উচিৎ শিক্ষা
ইব্রাহিম মাস্টারের উঠানে অনেক লোকের সমাগম।কোন অনুষ্টান নয় আবার কোন বিচার সালিশও নয় এমনকি কেউ মারাও যায়নি।তাহলে এতো লোকের সমাগম কেন?
স্যার সাদা পাঞ্জাবি পড়ে চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে আছেন।সাদা ধবধবে দাড়ির কারনে স্যারকে মাস্টারের চাইতে মসজিদের হুজুর বলেই বেশি মনে হচ্ছে।তাকে খুব একটা চিন্তিত মনে হচ্ছে না বরং কিছুটা বিষন্ন মনে হচ্ছে।।এগিয়ে গেলাম ঘটনা কি দেখতে।না গেলেই মনে হয় ভাল করতাম।ঘটনাটার সাক্ষী হয়ে নিজেকে আজও অপরাধী মনে হয়।
ইব্রাহিম মাস্টারের বড় ছেলে জোর গলায় বলছে,"আমাদের এখন সংসার হয়েছে।আয় রোজগার তেমন নাই,তাই আপনাদের কাছে আমার আর্জি আমার ঘরে বাবা মা সপ্তাহে দুইদিন খাবে আর মেজো ও ছোট ছেলের ঘরে সপ্তাহের বাকি দিনগুলো খাবে।মেজো ছেলে ও ছোট ছেলে সমস্বরে চেচিয়ে বললো,"বড় ভাই যা বলেছে ঠিকই বলেছে,আমরাও দুই দিন করে খাওয়াবো।"
পেছনের অন্দর ঘর থেকে এই সময় একজন মহিলা কথা বলে উঠলো।
"তিন ছেলের ঘরে দুই দিন করে খেলে সপ্তাহে ছয় দিন হয়,তারপরেও তো একদিন বাকি থাকে,ঐ একদিন কার ঘরে খাবে সেটা সবার মাধ্যমে ঠিক করে রাখ?"
কেউ বলে না দিলেও আমি খুব ভাল করেই জানি ঐ কন্ঠের মালিক কে,উনি ছোট ছেলের মাস্টার্স পাশ বউ।
তার কথা শেষ হওয়া মাত্র গ্রামের মুরুব্বিরা সমস্বরে চেচিয়ে উঠলো,"এই কে তুমি,এতো গুলো মানুষের মাঝে কথা বলো,কে তোমাকে কথা বলার অনুমতি দিয়েছে?"
ছোট ছেলে তখন দাঁড়িয়ে বললো,"ও তো ঠিকই বলেছে,আমি কিন্তু তিনদিন খাওয়াতে পারবো না,আমার এমনিতেই টানাটানি।আর মেজো ভাইতো সারা বছর পরিবার নিয়ে ঢাকাতেই থাকে।তাহলে সপ্তাহের ঐ দুইদিন কে খাওয়াবে?"
এই কথা শোনার পর সবাই চুপমেরে গেল।কারন উনি মাস্টারের ছেলে আবার পেশায় ডাক্তার আর বিষয়টাও তাদের পরিবারের।আমি কিছুটা বিরক্তির সাথে চেচিয়ে বললাম,"তিন ছেলে মিলে মাত্র একদিন খাওয়াতে পারেন না?"
মেজো ছেলে এতক্ষন চুপ করে ছিল।উকিল মানুষ ঝোপ বুঝে কোপ মারতে পারে।আমার কথায় তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো।সুযোগ পেয়ে বলল,"তোমার এতো দরদ তুমি খাওয়াও না!"
আমি একেবারে থ মেরে গেলাম।উনি লাভ ছাড়া কথা বলেন না।কিছুদিন আগে আমি নিজ কানে শুনেছি তিনি স্যারকে বলেছেন,"আপনার বয়সী মানুষতো রিকশা চালিয়েও খায়!"
