পোস্টগুলি

2016 থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

ভয়!

প্রথম খন্ডঃ ভয় একটা রোগ,রোগের সঠিক চিকিৎসা করাতে হয়।তা না হলে রোগ বাড়ে। রোগ বাড়তে দিলে তা ক্যান্সারে পরিণত হতে পারে।ভয়ে কারো ক্যন্সার হয়না ঠিকই তবে প্রচণ্ড ভয় পেলে মানুষ মারা যায়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ভয় নামক জিনিসটার কোন স্বাভাবিক চিকিৎসা আমাদের দেশে হয় না।একজন মনোবিদ্যা চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার চাইতে আমাদের দেশের মানুষ কবিরাজের কাছে যেতেই বেশি স্বচ্ছন্দবোধ করে।এতে টাকাও কম লাগে আবার অনেকের নাকি কাজও হয়! আমি এসব কবিরাজি বিশ্বাস করি না,তবে এতে আমার আগ্রহ আছে!কবিরাজরা কি করে,কিভাবে করে;এসব দেখে আমি বেশ মজা পাই। একদিন ঘটনাক্রমে আমাদের বাড়িতেই কবিরাজের আগমন ঘটলো।অসুস্থ আমার মা।তার মাথা ব্যথা;প্রচণ্ড ব্যথা।ব্যথা শুরু হলেই মা কীসব যেন দেখে আর ভয়ে কুকড়ে যায়।ডাক্তার দেখাতে দেখাতে মা বিরক্ত হয়ে গেছে।পছন্দ না হলেও মাকে সান্তনা দেওয়ার জন্য কবিরাজ আমি নিজেই ডেকে এনেছি।এতে যদি মা-র মানসিক প্রশান্তি হয় তবে আমার আর সমস্যা কোথায়! কবিরাজ সম্পর্কে আমার দূরসম্পর্কের দাদা হয়। দাদার বয়স কত হবে তা আন্দাজ করা বেশ মুশকিল।তবে নব্বইয়ের কম কোনক্রমেই হবে না।গালের চামড়া কোঁচকানো,গায়ের রঙ অদ্ভুত কালো।অদ্ভুত কা...

মশা

বাশখালী গ্রামের আছিম নিয়া বিমর্ষ মুখে উঠানের মাঝখানে চেয়ার পেতে বসে আছেন। তার কান্না পাচ্ছে না তবে বেশ রাগ হচ্ছে। রাগের মাত্রা থার্মোমিটারে একশ সাত। আছিম মিয়া আর যাইহোক খারাপ মানুষ অন্তত নন। তিনি সহজ সরল মানুষ। কিন্তু রেগে গেলে তার সাতাশি কেজির দেহটি কেপে ওঠে থর থর করে! আজ তারই পুনরাবৃত্তি ঘটছে বারবার। সাঙ্গপাঙ্গরা ভয়ের চোটে মুখে আঙ্গুল দিয়ে তারই পিছনে চুপ করে তারকাটার মতো সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সবার খাবার- দাবার বন্ধ গত রাত থেকে। যে কেউ দেখলে বলবে প্রাইমারী স্কুলের গনিতের শিক্ষক ছাত্রদের শাস্তি দিচ্ছেন।  আছিম মিয়া ভাবনারই কূলকিনারা খুজে পাচ্ছেন না, সমাধান পাবে কী? তিনি শুধু একটা কথাই ঘুরেফিরে ভাবছেন; এতো জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত কেউ নির্বাচনে ফেল করেছে কি না! হ্যা, এটাই তার আনলিমিটেড রাগের কারন। তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচনে ফেল করেছেন- বিশাল ব্যবধানে। কানে একটু কম শুনলেও আছিম মিয়া চোখে দেখেন ঠিকমতো। তিনি নিজ চোখে দেখেছেন জনসভার লোকজন। যে পরিমান লোকের হাততালি তিনি পেয়েছেন তা আজ পর্যন্ত এই ইউনিয়নে কোন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী পায়নি। কথায় কথায় হাততালি, দম ফেলার আগেই হাততালি...

