেও মানুষ রাতে ভয় পায় কেন? একটা মাত্র জিনিসের অভাব পুরো দুনিয়ার চেহারাটাই পাল্টে দেয় তাই না! ভেবে অবাক হতে হয়। রাতের চাঁদ কত উপকথার জন্ম দিয়েছে তার হিসাব নাই।অথচ সূর্য চাদের চাইতে কত বেশি উপকার করেছে দুনিয়ার-কে রাখে তার খবর।না চাইতে যা পাওয়া যায় তার কদর খুব কম লোকেই করে, যদিও তার মূল্য কোন কিছু দ্বারাই করা কারো পক্ষেই সম্ভবপর হয় নাই। রাত একটা অদ্ভুত সৃষ্টি।সব শ্রেনীর মানুষের জন্য রাত একটি নিদর্শন।সাধারণ মানুষের জন্য আরামের নিদর্শন,প্রেত সাধকের জন্য সাধনার নিদর্শন,চোরের জন্য সুযোগের নিদর্শন, এবাদতকারীর জন্য স্রষ্টার কাছাকাছি পৌঁছানোর নিদর্শন।এতো নিদর্শন থাকা সত্যেও সূর্য যখন উদিত হয় তখন সব নিদর্শন বাস্তবতার ছোয়া পেতে উদগ্রীব হয়ে পরে। দিন মানুষের স্বপ্ন পূরণ করে কিন্তু রাত যে স্বপ্ন দেখায় তা কেউ বলে না। দিন আশার প্রতিক আর রাত আশা জাগানোর প্রতিক।দিন যাদের কাছে নিরাশার প্রতিক তারা রাতে অন্তত ঘুমের ঘোরে কিছু পাওয়ার চেষ্টা করে,কিন্তু যারা সবল? ...

রক্তাক্ত ডায়রি

একঃ ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি আমার দাদী মানুষজনকে ঝাড়ফুঁক করতেন।তিনি পেশায় কবিরাজ না-হলেও মানুষজন তার কাছে আসতো দোয়া চাইতে। দাদীও সবাইকে দোয়া পড়ে ফুঁ দিতেন। আমি বেশ কিছু মানুষকে চিনি যারা ডাক্তারি বিদ্যায় পুরোপুরি ব্যর্থ হয়ে দাদীর শরণাপন্ন হয়েছিল।দাদীর "চিকিৎসায়" তারা আমৃত্যু ঐ রোগে ভোগেননি! আশ্চর্য কথা হচ্ছে দাদী কোরআন পড়তে জানতো না এমনকি বাংলাও পড়তে জানতো না! আমার মা তাকে অসংখ্য বার জিজ্ঞেস করেছে "আপনি কোন সূরা পড়ে নামাজ পড়েন?" দাদী কোন উত্তর দিতেন না,চুপ করে থাকতেন অথবা পাশ কাটিয়ে যেতেন। আমার দাদী কিছু না জানলেও উনি ছিলেন একজন সৎ মহিলা,কারো অনিষ্ট করা তার ধাতে ছিল না।হয়তো উনার সততাই ছিল "চিকিৎসা পদ্ধতি।" আসলে আগের যুগটাই ছিল আলাদা। দাদীর একটা ছোট্ট ঘর ছিল; ঘর না বলে বরং ঘরের মধ্যে খুপরি বলা ভালো।কেননা ঐ ঘরটা ছিল ঘরের ভেতরে বাশের চাটাই ঘেরা ছোট্ট একখন্ড খুপরি।খুপরির  ভিতর ছিল একটা লাল কাপড়ে ঢাকা টুল; যাকে দাদী আসন বলতো।আসনে থাকতো কিছু আগরবাতি কয়েকটা মোমবাতি আর কিছু পাচ দশ বা পঁচিশ পয়সার মুদ্রা।আমার কাজ ছিল এই মুদ্রা গুলো হিসাব করা আর মাঝেমধ্যে আসন...