বেওয়ারিশ
ঢাকা শহরের কুকুরগুলো খুব বদ, অকারনে ডাকে আর কামড়াতে আসে।তাই মাঝে মধ্যে সিটি কর্পোরেশন বেওয়ারিশ কুকুর ধরতে আসে।গাড়িতে লেখা থাকে "বেওয়ারিশ কুকুর।"
যে কুকুরের গলায় বেল্ট নেই সেটাই-ঠিকান বিহীন- বেওয়ারিশ।নাম ঠিকানা বিহীন মানুষ হয় না কিন্তু কুকুর হয়।তাই সিটি কর্পোরেশনের লোকদের খুব একটা বেগ পেতে হয় না।
একঃ
কত লাথি খেয়েছি জীবনে তার হিসাব নেই।সারাদিন খেটেছি শুধু রাতে একটু আরাম করার জন্য।কিন্তু সাবাই কী আর সুখ পায়?
রাতেও নিস্তার নেই,বাড়ির মালিক যখন ইচ্ছা তখন দোকানে পাঠাতো।রাত ১-২ টা বলে ঢাকায় কোন শব্দ নেই,দোকান খোলা পাওয়া যাবে।একটা করে মশার কয়েল প্রত্যেক দিন কেনা বাবুল মামার একটা বদ অভ্যাস।তার সংসারে কোন কিছুর অভাব নেই-অভাব শুধু মশার কয়েলের!
কিছু মানুষের জন্মই হয় চাকরের ঘারে পা তুলে খাওয়ার জন্য।
থাক,এসব বলে কোন লাভ নেই, আমি চাকর মানুষ আমার কাজ হুকুল তালিম করা,বুদ্ধি দেয়া না।গরীবের মুখে উপদেশ মানায় না।
একই সাথে পাশ প্রাইমারী পাশ করেছি আমি আর শামিম।ভাগ্য দোষে আমি চাকর আর শামিম ইন্ডাস্ট্রির মালিক।উপদেশ দেবে শামিম,আমি কে?
একই বই পড়েছি আমি আর শামিম,বাবুল মামাও মনে হয় পড়েছে।স্যার বলত,"সব মানুষ সমান,মানুষে মানুষে কোন ভেদাভেদ নাই।"
আছে স্যার পার্থক্য আছে,আপনি বেচে থাকলে দেখাতাম পার্থক্য আছে।একজন লাথি মারে আর একজন লাথি খায়-পার্থক্য আছে তো!
ইংরেজিতে খারাপ ছিলাম বলে কতই না মার খেয়েছি স্যারের হাতে।স্যারের হাতের মার আর বাবুল মামার মারের মধ্যে ফারাক আছে।ব্যথা একই লাগে কিন্তু তাও পার্থক্য আছে।
স্যারের মার খেয়েও যদি বুঝতাম ইংরেজি মনেই আভিজাত্য ;তাহলে মনে হয় আমিও আজ বাবুল মামার মত চাকর রেখে বসে বসে খেতে পারতাম।
হাহ!হাহ!হা,এই কে আছিস আমার চা কোথায়?
থাক,চাকর শ্রেনীরা খুব অসহায়।
স্কুল ছাড়বার পর থেকেই একটা জিনিস লক্ষ্য করছি; একটা কথা দুই তিনবার বললেও মানুষ যতটা না মূল্যায়ন করে তার চাইতে বেশি মূল্যায়ন করে একবার ইংরেজিতে বললে।
ইংরেজিতে ধমক দিলেও তার প্রতিধ্বনি বেশি হয়।
প্রশিক্ষণ দিলে একজন মূর্খ লোকও দক্ষ হয়ে ওঠে।পড়াশোনার সাথে ইনকামের কোন সম্পর্ক নেই।ভাল পড়াশোনা মানে যদি বেশি রোজগারের পথা দেখাতো তবে বাবুল মামা এস এস সি পাশ করে কোটি টাকার মালিক হতে পারতো না।
কী সব আবোল তাবোল বকছি,কিছুই তো ঠিক মতো বলতে পারছি না।আরে বলছি কেন,আমি তো শুয়ে শুয়ে ভাবছি।হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে শুয়ে ভাবছি।এতো ভাবনা থাকলে কী আর ঘুম হয়!
একটা মেসেজের শব্দেই ঘুম ভেঙে যায়।হালকা আলোও রাতে সহ্য করতে পারি না।আর যদি কোন কারনে একবার ঘুম ভেঙে যায় সাধনা করেও কোন কাজ হয় না।
আর আমি সেই কী করছি?ঘুম তাড়াচ্ছি?না,তাতো করছি না।আমার ঘুম দরকার।
গরীব বলে কী শান্তিতে ঘুমাতে পারবো না!
এতো চেঁচামেচির মধ্যেও ঘুম আসতে হবে,দিনেও ঘুমাতে হবে।
একটা দুশ্চিন্তাহীন ঘুম মানুষের জন্য খুবই প্রয়োজন।আজ জেগে থাকলে কাল ভাল ঘুম হবে-এই আশায় সারা জীবন কম ঘুমিয়েছি।অহেতুক ঘুমের পিছনে সময় নষ্ট করার মানে হয় না।হেতু ঘুমের পিছে সময় নষ্ট করার মানে আছে।আজ আসবে সেই ঘুম-চিন্তা মুক্ত ঘুম।সারা জীবনের সব ক্লান্তি একবারে চলে যাবে-কারন এই ঘুম ভাংবে না!
"আপনি এখনো ঘুমাননি?"চিন্তার মাঝেই ডাঃজাহিদের ভ্রুকুঞ্চিত প্রশ্ন।
"ঘুম তো আসে না ডাক্তার সাহেব।আচ্ছা আমাকে কী কেউ আজ দেখতে এসেছিল,বাবুল নামে কেউ?"
ডাক্তারঃনা,তাকে খবর দিতে হবে?
"না, দিতে হবে না,দিলেও সে আসবে না।অহেতুক বিরক্ত করে লাভ কী?"
ডাক্তার জাহিদ রোগীলে ঘুমের ইঞ্জেকশন দিয়ে চলে যাচ্ছে আর ভাবছে,জীবনে বহু রোগী দেখেছি,কিন্তু এরকমটা দেখিনি।কী রোগ হয়েছে সেটা পর্যন্ত শুনতে চায়নি।শান্ত স্বরে জবাব দিয়েছে "রোগের নাম জেনে কী হবে,চিকিৎসা তো আর করতেও পারবো না করাতেও পারবো না।তার চাইতে থাক,অসুখের নাম জেনে লাভ নেই।কি কঠিন বানানরে বাবা -উচ্চারণ করতেই দাত ভেঙে যাবে!"
শেষঃ
দুইঃঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন রোগী মারা গেছে।হাসপাতালে রোগী মারা যায়,এটা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার।কিন্তু এই লাশের ঠিকানা নাই,কেউ নিতে আসেনি।আসলে কেউ এই লোকটিকে দিতেও আসেনি-তাই নিতে আসেনি।ডাঃজাহিদ লাশ আজিমপুর কবরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করছে কিন্তু চেঁচামেচি কারনে তার।মনোযোগ অন্য দিকে, তার চোখ আটকে আছে একটা কাভার্ড ভ্যানের দিকে।কিছু লোক একটা কুকুর ধাওয়া করছে।পাশেই সিটি কর্পোরেশনের গাড়ি,তাতে বড় বড় অক্ষরে লেখা "বেওয়ারিশ কুকুর।"
যে কুকুরের গলায় বেল্ট নেই সেটাই-ঠিকান বিহীন- বেওয়ারিশ।নাম ঠিকানা বিহীন মানুষ হয় না কিন্তু কুকুর হয়।তাই সিটি কর্পোরেশনের লোকদের খুব একটা বেগ পেতে হয় না।
একঃ
কত লাথি খেয়েছি জীবনে তার হিসাব নেই।সারাদিন খেটেছি শুধু রাতে একটু আরাম করার জন্য।কিন্তু সাবাই কী আর সুখ পায়?
রাতেও নিস্তার নেই,বাড়ির মালিক যখন ইচ্ছা তখন দোকানে পাঠাতো।রাত ১-২ টা বলে ঢাকায় কোন শব্দ নেই,দোকান খোলা পাওয়া যাবে।একটা করে মশার কয়েল প্রত্যেক দিন কেনা বাবুল মামার একটা বদ অভ্যাস।তার সংসারে কোন কিছুর অভাব নেই-অভাব শুধু মশার কয়েলের!
কিছু মানুষের জন্মই হয় চাকরের ঘারে পা তুলে খাওয়ার জন্য।
থাক,এসব বলে কোন লাভ নেই, আমি চাকর মানুষ আমার কাজ হুকুল তালিম করা,বুদ্ধি দেয়া না।গরীবের মুখে উপদেশ মানায় না।
একই সাথে পাশ প্রাইমারী পাশ করেছি আমি আর শামিম।ভাগ্য দোষে আমি চাকর আর শামিম ইন্ডাস্ট্রির মালিক।উপদেশ দেবে শামিম,আমি কে?
একই বই পড়েছি আমি আর শামিম,বাবুল মামাও মনে হয় পড়েছে।স্যার বলত,"সব মানুষ সমান,মানুষে মানুষে কোন ভেদাভেদ নাই।"
আছে স্যার পার্থক্য আছে,আপনি বেচে থাকলে দেখাতাম পার্থক্য আছে।একজন লাথি মারে আর একজন লাথি খায়-পার্থক্য আছে তো!
ইংরেজিতে খারাপ ছিলাম বলে কতই না মার খেয়েছি স্যারের হাতে।স্যারের হাতের মার আর বাবুল মামার মারের মধ্যে ফারাক আছে।ব্যথা একই লাগে কিন্তু তাও পার্থক্য আছে।
স্যারের মার খেয়েও যদি বুঝতাম ইংরেজি মনেই আভিজাত্য ;তাহলে মনে হয় আমিও আজ বাবুল মামার মত চাকর রেখে বসে বসে খেতে পারতাম।
হাহ!হাহ!হা,এই কে আছিস আমার চা কোথায়?
থাক,চাকর শ্রেনীরা খুব অসহায়।
স্কুল ছাড়বার পর থেকেই একটা জিনিস লক্ষ্য করছি; একটা কথা দুই তিনবার বললেও মানুষ যতটা না মূল্যায়ন করে তার চাইতে বেশি মূল্যায়ন করে একবার ইংরেজিতে বললে।
ইংরেজিতে ধমক দিলেও তার প্রতিধ্বনি বেশি হয়।
প্রশিক্ষণ দিলে একজন মূর্খ লোকও দক্ষ হয়ে ওঠে।পড়াশোনার সাথে ইনকামের কোন সম্পর্ক নেই।ভাল পড়াশোনা মানে যদি বেশি রোজগারের পথা দেখাতো তবে বাবুল মামা এস এস সি পাশ করে কোটি টাকার মালিক হতে পারতো না।
কী সব আবোল তাবোল বকছি,কিছুই তো ঠিক মতো বলতে পারছি না।আরে বলছি কেন,আমি তো শুয়ে শুয়ে ভাবছি।হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে শুয়ে ভাবছি।এতো ভাবনা থাকলে কী আর ঘুম হয়!
একটা মেসেজের শব্দেই ঘুম ভেঙে যায়।হালকা আলোও রাতে সহ্য করতে পারি না।আর যদি কোন কারনে একবার ঘুম ভেঙে যায় সাধনা করেও কোন কাজ হয় না।
আর আমি সেই কী করছি?ঘুম তাড়াচ্ছি?না,তাতো করছি না।আমার ঘুম দরকার।
গরীব বলে কী শান্তিতে ঘুমাতে পারবো না!
এতো চেঁচামেচির মধ্যেও ঘুম আসতে হবে,দিনেও ঘুমাতে হবে।
একটা দুশ্চিন্তাহীন ঘুম মানুষের জন্য খুবই প্রয়োজন।আজ জেগে থাকলে কাল ভাল ঘুম হবে-এই আশায় সারা জীবন কম ঘুমিয়েছি।অহেতুক ঘুমের পিছনে সময় নষ্ট করার মানে হয় না।হেতু ঘুমের পিছে সময় নষ্ট করার মানে আছে।আজ আসবে সেই ঘুম-চিন্তা মুক্ত ঘুম।সারা জীবনের সব ক্লান্তি একবারে চলে যাবে-কারন এই ঘুম ভাংবে না!
"আপনি এখনো ঘুমাননি?"চিন্তার মাঝেই ডাঃজাহিদের ভ্রুকুঞ্চিত প্রশ্ন।
"ঘুম তো আসে না ডাক্তার সাহেব।আচ্ছা আমাকে কী কেউ আজ দেখতে এসেছিল,বাবুল নামে কেউ?"
ডাক্তারঃনা,তাকে খবর দিতে হবে?
"না, দিতে হবে না,দিলেও সে আসবে না।অহেতুক বিরক্ত করে লাভ কী?"
ডাক্তার জাহিদ রোগীলে ঘুমের ইঞ্জেকশন দিয়ে চলে যাচ্ছে আর ভাবছে,জীবনে বহু রোগী দেখেছি,কিন্তু এরকমটা দেখিনি।কী রোগ হয়েছে সেটা পর্যন্ত শুনতে চায়নি।শান্ত স্বরে জবাব দিয়েছে "রোগের নাম জেনে কী হবে,চিকিৎসা তো আর করতেও পারবো না করাতেও পারবো না।তার চাইতে থাক,অসুখের নাম জেনে লাভ নেই।কি কঠিন বানানরে বাবা -উচ্চারণ করতেই দাত ভেঙে যাবে!"
শেষঃ
দুইঃঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন রোগী মারা গেছে।হাসপাতালে রোগী মারা যায়,এটা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার।কিন্তু এই লাশের ঠিকানা নাই,কেউ নিতে আসেনি।আসলে কেউ এই লোকটিকে দিতেও আসেনি-তাই নিতে আসেনি।ডাঃজাহিদ লাশ আজিমপুর কবরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করছে কিন্তু চেঁচামেচি কারনে তার।মনোযোগ অন্য দিকে, তার চোখ আটকে আছে একটা কাভার্ড ভ্যানের দিকে।কিছু লোক একটা কুকুর ধাওয়া করছে।পাশেই সিটি কর্পোরেশনের গাড়ি,তাতে বড় বড় অক্ষরে লেখা "বেওয়ারিশ কুকুর।"
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন