সুষম বন্টন

                (লেখকের নাম পাওয়া যায়নি)

একবার জংগলে খুব খাবার অভাব দেখা দিলো।শিয়াল শকুন থেকে বনের রাজা সিংহ পর্যন্ত না খেয়ে দিনাতিপাত করতে লাগলো।কিন্তু এভাবে আর কতো দিন।না খেয়ে একদিন দুইদিন থাকা যায়-সপ্তাহ তো আর পার করা যায় না।এই চিন্তা করে রাজা মহাশয় সিংহ ক্লান্ত ভঙ্গীতে হাটছিল,পথে দেখা আরেক শিকারী চিতা বাঘের সাথে।চিতা বাঘও না খেতে পেয়ে শুকিয়ে গেছে।রাজা মহাশয় সিংহ চিতাকে ডাক দিতে যাবে এমন সময় হাজির বিজ্ঞ পন্ডিত শিয়াল।তার অবস্থাও ভাল না।শিয়াল দুই শিকারী দেখে যে ভয়ে দৌড় দেবে সে শক্তি তার নেই,আবার তাকে ধরে যে খেয়ে ফেলবে সে শক্তিও রাজা মহাশয় সিংহ বা চিতার নেই।তারা সবাই সবার মনের অবস্থা বুঝতে পারলো।বুঝে চিতা রাজা মহাশয় সিংহের অনুমতি নিয়ে শিয়ালকে জিজ্ঞেস করলো,"তাহলে এখন কী করা যায় পন্ডিত,না খেয়ে তো মরে গেলাম।শিকার করার শক্তিওতো হারিয়ে যাচ্ছে।বিজ্ঞ পন্ডিত শিয়াল ক্ষুধায় কাতর হলেও বুদ্ধি হারায়নি।সে বলল,"আসুন,আমরা তিনজনে মিলে একটা কিছু শিকার করি।"বুদ্ধিটা সিংহের ও চিতার মনে ধরলো।যেই ভাবা সেই কাজ।তারা অনেক খুজে প্রথমে একটা খরগোশ শিকার করলো,তারপর করলো একটা হরিণ সবশেষে শিকার করলো একটা আস্ত হাতি।
এবার বন্টনের পালা।রাজা মহাশয় সিংহ চিতাকে ডেকে বললেন,"চিতা,এবার তাহলে বন্টন করো,সুষম বন্টন।"
চিতা বললো,"শিয়াল পন্ডিত খরগোশটা খেয়ে নিক,আমি হরিণ খাই আর আপনি রাজা মহাশয় হাতিটা খেয়ে নিন।"
রাজা মহাশয়ের শুনতে যা দেরি,সাথে সাথেই উঠে চিতাকে মারলো এক লাথি।চিতা ফুটবলের মতো পড়লো গিয়ে অনেক দূরে।ফুটবলের মতো লাথি খেয়ে চিতা পালিয়ে গেলো,ফিরে আসার সাহস করলো না।
রাজা মহাশয় সিংহ এবার সুষম বন্টনের দ্বায়িত্ব দিলেন শিয়াল পন্ডিতকে।শিয়াল পন্ডিত অবস্থা বেগতিক দেখে বন্টন করলো এভাবে,"রাজা মহাশয় সিংহ, খরগোশটা আপনি খাবেন সকালে,হরিণটা দুপুরে আর হাতিটা খাবেন রাতে।"
রাজা মহাশয় সিংহ শিয়াল পন্ডিতকে বললেন,"তুমি এতো সুন্দর সুষম বন্টন শিখলে কিভাবে!"
শিয়াল পন্ডিত বলল,"একটু আগে আপনার ফুটবল খেলা দেখে!"

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

উচিৎ শিক্ষা

দর্শনঃমোল্লা নাসিরুদ্দিনের ফুঁ

বাঘা বাতাস