সেদিনও কিছু বলতে পারিনি আজও কিছু বলতে পারলাম না।দৌড়ে পালিয়ে যাবো কিনা তাও বুঝতে পারছি না।হটাৎ করেই উঠানে পিতপতন নিরবতা নেমে এসেছে।শুধু অন্দর বাড়ি থেকে একটা চাপা কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলাম।কেউ কিছু বলে না দিলেও এটা যে চাচি মানে স্যারের বৃদ্ধ বউয়ের কান্না সেটা আমি ভাল করেই জানি।
সবাই একযোগে মাস্টারের দিকে তাকালাম।তিনি ছাড়া আর কেউ জানে না এখন কি করতে হবে।এতক্ষন মাস্টার সাহেব চুপ করে বসে ছিলেন,হাতের লাঠির দিকে তার যত মনোযোগ ছিল।যেন এখানে কিছুই হচ্ছে না,কিছুক্ষন লাঠির মাথায় হাত বুলিয়ে আস্তে আস্তে উঠে দাড়ালেন।শিকক্ষদের স্বভাবসুলভ আচরনে শুরু করলেন তার কথা।আমার কেন যেন মনে হচ্ছিল স্যার সারা জীবন আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন আর আজকে উচিৎ শিক্ষা দিবেন,হলোও তাই।
"তোমাদের মা অসুস্থ,তার চিকিৎসা ব্যয় বহন করা আমার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না।আমি অবসরে আছি তোমরা সবাই জান।যে টাকা পাই তাতে সংসার চালাতে আমি হিমশিম খাচ্ছি।তবে তোমরা যখন ছোট ছিলে পাচজনের সংসার চালাতে কষ্ট হলেও কাউকে না খাইয়ে রাখিনি,সপ্তাহে সাতদিনই খাইয়েছি।আর আজ তোমাদের তিনজনের কাছে দুই বুড়ো বুড়ি একদিনের জন্য বেশি হয়ে গেলাম।ঠিক আছে আমাদের দুজনকে কখনোই খাওয়াতে হবে না।আজকে থেকে রোজা রাখার অভ্যাস করবো,তাতে অন্তত একবেলার খাবার যোগার করতে হবে না।আমি মাস্টার মানুষ;অবসর নিয়েছি কিন্তু শিক্ষকতা ভুলে যাইনি।এখনো যে টাকা পাই আর কিছু টিউশনি করলে অভাব হবে না আমার।"
"আমি বাবা হিসেবে তোমাদের মানুষ করতে না পারলেও শিক্ষক হিসেবে কোন দিন তোমাদের শিক্ষা দিতে ভুল করিনি।কিন্তু তোমরা তোমাদের শিক্ষা ভুলে গেছ।নইলে আজকে এতগুলো মানুষের সামনে আমাকে বেইজ্জতি করতে পারতে না।সবার সামনে না বলে নিজেরা এসে বললেই পারতে।"স্যার এই পর্যন্ত বলে একটু থামলেন।
কেউ কিছু বলছে না।সবাই অসহায়ের মতো তাকিয়ে আছে একজন ইব্রাহিম মাস্টারের দিকে।
স্যার কিছুক্ষন মাথা নিচু করে রেখে আবার বললেন,"এখানে আমার অনেক ছাত্র আছে,তোমাদের উদ্দেশ্যে বলছি," বাবা মাকে ভাগ করো না।যাদের একজন সন্তান সে তার বাবা মাকে কার সাথে ভাগ করবে?
মনে রেখো ভাই বোন ছাড়াও তোমরা দুনিয়াতে আসতে পারতে কিন্তু বাবা মা ছাড়া তোমরা দুনিয়াতে আসতে পারতে না,তোমরা তো একটা সময় কিছুই ছিলে না।"
এবার তিন সন্তানের প্রতি ইংগিত করে বললেন,"নিজেরা না খেয়ে দীর্ঘ ত্রিশ বছর তোমাদের খাইয়েছি পড়িয়েছি।আল্লাহর অশেষ মেহেরবানি তোমরা এখন না খেয়ে থাক না।"
"গতকাল তোমাদের একজন ফেসবুকে লিখেছে,বাবা মা আনন্দ উপভোগ করতে গিয়ে নাকি তোমাদের জন্ম দিয়েছে।আধুনিক যুগের ছেলে মেয়ে তোমরা,আনন্দ বেদনা নিজের মানুষের কাছে না বলে ফেসবুকে লিখেছ।"
আমি এখানে না আসলেই বোধয় ভাল করতাম।এটা স্যার জানার কথা না,কিভাবে জানলেন বুঝতে পারছি না।কথাটা আমি দেখেছি ফেসবুকে,লিখেছে স্যারের গুনধর শিক্ষিত ছোট ছেলে ডাক্তার সাহেব।তার আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত যুক্তির কাছে আমি বেকুব হয়ে গিয়েছিলাম।স্ট্যাটাসে কিছু লিখতে পারিনি।
আধুনিকতা কি এতোদুর পৌছে গেছে যে নিজের জন্ম নিয়েও কটুক্তি করতে হবে?হায়রে শিক্ষা,যার কাছে তোমাকে পেলাম তাকেই এতবড় অপমান!