মাছের বাজার

একঃ মেসে থাকার একটা কষ্ট আছে; ক্লাস করতে হয়, পড়তে হয়, কাপড় কাচতে হয়, বাজার করতে হয়, মাঝেমধ্যে রান্না করে খেতে হয়। আবার আছে রুমের অন্যান্য সদস্যদের মন মতো বাজার করার রেওয়াজ। বেশি দামে কেনা যাবে না, বেশি পরিমানে কেনা যাবে না, বাজারের সেরাটা কিনতে হবে- ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি রান্না করা শিখেছি মেসে। বুয়া না থাকলে রান্না করতে হয়, প্রথম প্রথম ভালো হত না, এখন হয়। একজন তো মেসে রান্না শিখেই বিরাট বাবুর্চি বনে গেছে! এলাকায় তার বেশ নাম ডাক। যাক সেসব কথা, বাজার করতে এসেছি আগে বাজার করি। বেশকিছু দিন যাবত বাজার চড়া। বারবার দাম নির্ধারন করা সত্ত্বেও বাজার নিয়ন্ত্রনে আসছে না। বাজার পরিদর্শকদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। মানুষ যদি শোনে নদীর মাছ, তাহলে আর কিছু করতে হবে না,ক্রেতারাই মাছের দাম কয়েকগুণ বৃদ্ধি করে দেয়। আজকে অবশ্য নদীর মাছ আসেনি, কিন্তু তারপরেও আজ মাছের গায়ে আগুন, হাত দিলেই ফোস্কা নিশ্চিত! পুরান ঢাকার মাছের বাজারগুলো সাধারণত খুব নোংরা আর দুর্গন্ধযুক্ত। যায়গায় যায়গায় গোড়ালি সমান কাদা পানি। সেই পানিতে মাছ সাতার কাটে না, সাতার কাটে মানুষ! একজন বৃদ্ধকে দেখলাম পায়জামা হাটু পর্যন্ত গুটিয়ে একটা রুই ...

দুই পৃষ্ঠা

জীবনে বহুবার দেশপ্রেম রচনা পড়েছি, লিখেছি কয়েকবার। এতো এতো পড়েও যে জিনিসটি অনুধাবন করতে পারিনি- তার নাম দেশপ্রেম। দ্বিতীয় পৃষ্ঠাঃ গফুর মিয়া আমার প্রতিবেশী, সম্পর্কে দাদা। বেশ কিছুদিন যাবৎ সে অসুস্থ। কী অসুখ জানিনা, ডাক্তারের মতে উনার পাকস্থলীতে বেশ বড়সড় একটা সমস্যা হয়েছে। অপারেশন না করালে উনি বেশিদিন বাচবেন না। অপারেশন করালেই যে বেচে যাবেন ;তারও কোন নিশ্চয়তা নেই, এই বয়সে অপারেশনের ধকল সহ্য করতে পারবে কি-না, সেটাও একটা প্রশ্ন। অপারেশন মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালেই করা যাবে; কিন্তু সমস্যা আরো একটা আছে, খরচটা সাধ্যের বাইরে, অন্তত গফুর মিয়ার পরিবারের সাধ্যের বাইরে। টাকা একটা সমস্যা, এটা জানার পরেও সবাই চায় তার আত্মীয় বেচে থাক। সবাই মিলে শেষ চেষ্টা করে, তা সে যতো কষ্টই হোক আর যতো খরুচেই হোক। গফুর দাদার বউ সমাজের বিত্তবানদের কাছে হাত পেতেছে, যথাসাধ্য সাহায্য করেছে তারা। মানুষ সবসময় যথাসাধ্যই সাহায্য করে, কিন্তু সেটা কার যথাযথ আমি জানতে পারিনি। গফুর মিয়ার পরিবারের কেউ এখন পর্যন্ত  প্রকাশ্যে সাহায্য চায়নি। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিলাম এই বিষয়ে তার বউ মানে দাদীর সাথে...

দুঃখিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

নুরুল মোমেন স্যারকে মনে আছে নিশ্চই? জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান? আমার সহপাঠীরা অন্তত তাকে ভুলে যাবে না, তা সে যতবড় এলঝেইমারের রোগীই হোক না কেন! মানুষ মানুষকে মনে রাখে তার বিশেষ কিছু দোষ বা গুনের কারনে। নুরুল মোমেন স্যারের একটা গুন ছিল- পাগলামি! পৃথিবীতে যতজন মেধাবী জন্মগ্রহণ করেছে, তাদের সবাইকে আমরা সাধারনরা পাগল বলে ডাকি। কারন তাদের মেধা বুঝতে পারি না, তাই সংক্ষেপে পাগল বলে ডাকাটাই আমাদের কাছে সহজ। স্যার কী দ্বারা চালিত ছিল আমার জানা নেই; কেননা তাকে আমি কোনদিন রাগ করতে দেখিনি, এমনকি মন খারাপ করতেও দেখিনি। সদা সহাস্যমুখ স্যার আজকে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। স্যার যখন শেষবার ক্যাম্পাসে এসেছিলেন তখন তিনি বেশ অসুস্থ। তখনো তিনি আমাদের সমস্যা সমাধান করেছেন হাসি মুখে, আর তার গগন বিস্মৃত হাসি উপহার দিয়ে আমাদের বলেছেন, "বিষয়টা আমার মাথায় আছে, তোমরা মনোযোগ দিয়ে পড়াশুনা করো, কোন চিন্তা করো না।" সেই নুরুল মোমেন স্যারকেও আমি একদিন প্রচন্ড মন খারাপ করতে দেখেছি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যায়ে যারা পড়েছেন তারা জানেন আমাদের কোন হল নেই। আসলে হল আছে, কিন্তু সে...

