Who is she?
একঃ
ছাইয়ে কখনো কারো পা পুড়তে দেখেছেন?
না দেখলেও অনেকে শুনেছেন হয়তো।আপনি দেখে বা শুনে যেভাবেই জানুন না কেন,ভুল জেনেছেন!ছাইয়ে কখনো পা পোড়ে না,পোড়ে আগুনে!একে বলে ছাই চাপা আগুন!
সমাজে যেমন চোর বাটপার জন্ম হয় আবার তাদের শায়েস্তা করার জন্য কিছু নীতিবাদী মানুষেরও জন্ম হয়।
যারা উত্তর না জেনেও সূক্ষ্মতর প্রশ্নের মাধ্যমে অপরাধীকে ধরে ফেলেন।হাসান ইমাম স্যার হচ্ছেন তাদের অন্যতম।তিনি হচ্ছেন সমাজের ছাইচাপা আগুন!তার আগুনে শুধু অপরাধীরাই পুড়ে মরে!
শ্রদ্ধেয় হাসান ইমাম স্যার স্কুলের একটা সমস্যার সমাধান করছিলেন।বিষয় হচ্ছে;বাইরের কিছু ছেলে স্কুলের ছেলেদের মেরেছে।সিভিল ড্রেসে এসে আট-দশজনকে মেরে আবার চলেও গেছে।কারনটা বুঝতে পারছি না।স্কুলে প্রায়ই মারামারি হয়;সেই মারামারির কারন থাকে কিন্তু আজকের মারামারির কোন কারন নেই-আমরা ছাত্ররা অন্তত সেই কারন খুজে পাচ্ছি না।অনেক কথার পর স্যার জিজ্ঞেস করলেন,"ঐ ছেলেগুলো এতো সাহস কোথায় পেল,কেন তোমাদের সাথে মারামারি করলো,কার জন্য মারামারি করলো,Who is she?"
মার খেয়েও সেদিন আমাদের হাসি কেউ থামাতে পারেনি।
স্যার বিষয়টা আগে থেকেই জানতেন বলে "কে" দ্বারা প্রশ্ন করে আগেই কর্তাকে চিনে নিয়েছিলেন।আমরা সেই "she" কে অনেক পরে খুজে পেয়েছিলাম!ঘটনাটা সত্যিই "she" জনিত ছিল!
দুইঃ
আমার গ্রামের ছেলেদের শাসন করার দায়িত্ব কেউ না দিলেও মুরুব্বিরা তা কাধে তুলে নিয়েছেন!গ্রামের ইজ্জত রক্ষা বা লুন্ঠন যাই বলি না কেন;তারাই কর্মের প্রধান কর্তা।
যেখানেই তারা মোড়ল সেখানেই শার্টের বুক পকেট ফোলা-গ্রীষ্ম বর্ষা শীত-এই নিয়মটা সব ঋতুতেই তাদের বেলায় প্রযোজ্য।
এবার মজার একটা গল্প বলছি,মন দিয়ে শুনুনঃ
একবার এক ছেলে জঘন্য একটা অপরাধ করেছিল,হাতে-হাতে ধরা হয়েছে,তাকে শাস্তি দেয়া হবে,কঠিন শাস্তি।এ ব্যপারে গ্রামের সবাই একমত।কিন্তু সব সমাজেই রাশিয়া-আমেরিকার মত পার্টী আর এন্টি পার্টী থাকে।
যাহোক যথাসময়ে বিচার কার্য শুরু হলো।শুরুতেই বিস্তর কানাঘুষা শুনতে পেলাম।কী শাস্তি হবে সেইটা নিয়েই মূলত কানাঘুষা।বিচার শালিসে যেমন কানাঘুষা থাকে,তেমনি তাদের থামানোর জন্য মাতব্বর টাইপের লোকও থাকে।
(তার নাম উল্লেখ করছি না)
মাতব্বর দাঁড়িয়ে সবাইকে কায়দা করে থামিয়ে দিলেন।
তিনি বললেন,"আপনাদের অনেকক্ষন বসিয়ে রেখেছি,তাই আগে চা-পান কিছু খেয়ে নেয়া যাক।"
বলা শেষ হওয়ামাত্র শুরু হলো সিগারেট বৃষ্টি,চা-পান ইচ্ছামত।কে এতো কিছুর আয়োজন করেছে তা কেউ জানে না,জানতে চায়ওনা।পাবলিকের পেট ঠান্ডা তো কঠিন গরমেও দুনিয়ায় তখন শীতকাল!