গ্রামের অনেক মুরুব্বিকে দেখলাম লজ্জায় লাল হয়ে গেছে,কেউ কেউ রাগে চেয়ার ছেড়ে উঠে গেলেন।স্যার বাধা দিলেন না।প্রকাশ্যেই একজন মুরুব্বি বললেন,"আল্লাহ যদি তোদের পরিনতি দেখার জন্য আমাকে বাচিয়ে রাখতো কতই না ভাল হতো।"তিন ছেলের কেউ টু শব্দটিও করলো না।
আর সহ্য হচ্ছে না,এই সমাজ ছেড়ে চলে যেতে হবে যত দ্রুত সম্ভব।তবুও দাঁড়িয়ে রইলাম শেষ কথাটা শোনার জন্য।কথার মাধ্যমে চাবুকের মত সপাং করে স্যার উচিৎ শিক্ষাটা দিলেন।
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রচারিত ঐ অসামাজিক মন্তব্যের উত্তরটা ইব্রাহিম মাস্টারের মুখ থেকেই শুনুন।
"ভাল কথা,মনের দুঃখ লিখেছ,জন্ম যখন দিয়েছি উত্তরটা আমিই দিচ্ছি,তোমাদের জন্ম না দিয়েও আনন্দ উপভোগ করার সুযোগ আমাদের ছিল!"
বলেই তিনি সবাইকে পেছনে ফেলে কাউকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে চাপা কান্নার দিকে এগিয়ে চললেন.........।
স্যার সাদা পাঞ্জাবি পড়ে চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে আছেন।সাদা ধবধবে দাড়ির কারনে স্যারকে মাস্টারের চাইতে মসজিদের হুজুর বলেই বেশি মনে হচ্ছে।তাকে খুব একটা চিন্তিত মনে হচ্ছে না বরং কিছুটা বিষন্ন মনে হচ্ছে।।এগিয়ে গেলাম ঘটনা কি দেখতে।না গেলেই মনে হয় ভাল করতাম।ঘটনাটার সাক্ষী হয়ে নিজেকে আজও অপরাধী মনে হয়।
ইব্রাহিম মাস্টারের বড় ছেলে জোর গলায় বলছে,"আমাদের এখন সংসার হয়েছে।আয় রোজগার তেমন নাই,তাই আপনাদের কাছে আমার আর্জি আমার ঘরে বাবা মা সপ্তাহে দুইদিন খাবে আর মেজো ও ছোট ছেলের ঘরে সপ্তাহের বাকি দিনগুলো খাবে।মেজো ছেলে ও ছোট ছেলে সমস্বরে চেচিয়ে বললো,"বড় ভাই যা বলেছে ঠিকই বলেছে,আমরাও দুই দিন করে খাওয়াবো।"
পেছনের অন্দর ঘর থেকে এই সময় একজন মহিলা কথা বলে উঠলো।
"তিন ছেলের ঘরে দুই দিন করে খেলে সপ্তাহে ছয় দিন হয়,তারপরেও তো একদিন বাকি থাকে,ঐ একদিন কার ঘরে খাবে সেটা সবার মাধ্যমে ঠিক করে রাখ?"
কেউ বলে না দিলেও আমি খুব ভাল করেই জানি ঐ কন্ঠের মালিক কে,উনি ছোট ছেলের মাস্টার্স পাশ বউ।
তার কথা শেষ হওয়া মাত্র গ্রামের মুরুব্বিরা সমস্বরে চেচিয়ে উঠলো,"এই কে তুমি,এতো গুলো মানুষের মাঝে কথা বলো,কে তোমাকে কথা বলার অনুমতি দিয়েছে?"
ছোট ছেলে তখন দাঁড়িয়ে বললো,"ও তো ঠিকই বলেছে,আমি কিন্তু তিনদিন খাওয়াতে পারবো না,আমার এমনিতেই টানাটানি।আর মেজো ভাইতো সারা বছর পরিবার নিয়ে ঢাকাতেই থাকে।তাহলে সপ্তাহের ঐ দুইদিন কে খাওয়াবে?"
এই কথা শোনার পর সবাই চুপমেরে গেল।কারন উনি মাস্টারের ছেলে আবার পেশায় ডাক্তার আর বিষয়টাও তাদের পরিবারের।আমি কিছুটা বিরক্তির সাথে চেচিয়ে বললাম,"তিন ছেলে মিলে মাত্র একদিন খাওয়াতে পারেন না?"
মেজো ছেলে এতক্ষন চুপ করে ছিল।উকিল মানুষ ঝোপ বুঝে কোপ মারতে পারে।আমার কথায় তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো।সুযোগ পেয়ে বলল,"তোমার এতো দরদ তুমি খাওয়াও না!"
আমি একেবারে থ মেরে গেলাম।উনি লাভ ছাড়া কথা বলেন না।কিছুদিন আগে আমি নিজ কানে শুনেছি তিনি স্যারকে বলেছেন,"আপনার বয়সী মানুষতো রিকশা চালিয়েও খায়!"
সেদিনও কিছু বলতে পারিনি আজও কিছু বলতে পারলাম না।দৌড়ে পালিয়ে যাবো কিনা তাও বুঝতে পারছি না।হটাৎ করেই উঠানে পিতপতন নিরবতা নেমে এসেছে।শুধু অন্দর বাড়ি থেকে একটা চাপা কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলাম।কেউ কিছু বলে না দিলেও এটা যে চাচি মানে স্যারের বৃদ্ধ বউয়ের কান্না সেটা আমি ভাল করেই জানি।
সবাই একযোগে মাস্টারের দিকে তাকালাম।তিনি ছাড়া আর কেউ জানে না এখন কি করতে হবে।এতক্ষন মাস্টার সাহেব চুপ করে বসে ছিলেন,হাতের লাঠির দিকে তার যত মনোযোগ ছিল।যেন এখানে কিছুই হচ্ছে না,কিছুক্ষন লাঠির মাথায় হাত বুলিয়ে আস্তে আস্তে উঠে দাড়ালেন।শিকক্ষদের স্বভাবসুলভ আচরনে শুরু করলেন তার কথা।আমার কেন যেন মনে হচ্ছিল স্যার সারা জীবন আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন আর আজকে উচিৎ শিক্ষা দিবেন,হলোও তাই।
"তোমাদের মা অসুস্থ,তার চিকিৎসা ব্যয় বহন করা আমার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না।আমি অবসরে আছি তোমরা সবাই জান।যে টাকা পাই তাতে সংসার চালাতে আমি হিমশিম খাচ্ছি।তবে তোমরা যখন ছোট ছিলে পাচজনের সংসার চালাতে কষ্ট হলেও কাউকে না খাইয়ে রাখিনি,সপ্তাহে সাতদিনই খাইয়েছি।আর আজ তোমাদের তিনজনের কাছে দুই বুড়ো বুড়ি একদিনের জন্য বেশি হয়ে গেলাম।ঠিক আছে আমাদের দুজনকে কখনোই খাওয়াতে হবে না।আজকে থেকে রোজা রাখার অভ্যাস করবো,তাতে অন্তত একবেলার খাবার যোগার করতে হবে না।আমি মাস্টার মানুষ;অবসর নিয়েছি কিন্তু শিক্ষকতা ভুলে যাইনি।এখনো যে টাকা পাই আর কিছু টিউশনি করলে অভাব হবে না আমার।"
"আমি বাবা হিসেবে তোমাদের মানুষ করতে না পারলেও শিক্ষক হিসেবে কোন দিন তোমাদের শিক্ষা দিতে ভুল করিনি।কিন্তু তোমরা তোমাদের শিক্ষা ভুলে গেছ।নইলে আজকে এতগুলো মানুষের সামনে আমাকে বেইজ্জতি করতে পারতে না।সবার সামনে না বলে নিজেরা এসে বললেই পারতে।"স্যার এই পর্যন্ত বলে একটু থামলেন।
কেউ কিছু বলছে না।সবাই অসহায়ের মতো তাকিয়ে আছে একজন ইব্রাহিম মাস্টারের দিকে।
স্যার কিছুক্ষন মাথা নিচু করে রেখে আবার বললেন,"এখানে আমার অনেক ছাত্র আছে,তোমাদের উদ্দেশ্যে বলছি," বাবা মাকে ভাগ করো না।যাদের একজন সন্তান সে তার বাবা মাকে কার সাথে ভাগ করবে?
মনে রেখো ভাই বোন ছাড়াও তোমরা দুনিয়াতে আসতে পারতে কিন্তু বাবা মা ছাড়া তোমরা দুনিয়াতে আসতে পারতে না,তোমরা তো একটা সময় কিছুই ছিলে না।"
এবার তিন সন্তানের প্রতি ইংগিত করে বললেন,"নিজেরা না খেয়ে দীর্ঘ ত্রিশ বছর তোমাদের খাইয়েছি পড়িয়েছি।আল্লাহর অশেষ মেহেরবানি তোমরা এখন না খেয়ে থাক না।"
"গতকাল তোমাদের একজন ফেসবুকে লিখেছে,বাবা মা আনন্দ উপভোগ করতে গিয়ে নাকি তোমাদের জন্ম দিয়েছে।আধুনিক যুগের ছেলে মেয়ে তোমরা,আনন্দ বেদনা নিজের মানুষের কাছে না বলে ফেসবুকে লিখেছ।"
আমি এখানে না আসলেই বোধয় ভাল করতাম।এটা স্যার জানার কথা না,কিভাবে জানলেন বুঝতে পারছি না।কথাটা আমি দেখেছি ফেসবুকে,লিখেছে স্যারের গুনধর শিক্ষিত ছোট ছেলে ডাক্তার সাহেব।তার আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত যুক্তির কাছে আমি বেকুব হয়ে গিয়েছিলাম।স্ট্যাটাসে কিছু লিখতে পারিনি।
আধুনিকতা কি এতোদুর পৌছে গেছে যে নিজের জন্ম নিয়েও কটুক্তি করতে হবে?হায়রে শিক্ষা,যার কাছে তোমাকে পেলাম তাকেই এতবড় অপমান!
গ্রামের অনেক মুরুব্বিকে দেখলাম লজ্জায় লাল হয়ে গেছে,কেউ কেউ রাগে চেয়ার ছেড়ে উঠে গেলেন।স্যার বাধা দিলেন না।প্রকাশ্যেই একজন মুরুব্বি বললেন,"আল্লাহ যদি তোদের পরিনতি দেখার জন্য আমাকে বাচিয়ে রাখতো কতই না ভাল হতো।"তিন ছেলের কেউ টু শব্দটিও করলো না।
আর সহ্য হচ্ছে না,এই সমাজ ছেড়ে চলে যেতে হবে যত দ্রুত সম্ভব।তবুও দাঁড়িয়ে রইলাম শেষ কথাটা শোনার জন্য।কথার মাধ্যমে চাবুকের মত সপাং করে স্যার উচিৎ শিক্ষাটা দিলেন।
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রচারিত ঐ অসামাজিক মন্তব্যের উত্তরটা ইব্রাহিম মাস্টারের মুখ থেকেই শুনুন।
"ভাল কথা,মনের দুঃখ লিখেছ,জন্ম যখন দিয়েছি উত্তরটা আমিই দিচ্ছি,তোমাদের জন্ম না দিয়েও আনন্দ উপভোগ করার সুযোগ আমাদের ছিল!"
বলেই তিনি সবাইকে পেছনে ফেলে কাউকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে চাপা কান্নার দিকে এগিয়ে চললেন.........।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন