সম্মান
"ভাইয়া সবাই মিলে এতো চাপাচাপি করছে তুমি রাজি হচ্ছো না কেন?"
মিনির কিছুটা বিরক্তি মেশানো গলায় প্রশ্ন।
" কিসের চাপাচাপি,কিসে রাজি হচ্ছি না?"না জানার ভান করে পাল্টা প্রশ্ন করলাম।
"আর কত বার বলতে হবে,তোমার বিয়ের কথা হচ্ছে,রাজি হচ্ছো না কেন?"
"কেন রাজি হচ্ছি না সেটা সবাই জানে,তারপরেও বারবার বলতে ভাল লাগছে না।যার বউ আছে সে কেন আবার বিয়ে করবে?"
"তোর বউয়ের তো বাচ্চা হবে না,এটা তো বিয়ের সময় কেউ বলেনি,এখনতো সবাই জেনে গেছি।ভালয় ভালয় বলছি এই বউ ছেড়ে দিয়ে আবার বিয়ে কর,নাতী নাতনী দেখে মরি।" মা'র রাগত স্বরে স্বগতোক্তি।
দীর্ঘ দিনের চেপে রাখা এই কথা মা কিভাবে জানতে পারলো ভেবে ঘেমে উঠলাম।হঠাৎ করে অস্বস্তির সাথে সাথে হৃদ স্পন্দনও অস্বাভাবিক বেড়ে গেল।দীর্ঘ সাত বছর গোপন করে রাখা কথাটাকে শেষ পর্যন্ত চেপে রাখতে পারলাম না।অহনা কখনো সন্তান জন্ম দিতে পারবে না-এটা আমি ছাড়া কেউ জানতো না,কিন্তু মা জানল কিভাবে!
কিছুই হয়নি এমন একটা ভান করলাম।চেপে রাখা উত্তেজনাকে আরো চেপে রেখে বললাম,"ছেড়ে দিতে চাইলেই কি অতো সহজে কাউকে ছেড়ে দেয়া যায়?তোমরাই তো ওকে পছন্দ করে নিয়ে এসেছিলে!আজকে তাহলে ছেড়ে দিতে বলছ কেন?"
"কেন বলছে তুমি জান ভাইয়া।" মিনির উত্তর।
"তাহলে এক কাজ করি,আরেকটা বিয়ে করে দুইজনকে একসাথে রেখে দেই।"বললাম আমি।
বলতে যা দেরি,মা কথাটা কেড়ে নিয়ে বললেন,"দুই জনকে একসাথে রাখা যাবে না,অহনাকে বিদায় হতেই হবে।"
মিনি কথার মাঝখানে যোগ করলো,"তোমার বয়স মাত্র তেত্রিশ বছর ভাইয়া,এই বয়সে ভাল ঘরের অবিবাহিতা মেয়ে অহরহ পাওয়া যাবে।কিন্তু ঘরে আরেকটা বউ থাকলে অবিবাহিতা কন্যা বা ভাল মেয়ে কোনটাই পাবে না।"
কিছু একটা বলতে হয় তাই বললাম," হুম,কথাটা ঠিক।কিন্তু মিনি,অবিবাহিতা মেয়ে অতো জরুরী কেন?তোদের তো দরকার আমার সন্তান?"
"তোমার যা ইচ্ছা করো কিন্তু বাবা মায়ের ইচ্ছা তোমাকে পূরন করতেই হবে।" তর্কে হেরে গিয়ে মিনির সরল উক্তি।
আমি এবার কিছুটা খোচার সুরে বললাম,"আচ্ছা মিনি,তোর যদি কোনদিন সন্তান না হয় তাহলে তোকে কি তোর শ্বশুরবাড়ির মানুষ তাড়িয়ে দেবে?"
বাবা এতক্ষণ চুপ করে ছিলেন,এবার ক্ষেপে গেলেন।মিনি বাবার খুব আদরের বলেই মনে হয় এবার জায়গামত কথাটা বিধেছে।
বাবা রাগত স্বরে বললেন,"মিনিকে কেন তাড়িয়ে দেবে,ও কি তোর বউয়ের মতো বন্ধা নাকি?"
চেপে রাখা নিঃশাসটা জোরে ছেড়ে দিলাম।শান্ত স্বাভাবিক ভাবেই বললাম,"বাবা,তোমরা যা জেনেছ তা ঠিক,অহনা সন্তান জন্ম দিতে অক্ষম।কিন্তু এটা কি জান যে তোমার ছেলেও একই সাথে সন্তান জন্ম দানে অক্ষম?"