খাওয়া দাওয়ায় অংশগ্রহণ না করে কয়েকজন মাতব্বর ভিতর বাড়িতে চলে গেলেন,ফিরে আসলেন পাবলিকের খাওয়া শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে।
তারপর একজন শুরু করলেন বিচারকার্য।
মাতব্বর সাহেব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে কাজের কথায় চলে এলেন,
"আপনারা সবাই জানেন মানুষ মাত্রই ভুল করে,আমরা সবাই ভুল করি।আপনারা এটাও জানেন;ভুল করে ক্ষমা চাইলে তাকে ক্ষমা করে দিতে হয়।তবে গ্রামে এরকম অপরাধ যাতে আর না হয় সেজন্য এই ছেলেকে সবার সামনে মাফ চাইতে হবে,তিন হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে।আপনারা সবাই কী বলেন?"
সবাই সমস্বরে বলে উঠলো,"আমরা বিচার মেনে নিয়েছি।"
প্রায় সব সমাজেই এই জিনিসটা আমি চাক্ষুষ করেছি,মানুষের মুখ বন্ধ রাখার জন্য খাবারও ঘুষের মতো কাজ করে।যে কানাঘুষা শুরুতে ছিল তা এখন রীতিমত উৎসবে পরিনত হলো!
যুবকদের একটা অংশ উল্লাসে ফেটে পড়ছে!শাস্তির বিধান দেখে না,এরকম অপরাধের জন্য তিন হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে যদি ফায়দা লুটা যায়,তবে তারা ফায়দা লুটার জন্য প্রস্তুত!একজন তো বলেই বসলো,"ধরা খেলে তো তিন হাজার,না খেলে?"
কয়েকজনের মুখে হায়েনার হাসি দেখতে পেলাম তখন।
তবে সবাই যে খুশি হয়েছে তা না,কেউ কেউ মুখ কালো করে উঠে চলে যাচ্ছে।
ছেলেকে নিয়ে আসা হলো মজলিশে।ছেলে সবার সামনে মাফ চাইলো কান না ধরেই!মেয়েকে কিছুই করতে হলো না।আসলে দুই একজন ছাড়া;মানে যারা হাতে হাতে ধরেছে তারা ছাড়া কেউ জানতামই না মেয়েটা আসলে কে!তাকে আগেই "স্ব-সস্মানে" বাড়িতে পৌছে দেয়া হয়েছে।
আর জরিমানা?যিনি জরিমানা করেছে,তিনি নিজেও জানেন না এই টাকা কোথায় বা কবে পাবেন!
আমি পরে মাতব্বরকে প্রশ্ন করেছিলাম,"ছেলে-মেয়ে দুজনের বিয়ের কথা ছিল-এটা চেঞ্জ করলেন কেন?"
মাতব্বর বলল,"মেয়েটা ভাল,বাপ ব্যাংকে চাকরী করে,তাদের একটা মান ইজ্জত আছে,আর তাছাড়া মেয়ের ভাল ঘরে বিয়ে দিতে হবে,তাই তাকে বাচিয়ে দিলাম।"
মাতব্বর সাহেবের পকেটের দিকে তাকিয়ে আছি দেখে তিনি তাড়াহুড়ো করে চলে গেলেন।যাওয়ার সময় হাত নেড়ে বিরক্তির সুরে বললেন,"এগুলা তোরা বুঝবি না।"
জনাব মাতব্বর,আমি আপনার ফোলা পকেট দেখেই সব বুঝেছি।আরো একটা জিনিস বুঝেছি ছেলেদের কানাঘুষার সময়!আমি হাসান ইমাম স্যারের ছাত্র,"Who is she?" দ্বারা প্রশ্ন করেই এখন বলে দিতে পারি কন্যা কে!
