পরিচয়
না জানা দোষের কিছু না,জানতে না চাওয়া দোষের।
আমার কাছের এক বড় ভাইকে আজ আপনাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবো। পারলে দেখা করিয়ে দিতাম,কিন্তু তা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি অতি জ্ঞানী মানুষ, সব কিছুই তার নখের ডগায়!এমন কিছু নাই যে তিনি জানেন না!প্রাচ্য থেকে পাশ্চাত্য,বিজ্ঞান থেকে অজ্ঞান, ইতিহাস থেকে পাতিহাঁস- সব তিনি জানেন!
তার একটা "সুন্দর অভ্যাস" আছে,তিনি প্রায়শই ইংরেজিতে কথা বলেন,এতে তার প্রচন্ড গর্ব।তার বিখ্যাত এবং গর্বিত একটা উক্তি হচ্ছে, "আমি তো বাংলায় কথাই বলতে পারি না।"-এই উক্তিটি অবশ্য তিনি বাংলাতেই দিতেন সবসময়।
বাংলায় কথা না বলতে পাড়ায় কোন বিদেশি পর্যটক লজ্জিত হয়েছে কিনা আমি জানি না,তবে আমি ইংরেজিতে কথা বলতে না পাড়ায় ভাইয়ের সামনে লজ্জিত হয়েছি বহুবার।
একবার আমরা গ্রুপ স্টাডি করছি, বিষয় সাহিত্য।
স্যার হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড কে নিয়ে কথা বলছিলাম,"
তিনি স্কটল্যান্ডের খুব বিখ্যাত একজন লেখক"-মাত্র এই পর্যন্ত বলেছি, ভাই কথার মাঝখানে বলে বসলেন ,"মনে হয় খুব বেশি বিখ্যাত না,খুব বিখ্যাত হলে আমি জানতাম।"
কথাটা এমনভাবে বললেন;মনে হলো পৃথিবীর সব বিখ্যাত মানুষ তার দোস্ত!
যাহোক কেউ কোন কথা বললাম না,আর বলারই বা কি আছে।আমরা সবাই তাকে চিনি।
পরের প্রসঙ্গ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।তিনি এবারও খটাশ করে বলে বসলেন,"রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে আমি সব জানি।"
আমার সাহিত্য বিষয়ে আগ্রহটা ব্যতিক্রম,সাধারন চাকরী প্রার্থী বা ছাত্রদের মতো শুধু জন্ম-মৃত্যু বা কয়টা উপন্যাস বা গল্প লিখেছেন-এসবে আমার কোন আগ্রহ নেই,আমার আগ্রহ, তিনি কী লিখেছেন;সেই বিষয়ে,অর্থাৎ বইটা পড়ে দেখা।
তবে রবীন্দ্রনাথের শেষের কবিতা উপন্যাস বারবার পড়েও কিছু জায়গায় বুঝে উঠতে পারিনি।
তাই কিছু যদি জানতে পারি এই আশায় খুব আগ্রহ ভরে ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম," ভাই শেষের কবিতা সম্পর্কে কিছু যদি বলেন,আমি কয়েকটা জায়গায় বুঝতে পারি নাই।"
তিনি বললেন," আমি ঐসব কবিতা- টবিতা পড়ি না!"
আমার আশায় গুড়ে বালি।
আমার ঐ বড় ভাইয়ের নাম তমাল।পড়ে জেনেছি তমাল শব্দের অর্থ গাব গাছ।গাব গাছ দিয়ে ভালো ঢেঁকি তৈরি করা যায়।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন