কর্ম

আমার সামনে দুজন লোক বসে আছে,একজন পিতা অন্যজন তার পুত্র।পিতা পুত্র আমার দুর সম্পর্কের আত্মীয়।পিতার বয়স আনুমানিক ষাট থেকে পঁয়ষট্টি আর পুত্রের বয়স মোটামুটি ত্রিশের মতো।তারা দুজনেই বেশভূষায় আধুনিক।তবে পুত্রের চাইতে পিতা বেশ শক্তসমর্থ।
পিতা পুত্রের মাঝে আমি আর পুত্র মহাশয় বেশ লজ্জিত মুখে বসে আছি
পিতা চা পান করছেন আর পুত্রকে ধমকাচ্ছেন।
পুত্র চায়ের পাত্র হাতে নিয়ে চুপ করে বসে আছেন,কোন কথাও বলছেন না চা পানও করছেন না।পিতা ধমকাচ্ছেন আর আমাকে দেখিয়ে দেখিয়ে বলছেন,"ওকে দেখ,সোনার টুকরা ছেলে,কষ্ট করে মানুষ হয়েছে,ঢাকা শহরে থেকে অনার্স পাশ করেছে।আর তুই?প্রাইমারীও পাশ করতে পারলি না,বাপের নাম উজ্জ্বল করতে পারলি না।"
পুত্র এবার কাচুমাচু হয়ে বলল,"আব্বা,পড়া মাথায় না ঢুকলে আমি কী করবো আর আমি তো বসে বসে খাই না,আপনার ব্যবসা ধরে রেখেছি,সুন্দর ভাবে চালাচ্ছি।"

আমি ঠিক এখানেই লজ্জা পাচ্ছিলাম।দীর্ঘশ্বাস ফেললাম,আহারে!তবু তো একটা কিছু করছে,আমি তো কিছুই করছি না,বেকার।বেচারা প্রাইমারী পাশ না করেই ব্যবসা করছে,আর আমি?আবারো দীর্ঘশ্বাস ছাড়লাম,আমি অনার্স পাশ করেও কিছুই করতে পারলাম না,ছি!কী লজ্জা!

পিতা পুত্রের মুখে এহেন কথা শুনে বললেন,"আমি কী তোমাকে ডাকু হতে বলেছি?আমার তো আর কিছু করার ছিল না তাই ডাকাতি পেশা বেছে নিয়েছি।আমি মানুষ হতে পারিনি বলে তোমাকে মানুষ করতে চেয়েছিলাম কিন্তু তুমি?তুমি হয়েছে আমার থেকেও বড় গাধা!আমি তোমাকে এক্সট্রা কিছু বানাতে চেয়েছিলাম!

রাগের চোটে পিতা বেশ খানিকটা চা গলায় ঢেলে দিলেন,সাথে সাথেই কুকড়ে গেলেন।এতোখানি গরম চা গলায় একবারে ঢালা উচিৎ হয়নি।
পিতার এই অযাচিত রাগ দেখে পুত্র ফিক করে হেসে ফেললেন।পরক্ষনেই মুখে হাত চাপা দিলেন।পিতার কটমটে চাহনির সামনে পুত্র জিজ্ঞেস করলো,"কী ধরনের এক্সট্রা আব্বা,নাপা এক্সটার কথা বলছেন কী?"

পিতা এবার আরো রাগান্বিত হয়ে হিসাব চাইলেন,"বলো,কাল রাতে কত কামিয়েছো?"
পুত্র এতক্ষণ জড়সড় হয়েছিল এখন আরো জড়সড় হয়ে গেল,তারপর আস্তে আস্তে বলল,"শীতের রাতে একজন মাত্র খদ্দের পেয়েছিলাম,একটা চাদর গায়ে দেয়া বৃদ্ধ,পকেটে মাত্র দুইশত টাকা ছিল।চাইতেই ভয়ে দিয়ে দিল।কিন্তু বেচারা খুব অসুস্থ,ঔষধ কিনতে যাচ্ছিল খুব মায়া হলো,টাকাটা ফেরৎ দিয়ে দিলাম।"
এই পর্যন্ত বলা হয়েছে মাত্র পিতা গর্জন করে বলে উঠল,"হারামজাদা,সারা জীবন তোকে এইটা শিখিয়েছি?
বলেই পিঠের মধ্যে দিয়ে দিল দুই তিন ঘা!দরজা পুত্রের কাছেই ছিল,আর কিছু ঘা পিঠের উপর পরার আগেই সে দে ছুট!পিতাও পিছন পিছন ছুটছে।
আমি আবারো দীর্ঘশ্বাস ফেলে বাকি চা টুকুতে চুমুক দিলাম,আহারে তবুও তো একটা কিছু করছে!

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

উচিৎ শিক্ষা

দর্শনঃমোল্লা নাসিরুদ্দিনের ফুঁ

বাঘা বাতাস