বাবা এবার বিস্ময়ের সাথে সোফা ছেড়ে উঠে দাড়ালেন,বললেন,"কি বলছিস এসব?"
বাবার সাথে সাথে মা'ও দেখি আমার পাশে এসে বসেছে।আমার মাথায় হাত বুলিয়ে জিজ্ঞেস করলো,"আমাদের আগে কিছু বলিসনি কেন,কি হয়ছে তোর,এসব অলুক্ষণে কথা কেন বলছিস?"
বুকের গভীর থেকে বেড়িয়ে এলো চাপা কান্না,বেরোতে দিলাম না।একনাগাড়ে সারাদিন সত্য কথা বলা যায় কিন্তু বেশিক্ষন মিথ্যা বলা যায় না।তারপরেও অভিনেতাদের মতো স্বাভাবিক ভাবেই বললাম,"হ্যা,আমারও সমস্যা আছে,বিয়ে করে লাভ নেই।আমরা দুজন একসাথেই পরিক্ষা করিয়েছিলাম।দুজনরে রেজাল্টই খারাপ।তোমরা চিন্তা করবে বলে কিছু জানাইনি।"
বাবা খুব দ্রুত বলল,"চিন্তা করিস না,সব ঠিক হয়ে যাবে,সব ঠিক হয়ে যাবে।দেশে কত ডাক্তার আছে,নাহয় বিদেশ নিয়ে যাব।"
বাবা,মা,মিনি তিন জনে একসাথে কথা বলছে কিন্তু আমি কিছুই শুনতে পাচ্ছি না।
এবার উঠতে হয়,দম বন্ধ হয়ে আসছে আমার।তবুও উঠে আসার সময় জোর করে মিনির সাথে কৌতুক করলাম,"এখন তো বুঝলি তোর ভাই একশোটা বিয়ে করলেও বাবা হতে পারবে না।তার মানে তোর ভাবীও মা হতে পারবে না আমার কারনে,তাহলে এবার তোর ভাবিকে একটা বিয়ে দিয়ে দে!"
মিনি ছোট নয়,ইন্টারমিডিয়েটে পড়ে।ভাইয়ের দুঃখে ঠিকই কষ্ট পেয়েছে।পেছনে না তাকিয়েও বুঝতে পারলাম ও আমার দিকে অপলক তাকিয়ে আছে।
সোজা নিজের ঘরে চলে এলাম।লম্বা বারান্দার গ্রিলে মাথা হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে অহনা।আমাকে দেখে আলতো করে মাথা ঘুড়িয়ে তাকালো।জিজ্ঞেস করলো,"বাবা মার সাথে মিথ্যে বললে কেন?"
অহনা সবই শুনেছে।আমাদের বাড়ির সব গুলো ঘর প্রায় লাগোয়া।জোরে কথা বললে সব ঘর থেকেই শোনা যায়।
এতক্ষণ অনেক মিথ্যা বলেছি,এখন পারবো কিনা জানিনা,মিথ্যা বেশিক্ষন বলা যায় না।
মেডিকেল রিপোর্ট দেখার পর থেকে আমি অহনার চোখের দিকে আমি তাকাতে পারতাম না কিন্তু আজ সরাসরি চোখের দিকে তাকালাম।
যেদিন জানতে পারলো ও কোনদিনও মা হতে পারবে না সেদিন থেকেই কেমন যেন আনমনা হয়ে গেছে।চোখের নিচে স্পষ্ট কালির দাগ,না খেয়ে খেয়ে শুকিয়ে গেছে।আগের সেই সৌন্দর্যের ছিটেফোঁটাও নেই।
চোখের দিকে তাকিয়ে আর মিথ্যা বলার সাহস হলো না।
বললাম,"তুমি আমার অর্ধের অহনা,তোমার ভালবাসাকে আমি সম্মান করি।সারাজীবন কোন দিন বাবা ডাক শুনতে না পেলেও তোমার ভালবাসা ফেলে দিতে পারবো না।বিয়ে করলে ছেলে মেয়ে হবে হয়তো,কিন্তু সেখানে তো তুমি নেই।তুমি ছাড়া সেই সুখের ডাক আমার ভালো লাগবে ন !"আরো কিছু বলতে যাচ্ছিলাম কিন্তু কখন যেন অহনা আমার বুকে মাথা রেখেছে।পিঠে হাত রাখলাম।কান্নার তোড়ে পিঠটা ফুলে ফুলে উঠছে বারবার।
সাগরের ঢেউ যত বড় তার গর্জন তত বেশি।অহনার কান্নার ঢেউ সাগরের ঢেউয়ের চাইতে বড় কিন্তু গর্জন শূন্য।
মিনির কিছুটা বিরক্তি মেশানো গলায় প্রশ্ন।
" কিসের চাপাচাপি,কিসে রাজি হচ্ছি না?"না জানার ভান করে পাল্টা প্রশ্ন করলাম।
"আর কত বার বলতে হবে,তোমার বিয়ের কথা হচ্ছে,রাজি হচ্ছো না কেন?"