বিদ্যা বিসর্জন

শিক্ষা ক্ষেত্রে কিছু সিস্টেম আছে যা বোকা বোকা কিন্তু তা বুঝতে পারার মতো মেধা আমার নেই। আবার বুঝতে পারলেও অনকে সময় করার কিছু না থাকায় গাধা হয়ে থাকতেই বেশি ভালো লাগে! বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমাকে একটা সার্টিফিকেট ধরিয়ে দিয়েছে, যা দেখিয়ে আমি এককাপ চা-ও পান করতে পারিনি! সম্মান পরিক্ষায় জয়ী হয়েও আমাকে বারবার প্রমান করতে হচ্ছে আমি পূর্বে সম্মানিত ছিলাম, জয়ী হয়েছিলাম। মোবাইলের মিনিট কেনার মতো করে সার্টিফিকেটের মেয়াদ বাড়ানোর মতো ঘটনা! বিশ্ববিদ্যালয় মানে বিশ্ব মানের কিছু। কিন্তু শিক্ষক নিবন্ধন পরিক্ষা দিয়া প্রমান পাইলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনার মান হাইস্কুলের চাইতে খারাপ! বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে হাইস্কুলের শিক্ষক উপযোগী করতে ব্যর্থ হয়েছে, যা আমাকে পরিক্ষা দিয়া বারবার প্রমান করতে হচ্ছে। এটাও প্রমান করতে হচ্ছে- আমি স্কুলের শিক্ষক হিসেবে অযোগ্য! অথচ আমি কিছু একটার যোগ্য হওয়ার জন্য পড়াশুনা শুরু করেছিলাম। কর্তৃপক্ষ আমাকে কিসের সার্টিফিকেট দিলো তা ভেবে পাচ্ছি না। তাই আমি আবার হাইস্কুলে ভর্তি হতে চাই, এটা জানার জন্য যে সার্টিফিকেট ছিঁড়ে ঝালমুড়ি খাওয়া যাবে কি-না! আরো একটা একটা...

কন্টাক্ট পেপার

হায়দার মিয়া প্রাইমারী স্কুলের গনিতের শিক্ষক। বয়স চল্লিশ পার হয় নাই বটে; তবে কর্ম তাকে পঞ্চাশ বছরের বৃদ্ধ উপাধি দিয়েছে। চুল দাড়ি একটাও কাচা নাই। সারা জীবন পরিশ্রম করে এখন সে ক্লান্ত। হায়দার মাস্টারের সংসারে অভাব দেখা দিয়েছে কদাচিৎ, প্রেসার দিয়েছে ঢের। কর্মযজ্ঞের দাঁড়িপাল্লা মানুষের উত্থানপতনের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে দেয়। সেই পাল্লায় কারো ভারী হয় প্রভাব, কারো ভারী হয় অভাব। সে অনুপাতে হায়দার মাস্টারের কর্মে প্রভাবের পাল্লা ভারীই বলা যায়। কর্মের পাল্লা ভারী হলে তাতে বাটখারাও বেশি লাগে। হায়দার মাস্টার এখন সেই বাটখারা নিয়ে বসেছেন। তিনি এখন নিজ বাড়িতে নিজের ছোট ভাইদের হিসাব নিয়ে মাথা হেট করে বসে আছেন। গ্রামের কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি একই প্রভাবের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বসে আছেন। সবাই হায়দার মাস্টারের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে; তিনি কী বলেন এই আশায়। মাস্টার সাহেব ছাড়া এই রকম গনিতের হিসাব গ্রামের মানুষের পক্ষে করা সম্ভব না। শত শত বছর ধরে চলে আসা এই হিসাব -যুক্তি তর্ক মানে না, প্রথাগত পদ্ধতিতে এই হিসাব নিষ্পত্তি করতে হয় -এটাই নিয়ম। কিন্তু হায়দার মাস্টার অতীত ছেড়ে বাস্তবে আসতে পারছেন না। কিছুদিন আগেও...

অসমাপ্ত গল্প

মানুষের জীবন একটা টস কয়েনের মতো। যার একপাশে আছে স্বপ্ন; আরেক পাশে আছে কঠিন বাস্তবতা। কয়েন যখন যেদিকে উল্টে পড়ে সেদিকের ভাগ্য মুখ থুবড়ে পড়ে।  তারপরও মানুষ সুখের সন্ধান করে। হয়তো সবাই সেই সুখ খুজে পায় না। তবুও খুজে বেড়ায় আজীবন...............। মানুষ সারা জীবনে যত সুখ স্বপ্ন দেখে;  তা দেখেই চুপ করে বসে থাকে না; বাস্তবের কাছাকাছি তাকে নিয়ে আসার চেষ্টা করে। কিন্তু দুঃস্বপ্ন সারা জীবনে একবার দেখাই যথেষ্ট। দুঃস্বপ্ন কেউ বাস্তবায়ন করতে চায় না -হয়ে যায়। দুঃস্বপ্নকে জীবনের কাছাকাছি আনতে হয় না, দুঃস্বপ্ন জীবনের কাছাকাছিই থাকে। আমার বন্ধু সবুজ, পাশের গ্রাম মুন্সিনগরের ছেলে। ভদ্রতায় ওর সুখ্যাতি দশ দিক আলো করে রেখেছিল। আমরা যখন স্কুলে পড়তাম তখন একসাথে ঘুরে বেড়াতাম, স্কুল পালিয়ে ক্রিকেট খেলতাম। সারাদিন হৈ-হুল্লোর করতাম, বর্ষার ভরা নদী বা থৈথৈ করা বিলের পানিতে কলা গাছের ভেলা ভাসাতাম। মুগ্ধ হয়ে দেখতাম ঘুন্টি জালে মাছ ধরা।  আরো কতো কিছু করেছি আমরা দুজন, এখন আর অতো কিছু মনে নেই। সময়ের সাথে সাথে খেরো খাতার মত ঝাপসা হয়ে গেছে সেসব স্মৃতি। এখন মোবাইল যতটা সহজলভ্য, মাত্র দশ বছ...

ফুলস্টপ

একঃ শতভাগ সত্য বলে কিছু নেই।নিরানব্বই ভাগ সত্যও এক প্রকার মিথ্যাচার।সত্যের সাথে পারসেন্ট লাগানো মানে সত্যের গায়ে মুখোশ পড়িয়ে দেয়া। শক্ত করে সমাজের মুখে এটে বসা সেই মুখোশ আমি খুলতে পারবো না। তাই আজ একটা সত্য ঘটনা লিখতে বসেছি।এই সত্য পৃথিবী পালটে দেয়ার মতো কিছু না,আমার জীবনের ছোট্ট একটা ঘটনা মাত্র।ঘটনার আয়তন ফুলস্টপের সমান। যে সময়ের কথা বলছি তখন আমি ক্লাস সিক্সে পড়ি। ইংরেজি পরিক্ষা হচ্ছে আমার কিন্তু কিছু লিখতে পারছি না।সারা বছর কি পড়েছি তাও ভুলে গেছি।যে ধরনের প্রশ্ন এসেছে; জীবনে শুনেছি বলেও মনে হচ্ছে না। স্যার কড়া চোখে দেখছেন আমাদের।মাঝেমাঝে জিজ্ঞেস করছেন কাগজ লাগবে কি-না। কাগজ দিয়ে কি করবো?যে কাগজ আছে তাই তো শেষ করতে দফারফা হয়ে যাবে।শেষে না বেচে যাওয়া কাগজ ছিঁড়ে ঝালমুড়ি খেতে হয়! আমি বারবার পৃষ্ঠা উলটপালট করছি; আর যাও একটু  লিখেছি ঘুরেফিরে সে-গুলোর উপর দিয়েই কলম ঘষছি।খুব লিখছি- এরকম একটা ভাব নিয়ে বাক্যের শেষে দেয়া ফুলস্টপ গুলোকেই আকারে বড় করছি।হঠাৎ আবিষ্কার করলাম নকল করতে যোগ্যতা লাগে,কিন্তু সেই যোগ্যতা আমার নেই! কোনরকমে লেখা শেষ করে খাতা জমা দিলাম।আমি নিজে যদি শিক্ষক হয়ে...

পাইলট অর্থ বিড়ি!

একঃ আমার ছোট ভাই লিটন,ক্লাস সিক্সে পড়ে।ওর চলাচলের জন্য রাস্তা বা দরজা কোনটাই দরকার হয় না!চটপটানিতে এতোটাই গতিশীল যে;ওর গতির চোটে আমাদের বাড়ির ইঁদুর পর্যন্ত ভেগেছে!  এজন্য ওর নামের শেষে বিশেষণ বসেছে অনেক।কেউ বলে বিটল,কেউ বলে তারকাটা,কেউ বলে হুলো! একটা উদাহরণ দিচ্ছিঃ একবার আমি আমার স্যারের সাথে কথা বলছি,"স্যার আমার যেন কী হয়েছে, maybe I am in love." লিটন আমার সাথে ছিল।তখন চুপ করেছিল,বিকেল থেকে শুরু হলো ওর প্রশ্নবাণ। লিটনঃকে "কী,কিসের কে?" লিটনঃমেয়েটা কোথাকার?তোমার সাথে পড়ে নিশ্চই? "কোন মেয়ে?" লিটনঃতুমি যার প্রেমে পড়েছ। "আমি আবার কার প্রেমে পড়লাম!" লিটনঃওই যে বললে,I am in love. আমি অবাক হইনি,বিস্ফোরিত হয়েছি!ও সারা জীবনেও ইংরেজি রিডিং পড়তে পারেনি,অথচ ইংরেজির অর্থ বুঝেছে! আমি বোকার মতন হাসছি,আমার সাথে সাথে লিটনও হাসছে।এখন আমি ওর সাথে দেখা হলেই হাসি,লিটনও ভুরু নাচায় আর হাসে।হেহ হেহ হেহ হেহ! ওকে বোকা বানাতে হবে,কিন্তু কীভাবে?আমি নিশ্চিত ওর সাথে অন্তত বুদ্ধিতে পারবো না।ও পড়াশোনাতে গোবরগণেশ-এইটাই আমার একমাত্র আশা।এখন দেখা য...

অজাত কচু

প্রথম খন্ডঃ কিছুদিন যাবত আমি অসুস্থ।ডাক্তারের কাছে এসেছি-হোমিও ডাক্তার।সম্পর্কে তিনি আমার মামা হন।ডাক্তার হিসেবে যেমন তার সুখ্যাতি আছে তেমনি পাগলামির জন্যও সুখ্যাতি আছে। পাগল লোকেরা সাধারণত জ্ঞানের ভাণ্ডার হয়।তার জ্ঞানের ভান্ডারের একটা উদাহরণ দিচ্ছিঃ একবার মামার উপর একটা কাজের দোষ চাপাতে না পেরে বলেছিলাম,"মামা এক হাতে কিন্তু তালি বাজে না।" মামা বলেছিল," একহাতে তালি বাজে না-কথাটা ঠিক না,খারাপ লোক একহাতেও তালি বাজাতে পারে।সেই আওয়াজ হয়তো কেউ শুনতে পায় না।তার থেকেও বড় কথা হচ্ছে এক হাতে তুড়ি বাজে,যা হাত তালির থেকেও খারাপ অর্থ বহন করে!" সেদিন থেকে আমি মামার বিরাট ভক্ত।আজকে অবশ্য ভক্তি দেখাতে আসিনি;এসেছি ঔষধের জন্য। আমি বললাম,"মামা,আমার প্রচন্ড ঠান্ডা লেগেছে,নাক দিয়ে রক্তও ঝরছে।" মামা হোমিওপ্যাথির উপর লেখা একটা বই পড়ছেন।তিনি আমার দিকে না তাকিয়েই জিজ্ঞেস করলেন,"এখনো রক্ত ঝরছে?" আমি বললাম,"না,তবে খুব দুর্বল লাগছে।" মামাঃচলে যা। "কোথায় যাবো?" "বাড়ী চলে যা।" "দেখবেন না?" "না।" ...

বেকার

প্রথম খন্ডঃ টিউশানির আরেক নাম যন্ত্রণা!পড়াও,লেখাও,নিজে লিখে দাও,মাঝে মধ্যে ফর্ম ফিলাপ করে দাও,কিছু সময় নিজেই নিজের চুল ছিঁড়ে ফেলো- ইত্যাদি ইত্যাদি।আমার চুল ছেঁড়ার ঝামেলা নেই,শুধ- পড়াই।দুই একটা নোট করে দেই মাঝেমধ্যে-এইতো। আজ একটি রচনা লিখে দিতে হবে।বিষয়ঃ বেকারত্ব। কী লিখবো বুঝতে পারছি না,বেশ অস্বস্তি লাগছে।কারন আমি নিজেই বেকার।বই পুস্তকে যেভাবেই লেখা থাক না কেন;যে বেকার সে নিজেও খাতার পাতায় বেকারত্বের যন্ত্রণা ফুটিয়ে তুলতে পারবে না।তাই ছাত্রকে বললাম,”সিজান,আমি কাল লিখে দেবো,আজকে ভালো লাগছে না।”-কথাটা বলে বাইরে চলে এসেছি। বেকারত্বের কারনে কথাতো জীবনে কম শুনিনি,তাই বলে কী আর এগুলো খাতায় লেখা যাবে! আমি সুদ-ঘুষ খাবো না,-এ কথা কোন কলম লিখবে,কোন খাতা এ কথার ভার বইবে,কে-ই বা এ কথা স্মৃতিতে ধরে রাখবে? ভাগ্য নদীর স্রোত ঠেলে চলতে পারে।কিন্তু আমার ভাগ্য এই মুহূর্তে স্রোতের সাথেও চলতে পারছে না। আপনি কখনো লটারি জিতে টাকা পাননি এমন হয়েছে? আমার হয়েছে,আমি লটারি জিতেছি কিন্তু টাকা পাইনি! বেকার লোকের পদে পদে দোষ,লটারির টাকা পাইনি-এটাও না-কি আমার দোষ!একজন বলেছে,”লটারি ধরেছিস, ভালো ...

Times of twin earth

আগামীকাল সকালবেলা সূর্য পূর্বদিকে উঠবে।-এটা কী ভবিষ্যৎ? আমি হেটে যাচ্ছি; সামনের পদক্ষেপটি আমার ভবিষ্যৎ। তবে কী আমি ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছি? আগামী বা পূর্ব শব্দের মধ্যেই  কী ভবিষ্যৎ বা অতীত আবদ্ধ? অচেনা জগতঃ স্বপ্ন একটা জগত- অদ্ভুত জগত ।যেখানে শ্রবণ, দর্শন ও অনুভব থাকে। সেখানে  ব্যথা অনুভূত হয় না কিন্তু আনন্দ বা বেদনা অনুভূত হয়। মাত্র দুই মিনিটের একটা স্বপ্ন দেখতে আমাদের চার ঘন্টারও বেশি সময় লাগে। একই দুনিয়ায় একই সময়ে তিনটি ভিন্ন সময়। তিনটি বলছি কারন পৃথিবীর সময় চার ঘন্টা, ঐ একই হিসেবে স্বপ্নের জগত দুই মিনিট আর সত্যি বলতে সপ্নের জগতে কোন সময় নেই অর্থাৎ অসীম সময়! যেখানে অবাদ বিচরণ থাকা স্বত্বেও সবকিছু হয় অচেনা নয়তো আবছা। একই পৃথিবীতেই একই সময়ে “সময়” আপেক্ষিক। একটা উদাহরণঃ রহিম সাহেব ৫০ বা ৬০ বছর বয়সে মারা গেছেন। তার ৫০ বা ৬০ বছর বয়স আসলে কী? পৃথিবীর সময় আর আমাদের বন্ধু গ্রহ মঙ্গলের সময়ের সাথে কোন মিল নেই। শুধু তাই নয় পৃথিবীর সাথে অন্য কোন গ্রহের সময়েরও মিল নেই। সময় প্রয়োজনে সৃষ্ট। সূর্যই আসলে এক অর্থে সময় তৈরি করেছে বা আমদের দিয়ে করিয়েছে। সূর্যের...

কোরবানি?

প্রথম খন্ডঃ প্রত্যেক বছর ঈদ-উল-আজহার দিন কোরবানি করা আমাদের পরিবারের জন্য অলিখিত সংবিধান। বিষয়টা এমন হয়ে গেছে যে টাকা না থাকলেও কোরবানি করতে হবে। আমি ছোট বেলায় কোরবানির পশুর পিছুপিছু ঘুরঘুর করতাম। আমার কাজ ছিল ছবি তোলা। এখন ছবি তুলি না; কাজ করি। তবে কোরবানি এতো সহজ বিষয় না, বুঝেশুঝে কোরবানি করতে হয়। প্রত্যেকবার বাবা বা কাকা পাশে থাকে বলে কোরবানি দেয়ার নিয়মটা জানার দরকার হয়নি এতদিন। কিন্তু বাবা ও কাকা দুজনেই দেশের বাইরে থাকার কারনে দায়িত্ব এবার আমার নিজের কাধে। সুতরাং নিয়মকানুন ভালো করে জানতে হবে। আমার বন্ধু মসজিদের ইমাম, ওর নামও ইমাম। ইসলামী যে কোন জিজ্ঞাসার জন্য আমি ওর  কাছে আগে যাই, এবারও গেলাম। ওকে জিজ্ঞেস করলাম,” কোরবানি করবো, নিয়ম বলে দে। অর্থসহ সব কিছু বলবি। কোরবানি না হওয়ার কারনও বলবি।” ইমাম অনেক কথা বলেছে, তারমধ্যে কয়েকটা ওর ভাষাতেই বলছি; “একেবারে পরিশুদ্ধ নিয়ত করতে হবে, আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি ব্যতীত অন্য কোন কিছুর জন্য কোরবানি করা যাবে না। আছে প্রতিবেশী ও আত্মীয়ের হক আদায়ের ব্যাপার। এমন নিয়তও করা যাবে না যে ফ্রিজে রেখে সারাব...

আপেক্ষিক তত্ত্ব

বিজ্ঞানের বেশিরভাগ তত্ত্ব আখের ছোবড়ার মতো খটমটে, একেবারে অরুচিকর। কিন্তু ফলাফলটা দারুন! তত্ত্ব যতো কঠিনই হোক না কেন বুঝতে পারলে মজা পাওয়া যায়। একটা উদাহরনের সাহায্যে বিষয়টা ব্যাখ্যা করছি; যেমন ধরুন, একটি গাড়ি যদি ২০ কিলোমিটার বেগে চলে, আর চলন্ত বাস থেকে কেউ সামনের দিকে একটি বল ১০ কিলোমিটার বেগে ছুড়ে মারে, তবে বলের গতি কতো হবে? অনেকে বলবে ৩০ কিলোমিটার। তবে আসল কথা হচ্ছে বল না চাইতেই কিন্তু  বাসের বাড়তি গতি পেয়ে গেছে। বাসের গতি বলের নিজস্ব গতি নয়; সহায়ক গতি মাত্র। ফলে বলের নিজস্ব গতি হবে বল ছুড়ে মারার কেন্দ্র থেকে বাসের গতি বাদ দিয়ে বলের অর্জিত গতি, মানে ১০ কিলোমিটার। এ নিয়ে অনেক তর্ক আছে, তাই  আইনস্টাইন নিজেই বাংলাদেশে এসেছে আসল আপেক্ষিক তত্ত্ব বোঝাতে। আইনস্টাইন আসবেন অথচ বিশাল লোকসমাগম হবে না -এ হতেই পারে না। তাই সব ধরনের মানুষ তাকে দেখতে ও শুভেচ্ছা দিতে এসেছে। আইনস্টাইন প্লেন থেকে নামছেন। বিভিন্ন পেশার মানুষ চিন্তা করছে; বিজ্ঞানীঃবুঝি ভাই বুঝি, সবই বুঝি। ই-ইকুয়াল এম, সি স্কয়ার তো? বাংলাদেশে আসছেন- দুই দিন থাকেন, সদরঘাটের পানি খান। ই-ইকুয়াল এম, স...