ছাইয়ে কখনো কারো পা পুড়তে দেখেছেন?
না দেখলেও অনেকে শুনেছেন হয়তো।আপনি দেখে বা শুনে যেভাবেই জানুন না কেন,ভুল জেনেছেন!ছাইয়ে কখনো পা পোড়ে না,পোড়ে আগুনে!একে বলে ছাই চাপা আগুন!
সমাজে যেমন চোর বাটপার জন্ম হয় আবার তাদের শায়েস্তা করার জন্য কিছু নীতিবাদী মানুষেরও জন্ম হয়।
যারা উত্তর না জেনেও সূক্ষ্মতর প্রশ্নের মাধ্যমে অপরাধীকে ধরে ফেলেন।হাসান ইমাম স্যার হচ্ছেন তাদের অন্যতম।তিনি হচ্ছেন সমাজের ছাইচাপা আগুন!তার আগুনে শুধু অপরাধীরাই পুড়ে মরে!
শ্রদ্ধেয় হাসান ইমাম স্যার স্কুলের একটা সমস্যার সমাধান করছিলেন।বিষয় হচ্ছে;বাইরের কিছু ছেলে স্কুলের ছেলেদের মেরেছে।সিভিল ড্রেসে এসে আট-দশজনকে মেরে আবার চলেও গেছে।কারনটা বুঝতে পারছি না।স্কুলে প্রায়ই মারামারি হয়;সেই মারামারির কারন থাকে কিন্তু আজকের মারামারির কোন কারন নেই-আমরা ছাত্ররা অন্তত সেই কারন খুজে পাচ্ছি না।অনেক কথার পর স্যার জিজ্ঞেস করলেন,"ঐ ছেলেগুলো এতো সাহস কোথায় পেল,কেন তোমাদের সাথে মারামারি করলো,কার জন্য মারামারি করলো,Who is she?"
মার খেয়েও সেদিন আমাদের হাসি কেউ থামাতে পারেনি।
স্যার বিষয়টা আগে থেকেই জানতেন বলে "কে" দ্বারা প্রশ্ন করে আগেই কর্তাকে চিনে নিয়েছিলেন।আমরা সেই "she" কে অনেক পরে খুজে পেয়েছিলাম!ঘটনাটা সত্যিই "she" জনিত ছিল!
দুইঃ
আমার গ্রামের ছেলেদের শাসন করার দায়িত্ব কেউ না দিলেও মুরুব্বিরা তা কাধে তুলে নিয়েছেন!গ্রামের ইজ্জত রক্ষা বা লুন্ঠন যাই বলি না কেন;তারাই কর্মের প্রধান কর্তা।
যেখানেই তারা মোড়ল সেখানেই শার্টের বুক পকেট ফোলা-গ্রীষ্ম বর্ষা শীত-এই নিয়মটা সব ঋতুতেই তাদের বেলায় প্রযোজ্য।
এবার মজার একটা গল্প বলছি,মন দিয়ে শুনুনঃ
একবার এক ছেলে জঘন্য একটা অপরাধ করেছিল,হাতে-হাতে ধরা হয়েছে,তাকে শাস্তি দেয়া হবে,কঠিন শাস্তি।এ ব্যপারে গ্রামের সবাই একমত।কিন্তু সব সমাজেই রাশিয়া-আমেরিকার মত পার্টী আর এন্টি পার্টী থাকে।
যাহোক যথাসময়ে বিচার কার্য শুরু হলো।শুরুতেই বিস্তর কানাঘুষা শুনতে পেলাম।কী শাস্তি হবে সেইটা নিয়েই মূলত কানাঘুষা।বিচার শালিসে যেমন কানাঘুষা থাকে,তেমনি তাদের থামানোর জন্য মাতব্বর টাইপের লোকও থাকে।
(তার নাম উল্লেখ করছি না)
মাতব্বর দাঁড়িয়ে সবাইকে কায়দা করে থামিয়ে দিলেন।
তিনি বললেন,"আপনাদের অনেকক্ষন বসিয়ে রেখেছি,তাই আগে চা-পান কিছু খেয়ে নেয়া যাক।"
বলা শেষ হওয়ামাত্র শুরু হলো সিগারেট বৃষ্টি,চা-পান ইচ্ছামত।কে এতো কিছুর আয়োজন করেছে তা কেউ জানে না,জানতে চায়ওনা।পাবলিকের পেট ঠান্ডা তো কঠিন গরমেও দুনিয়ায় তখন শীতকাল!
খাওয়া দাওয়ায় অংশগ্রহণ না করে কয়েকজন মাতব্বর ভিতর বাড়িতে চলে গেলেন,ফিরে আসলেন পাবলিকের খাওয়া শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে।
তারপর একজন শুরু করলেন বিচারকার্য।
মাতব্বর সাহেব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে কাজের কথায় চলে এলেন,
"আপনারা সবাই জানেন মানুষ মাত্রই ভুল করে,আমরা সবাই ভুল করি।আপনারা এটাও জানেন;ভুল করে ক্ষমা চাইলে তাকে ক্ষমা করে দিতে হয়।তবে গ্রামে এরকম অপরাধ যাতে আর না হয় সেজন্য এই ছেলেকে সবার সামনে মাফ চাইতে হবে,তিন হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে।আপনারা সবাই কী বলেন?"
সবাই সমস্বরে বলে উঠলো,"আমরা বিচার মেনে নিয়েছি।"
প্রায় সব সমাজেই এই জিনিসটা আমি চাক্ষুষ করেছি,মানুষের মুখ বন্ধ রাখার জন্য খাবারও ঘুষের মতো কাজ করে।যে কানাঘুষা শুরুতে ছিল তা এখন রীতিমত উৎসবে পরিনত হলো!
যুবকদের একটা অংশ উল্লাসে ফেটে পড়ছে!শাস্তির বিধান দেখে না,এরকম অপরাধের জন্য তিন হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে যদি ফায়দা লুটা যায়,তবে তারা ফায়দা লুটার জন্য প্রস্তুত!একজন তো বলেই বসলো,"ধরা খেলে তো তিন হাজার,না খেলে?"
কয়েকজনের মুখে হায়েনার হাসি দেখতে পেলাম তখন।
তবে সবাই যে খুশি হয়েছে তা না,কেউ কেউ মুখ কালো করে উঠে চলে যাচ্ছে।
ছেলেকে নিয়ে আসা হলো মজলিশে।ছেলে সবার সামনে মাফ চাইলো কান না ধরেই!মেয়েকে কিছুই করতে হলো না।আসলে দুই একজন ছাড়া;মানে যারা হাতে হাতে ধরেছে তারা ছাড়া কেউ জানতামই না মেয়েটা আসলে কে!তাকে আগেই "স্ব-সস্মানে" বাড়িতে পৌছে দেয়া হয়েছে।
আর জরিমানা?যিনি জরিমানা করেছে,তিনি নিজেও জানেন না এই টাকা কোথায় বা কবে পাবেন!
আমি পরে মাতব্বরকে প্রশ্ন করেছিলাম,"ছেলে-মেয়ে দুজনের বিয়ের কথা ছিল-এটা চেঞ্জ করলেন কেন?"
মাতব্বর বলল,"মেয়েটা ভাল,বাপ ব্যাংকে চাকরী করে,তাদের একটা মান ইজ্জত আছে,আর তাছাড়া মেয়ের ভাল ঘরে বিয়ে দিতে হবে,তাই তাকে বাচিয়ে দিলাম।"
মাতব্বর সাহেবের পকেটের দিকে তাকিয়ে আছি দেখে তিনি তাড়াহুড়ো করে চলে গেলেন।যাওয়ার সময় হাত নেড়ে বিরক্তির সুরে বললেন,"এগুলা তোরা বুঝবি না।"
জনাব মাতব্বর,আমি আপনার ফোলা পকেট দেখেই সব বুঝেছি।আরো একটা জিনিস বুঝেছি ছেলেদের কানাঘুষার সময়!আমি হাসান ইমাম স্যারের ছাত্র,"Who is she?" দ্বারা প্রশ্ন করেই এখন বলে দিতে পারি কন্যা কে!
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন