কৃত্তিম সংকট

প্রথম খন্ডঃ

মৌর্য,গুপ্ত আর পাল আমলের কথা শোনেনি এমন শিক্ষিত মানুষের দেখা বাংলাদেশে মনে হয় পাওয়া যাবে'না।মৌর্য,গুপ্ত আর পালদের সুনামের কথা যেমন মানুষ শুনেছে,তেমনি শুনেছে অত্যাচার আর কুকীর্তির কথাও।খাজনা দিতে না পারলে প্রজার কী অবস্থা হতো;তা অনেকেই গল্প নাটকে দেখেছেন অথবা ইতিহাস বইতে পড়েছেন।

কিছু কিম্ভুত আইন ছিল সে সময়।
যেমনঃপ্রজাদের কেউ রাজার সামনে বা রাজবাড়ীর আশেপাশে জুতো পায়ে হাটতে পারতো'না,জুতো পায়ে হাটা ছিল ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।

জাতীয় চেতনা বলতে তখন কিছু ছিল'না,সবই ছিল ব্যক্তিকেন্দ্রিক।জোড় যার মুল্লুক তার-অনেকটা এই রকম।যার ফলশ্রুতিতে সম্পদের মালিকানা ছিল হাতে গোনা কয়েকজনের হাতে।ফলাফল;একদিকে বিপুল পরিমান ঐশ্বর্য আর অপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্ষমতা, অন্যদিকে আধমরা প্রজা।

এতো প্রতাপশালী,ক্ষমতাধর রাজারা কিন্তু শুধু প্রতাপ আর ক্ষমতার জোরে টিকে থাকেনি,তারা টিকে থেকেছে তাদের কিছু "পলিসির" কারনে।
এই "পলিসির" অন্যতম একটা ছিল শিক্ষাব্যবস্থা।

তখনকার পাঠশালা ছিল শুধুমাত্র রাজা আর মন্ত্রীসভার ছেলেদের জন্য সীমাবদ্ধ,প্রজাদের জন্য তা ছিল সম্পূর্ণ  নিষিদ্ধ।
এর অন্যতম কারন ছিল প্রজাদের জোর করে অশিক্ষিত রাখা,যাতে তারা কখনোই রাজার "পলিসি" ধরতে না পারে।ধরতে পারার মত জ্ঞান অর্জন করতে পারলে রাজারা এতো দীর্ঘদিন শাসন করতে পারতো'না।ইতিহাস ঘেটে একটা জিনিস বারবার চাক্ষুস করেছি আর তা হলো বীর যোদ্ধারা হয় যুদ্ধ ক্ষত্রে জীবন দিয়েছে অথবা দূর্বল কুট কৌশলী কোন রাজার কারনে নিজের দেশেই ফাসিতে ঝুলেছে।এটা হয়েছে রাজাদের "জ্ঞান" অর্জনের কারনে,যা প্রজা বা বীরেরা অর্জন করতে পারেনি ঘুরিয়ে বললে অর্জন করতে দেয়া হয়নি।রাজারা এই বিষয়টা খুব ভাল করে জানতেন।

দ্বিতীয় খন্ডঃ

আমার এক বড় ভাই(নাম বলতে চাই'না) কিছুদিন আগে একটা ইন্টারভিউ কার্ড পেয়েছিল।ওটা ছিল দুর্নীতি দমন কমিশনের ভাইবা কার্ড।এই মন্দার বাজারে এটা অতি আনন্দের বিষয় যে অন্তত চাকরীর জন্য কেউ ডাক দিয়েছে,কিন্তু ভাই ভাইবা দিতে যায়'নি!
কেন?
কারন সে লিখিত পরিক্ষা না দিয়েই ভাইবা কার্ড পেয়েছিল!এটা ভয় পাওয়ার মত বিষয় বটে।হয়তো "সাহসী বীরেরা" সেই চাকরী করছে।তারা পলিসি জানে ও বোঝে।

প্রত্যেক দেশেই মাঝে মাঝে কৃত্তিম সংকট আসে,সেই সংকট রোধ করে শিক্ষা নামক এক শক্তি।
আমাদের কী আছে ভবিষ্যৎ বিপর্যয় বুঝতে পারার মতো সেই অকৃত্তিম মেধা?বিপর্যয় মোকাবেলা তো পরের অধ্যায়!

শেষ কথাঃ
মূর্খ যদি জ্ঞানের বাহক হয় তবে জোর যার মুল্লুক তার কথাটা সত্যি।প্রাচীন রাজারা এটা প্রমান করেছিল শিক্ষাকে রাজপ্রাসাদে সীমাবদ্ধ রেখে।
তাই বলে কী নদীর স্রোত কখনো আটকে রাখা গিয়েছিল?নদীর স্রোত আটকে রাখা যায় না বড়জোর একটু ঘুরিয়ে দেয়া যায়!


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

উচিৎ শিক্ষা

দর্শনঃমোল্লা নাসিরুদ্দিনের ফুঁ

বাঘা বাতাস