চশমা

“আপনি কেন চশমা ব্যবহার করেন? কোন কিছু দেখতে; নাকি দেখা আটকাতে?” প্রথম খন্ডঃ আমার এক চাচা দোকানী, কমবয়সী। বয়স কতো হবে? বড়জোর তিরিশ। তিনি সাইকেলের পার্টস বিক্রি করেন। বয়স্ক এক লোক তার দোকানে এসেছে, পার্টস কিনতে না; একটা ঠিকানা দেখাতে। বৃদ্ধ লোকটি পড়তে জানে না। তাই চাচাকে দেখিয়ে বলল,”বাবাজী দেখেনতো এই এলাকাটা কোন দিকে?”-বলে হাতের ছোট্ট কাগজখণ্ডটি বাড়িয়ে দিলেন। আমার চাচা হটাৎ করেই ব্যস্ত হয়ে গেলেন, কাজকর্ম বেড়ে গেলো খালি দোকানেই। কিছু সময় আতিপাতি করে টেবিলের ড্রয়ার খুজল। তারপর নিরাশ হয়ে মুরুব্বিকে বলল,”মুরুব্বি, আমি তো চশমা ছাড়া চোখে কম দেখি,আজ চশমা বাড়িতে রেখে এসেছি।” মুরুব্বি ও আচ্ছা বলে কাগজখণ্ডটি নিয়ে চলে গেলো। চাচা বড় করে নিশ্বাস ছাড়লেন। যে লোক জীবনে স্কুলে যায়নি; একটা চশমা তার মানইজ্জত বাচিয়ে দিয়েছে আজ। দ্বিতীয় খন্ডঃ গ্রামে ধর্মীয় সভার আয়োজন করা হয়েছে। আশপাশের এলাকা মাইকিং করা শেষ। রাস্তার মোড়ে মোড়ে যেমন পোস্টার লাগানো হয়েছে; তেমনি অনেকের বাড়ীতে গিয়েও কার্ড দেয়া হয়েছে। রেজাদের ছোট চাচা বিরাট বিত্ত-বৈভবের মালিক। তাই তার কাছে গ্রামবাসীর আশ...

পীর

একঃ পাবলিক সেন্টিমেন্ট খুব খারাপ জিনিস, গণপিটুনি হচ্ছে তার ফল। কিন্তু তারপরেও মানুষ ঝুঁকি নেয়- সত্য উৎঘাটন করে। রাজধানী ঢাকার গুলিস্তান; বাটপারির জন্য সুবিখ্যাত। এখানে সরাসরি বাটপার যেমন পাওয়া যায়, তেমনি মুখোশধারী বাটপারও পাওয়া যায়। সরাসরি বাটপারেরা মুখ লুকায় না, যা করে সামনাসামনি করে। আমার এক চাচার কাছে একজন মুখোশধারী বাটপারের সন্ধান পেয়েছি। যিনি নিজে পীড় সাহেব, আবার খুব বিখ্যাত এক মাজারের খাদেম। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে গুলিস্তান এলাকা আমি ভালভাবে চিনি, তাই আস্তানা খুজে পেতে সমস্যা হয়নি। আস্তানার নাম বাবা সাহেবের দরগাহ। (আসল নাম না)। খুজে তো পেয়েছি কিন্তু তার যেসব ভক্ত কাস্টমারের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে তাদের সামনে যদি বলি; "বাবা ভাঁওতাবাজ"- নির্ঘাত গণপিটুনি খেতে হবে। তারমানে তার ভাঁওতা  প্রমান করা আমার পক্ষে সহজ হবে না।  তাই আগে তার সাথে সাক্ষাত করবো সিদ্ধান্ত নিলাম। আমার এক উঠতি সাংবাদিক বন্ধুকে সবকিছু বললাম। ও আগ্রহ দেখাল খুব। সাংবাদিকরা এইসব প্রতিবেদনের জন্য মুখিয়ে থাকে সবসময়। কিন্তু বিধি বাম, ক্যামেরা নিয়ে বাবার কাছে যাওয়া যাবে না। এ...

চোর

প্রথম খন্ডঃ চোর ধরা মুখের কথা না। আমাদের দেশে চোর চুরি করে পালাতে পারলেই আর কোন চিন্তা নেই। এটা লন্ডন বা নিউইয়র্ক না, যে সিসি ক্যামেরা বা অন্য কোন ট্রেইল ধরে চোরকে চিহ্নিত করবে। এদেশে চোর ধরার সব চাইতে জনপ্রিয় পদ্ধতি হচ্ছে, পরিচিত চোর বা সন্দেহজনক ব্যাক্তিকে আটক করা, তারপর ধোলাই দিয়ে আসল চোরের খবর বের করা। পুলিশ এই কাজে সিদ্ধহস্ত। সমস্যা হচ্ছে আমি পুলিশ না, এমনকি কোন সখের গোয়েন্দাও না। ব্লগ লিখি, কোন সাংবাদিকও না। একজন রহস্য প্রিয় মানুষ মাত্র। টাংগাইলের নাগরপুর থানার বেশ কিছু অংশ চর এলাকা। এসব চরাঞ্চলে চুরির চাইতে ডাকাতি হয় বেশি। তবে চোর বা ডাকাত যাই বলি না কেন, এরা কিন্তু ভয় নামক অনুভূতির সাথে পরিচিত না। আমি এসেছি নাগরপুরে, আমার মামার বাড়িতে। বর্ষাকাল, প্রায় সাত বছর পর বেড়াতে এসেছি, আসল উদ্দেশ্য নৌকা ভ্রমন। নৌকায় উঠেছি,  তবে ভ্রমনের খাতিরে না। মামা বাড়ি মানেই আনন্দ, কিন্তু সেই আনন্দ নিরানন্দ হতে সময় লাগলো না। হঠাৎ করেই একদিন মামার বাড়িতে  চুরি হয়ে গেলো। চোর ধরা যায়নি, একটুর জন্য পালিয়ে গেছে। ঐদিন রাতে আমি যে রকম ঘুমিয়েছি জীবনে কোন দিন এতো গভীর ঘুম ঘুমাইনি। এইটা ন...

হায়েনা

  আমার গ্রাম; খুব মিষ্টি একটা গ্রাম। ছায়াঘন কুটিরের সাথে এর তুলনা চলে। পুরো গ্রাম নদীর পাড় ঘেষে গড়ে উঠেছে, নদীর বাঁকে কাশফুল। দেখে বোঝার উপায় নেই সাজানো- গোছানো গ্রামটি হায়েনার অভয়ারণ্য! আমার গ্রামের হায়েনারা সিজনাল হায়েনা। কোরবানির ঈদ আর শালিসে এদের উদয় হয় সবচাইতে বেশি।   হায়েনা সব চাইতে বিখ্যাত অন্যের  শিকার চুরি করে খাওয়ার জন্য। শিকারিকে এক পাল হায়েনা বিরক্ত করে, অন্য পাল সেই ফাকে শিকার চুরি করে। প্রথম খন্ডঃ   আমার ফুপা আর ফুপুর মধ্যে তুমুল বিরোধ চলছে। বিরোধ এতোটাই গুরুতর যে গ্রামের মতব্বরেরা  সমাধান করতে পারছে না। বিচারে এক মাতব্বর এক পাল্লা ভারী করেন তো আরেক মাতব্বর অন্য পাল্লায় চেপে বসেন। মাসের পর মাস ধরে চলে বিচার, কিন্তু শেষ হয় না।   আসল সমস্যা তারা দুজনেই মালদার পার্টি। মালদার একজন হলে এক তুড়িতেই সমস্যা সমাধান করা যেতো, কিন্তু ভিলেজ পলিটিক্স এতো সোজা কথা নয়।   চেয়ারম্যান মিথ্যা সাক্ষী দেখতে দেখতে মাফ চাইতে বাধ্য হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত তারা দুজনেই গেছেন পুলিশের কাছে "বিচার" চাইতে। দ্বিতীয় খন্ডঃ   আমাদের...

কবিরাজ

স্যার পড়াচ্ছেন, "বিপরীত শব্দ" খারাপের বিপরীত ভালো, দিনের বিপরীত রাত, চন্দ্রের বিপরীত সূর্য, গ্রহের বিপরীত উপগ্রহ।" আমি বললাম,"স্যার, পৃথিবী একটা গ্রহ, আর চাঁদ তার উপগ্রহ। গ্রহের বিপরীত যদি উপগ্রহ হয়, তবে চাঁদের বিপরীত হওয়া উচিৎ ছিল পৃথিবী, কিন্তু হয়নি। চাঁদের বিপরীত হয়েছে সূর্য। কেন?" স্যারের উত্তর পাই'নি, উল্টো বকা খেয়েছি। কেন? আমি জানিনা ।মনে হয় কেউই জানে না। সেদিন থেকে মনে হয় স্যার একজন প্রফেশনাল কবিরাজ। শুধু প্রাইভেট প্রেসক্রিপশন দিতে জানে। ভুল ধরাও যাবেনা, করাও যাবেনা। তাহলে  সাইড-এফেক্ট শুরু হয়ে যাবে। তার থেকে বরং আরেক কবিরাজের কাছে যাই চলুন। ২০১৫ সালের শীতকালের ছোট্ট একটা ঘটনা বলছি; আমার পাশের বাড়ীর দাদী খুব অসুস্থ, ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে, সবাই বুঝতে পারছি অবস্থা বেগতিক, কিন্তু তার পরিবারের কেউই দাদীকে হাসপাতালে নিতে চাচ্ছেন না। তাদের টাকা আছে কিন্তু খরচ করবে না-এই জন্য না। কারন একজন কবিরাজকে খবর দেয়া হয়েছে, তিনি আসছেন। বলে রাখি, এই পরিবার কবিরাজ অনুরক্ত পরিবার, ঘরের চাবি হারিয়ে গেলেও তারা কবিরাজের কাছে যায়,চা...