"কেন রাজি হচ্ছি না সেটা সবাই জানে,তারপরেও বারবার বলতে ভাল লাগছে না।যার বউ আছে সে কেন আবার বিয়ে করবে?"
"তোর বউয়ের তো বাচ্চা হবে না,এটা তো বিয়ের সময় কেউ বলেনি,এখনতো সবাই জেনে গেছি।ভালয় ভালয় বলছি এই বউ ছেড়ে দিয়ে আবার বিয়ে কর,নাতী নাতনী দেখে মরি।" মা'র রাগত স্বরে স্বগতোক্তি।
দীর্ঘ দিনের চেপে রাখা এই কথা মা কিভাবে জানতে পারলো ভেবে ঘেমে উঠলাম।হঠাৎ করে অস্বস্তির সাথে সাথে হৃদ স্পন্দনও অস্বাভাবিক বেড়ে গেল।দীর্ঘ সাত বছর গোপন করে রাখা কথাটাকে শেষ পর্যন্ত চেপে রাখতে পারলাম না।অহনা কখনো সন্তান জন্ম দিতে পারবে না-এটা আমি ছাড়া কেউ জানতো না,কিন্তু মা জানল কিভাবে!
কিছুই হয়নি এমন একটা ভান করলাম।চেপে রাখা উত্তেজনাকে আরো চেপে রেখে বললাম,"ছেড়ে দিতে চাইলেই কি অতো সহজে কাউকে ছেড়ে দেয়া যায়?তোমরাই তো ওকে পছন্দ করে নিয়ে এসেছিলে!আজকে তাহলে ছেড়ে দিতে বলছ কেন?"
"কেন বলছে তুমি জান ভাইয়া।" মিনির উত্তর।
"তাহলে এক কাজ করি,আরেকটা বিয়ে করে দুইজনকে একসাথে রেখে দেই।"বললাম আমি।
বলতে যা দেরি,মা কথাটা কেড়ে নিয়ে বললেন,"দুই জনকে একসাথে রাখা যাবে না,অহনাকে বিদায় হতেই হবে।"
মিনি কথার মাঝখানে যোগ করলো,"তোমার বয়স মাত্র তেত্রিশ বছর ভাইয়া,এই বয়সে ভাল ঘরের অবিবাহিতা মেয়ে অহরহ পাওয়া যাবে।কিন্তু ঘরে আরেকটা বউ থাকলে অবিবাহিতা কন্যা বা ভাল মেয়ে কোনটাই পাবে না।"
কিছু একটা বলতে হয় তাই বললাম," হুম,কথাটা ঠিক।কিন্তু মিনি,অবিবাহিতা মেয়ে অতো জরুরী কেন?তোদের তো দরকার আমার সন্তান?"
"তোমার যা ইচ্ছা করো কিন্তু বাবা মায়ের ইচ্ছা তোমাকে পূরন করতেই হবে।" তর্কে হেরে গিয়ে মিনির সরল উক্তি।
আমি এবার কিছুটা খোচার সুরে বললাম,"আচ্ছা মিনি,তোর যদি কোনদিন সন্তান না হয় তাহলে তোকে কি তোর শ্বশুরবাড়ির মানুষ তাড়িয়ে দেবে?"
বাবা এতক্ষণ চুপ করে ছিলেন,এবার ক্ষেপে গেলেন।মিনি বাবার খুব আদরের বলেই মনে হয় এবার জায়গামত কথাটা বিধেছে।
বাবা রাগত স্বরে বললেন,"মিনিকে কেন তাড়িয়ে দেবে,ও কি তোর বউয়ের মতো বন্ধা নাকি?"
চেপে রাখা নিঃশাসটা জোরে ছেড়ে দিলাম।শান্ত স্বাভাবিক ভাবেই বললাম,"বাবা,তোমরা যা জেনেছ তা ঠিক,অহনা সন্তান জন্ম দিতে অক্ষম।কিন্তু এটা কি জান যে তোমার ছেলেও একই সাথে সন্তান জন্ম দানে অক্ষম?"
বাবা এবার বিস্ময়ের সাথে সোফা ছেড়ে উঠে দাড়ালেন,বললেন,"কি বলছিস এসব?"
বাবার সাথে সাথে মা'ও দেখি আমার পাশে এসে বসেছে।আমার মাথায় হাত বুলিয়ে জিজ্ঞেস করলো,"আমাদের আগে কিছু বলিসনি কেন,কি হয়ছে তোর,এসব অলুক্ষণে কথা কেন বলছিস?"
বুকের গভীর থেকে বেড়িয়ে এলো চাপা কান্না,বেরোতে দিলাম না।একনাগাড়ে সারাদিন সত্য কথা বলা যায় কিন্তু বেশিক্ষন মিথ্যা বলা যায় না।তারপরেও অভিনেতাদের মতো স্বাভাবিক ভাবেই বললাম,"হ্যা,আমারও সমস্যা আছে,বিয়ে করে লাভ নেই।আমরা দুজন একসাথেই পরিক্ষা করিয়েছিলাম।দুজনরে রেজাল্টই খারাপ।তোমরা চিন্তা করবে বলে কিছু জানাইনি।"
বাবা খুব দ্রুত বলল,"চিন্তা করিস না,সব ঠিক হয়ে যাবে,সব ঠিক হয়ে যাবে।দেশে কত ডাক্তার আছে,নাহয় বিদেশ নিয়ে যাব।"
বাবা,মা,মিনি তিন জনে একসাথে কথা বলছে কিন্তু আমি কিছুই শুনতে পাচ্ছি না।
এবার উঠতে হয়,দম বন্ধ হয়ে আসছে আমার।তবুও উঠে আসার সময় জোর করে মিনির সাথে কৌতুক করলাম,"এখন তো বুঝলি তোর ভাই একশোটা বিয়ে করলেও বাবা হতে পারবে না।তার মানে তোর ভাবীও মা হতে পারবে না আমার কারনে,তাহলে এবার তোর ভাবিকে একটা বিয়ে দিয়ে দে!"
মিনি ছোট নয়,ইন্টারমিডিয়েটে পড়ে।ভাইয়ের দুঃখে ঠিকই কষ্ট পেয়েছে।পেছনে না তাকিয়েও বুঝতে পারলাম ও আমার দিকে অপলক তাকিয়ে আছে।
সোজা নিজের ঘরে চলে এলাম।লম্বা বারান্দার গ্রিলে মাথা হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে অহনা।আমাকে দেখে আলতো করে মাথা ঘুড়িয়ে তাকালো।জিজ্ঞেস করলো,"বাবা মার সাথে মিথ্যে বললে কেন?"
অহনা সবই শুনেছে।আমাদের বাড়ির সব গুলো ঘর প্রায় লাগোয়া।জোরে কথা বললে সব ঘর থেকেই শোনা যায়।
এতক্ষণ অনেক মিথ্যা বলেছি,এখন পারবো কিনা জানিনা,মিথ্যা বেশিক্ষন বলা যায় না।
মেডিকেল রিপোর্ট দেখার পর থেকে আমি অহনার চোখের দিকে আমি তাকাতে পারতাম না কিন্তু আজ সরাসরি চোখের দিকে তাকালাম।
যা বলব বলে ভেবেছিলাম;বেমালুম ভুলে গেলাম।
যেদিন জানতে পারলো ও কোনদিনও মা হতে পারবে না সেদিন থেকেই কেমন যেন আনমনা হয়ে গেছে।চোখের নিচে স্পষ্ট কালির দাগ,না খেয়ে খেয়ে শুকিয়ে গেছে।আগের সেই সৌন্দর্যের ছিটেফোঁটাও নেই।
চোখের দিকে তাকিয়ে আর মিথ্যা বলার সাহস হলো না।
বললাম,"তুমি আমার অর্ধের অহনা,তোমার ভালবাসাকে আমি সম্মান করি।সারাজীবন কোন দিন বাবা ডাক শুনতে না পেলেও তোমার ভালবাসা ফেলে দিতে পারবো না।বিয়ে করলে ছেলে মেয়ে হবে হয়তো,কিন্তু সেখানে তো তুমি নেই।তুমি ছাড়া সেই সুখের ডাক আমার ভালো লাগবে ন !"আরো কিছু বলতে যাচ্ছিলাম কিন্তু কখন যেন অহনা আমার বুকে মাথা রেখেছে।পিঠে হাত রাখলাম।কান্নার তোড়ে পিঠটা ফুলে ফুলে উঠছে বারবার।
সাগরের ঢেউ যত বড় তার গর্জন তত বেশি।অহনার কান্নার ঢেউ সাগরের ঢেউয়ের চাইতে বড় কিন্তু গর্জন শূন্য।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন