সহজাত প্রবৃত্তি,নাকি নির্দেশ?




 সহজাত প্রবৃত্তি বলতে কি বোঝায়?প্রাণীদের জীববৃত্তি বা মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিকে কী সহজাত প্রবৃত্তি বলে?সদ্যজাত শিশু বা প্রাণীর তো কোন বুদ্ধিবৃত্তি নেই!
তাহলে?

নাকি মানুষ বা প্রাণীর মনের অজান্তে ঘটে যাওয়া কোন নির্দেশকে সহজাত প্রবৃত্তি বলে?দর্শন,মনোবিজ্ঞান বা ধর্ম শাস্ত্র যাই বলেন'না কেন;এই নির্দেশ  বিষয়টা কিন্তু অত্যন্ত জটিল।

ধরা যাক,

একজন মানুষ তার সম্পূর্ণ স্মৃতি শক্তি হারিয়ে ফেলেছে।কাউকে চিনতে পারছে না।তার মস্তিষ্ক একদম ফাকা,সাদা কাগজের মত।তিনি কিন্তু এই অবস্থাতে সাথে সাথেই কথা বলতে পারেন।
তাহলে সব কিছু মুছে যাওয়া সত্ত্বেও তিনি কিভাবে কথা বলতে পারেন?যে ভাষা শিখতে তার অন্তত দুই বছর লেগেছে সেই ভাষাতেই তিনি কিভাবে কথা বলছেন?
ফাকা মস্তিষ্কে ভাষা আসলো কোথা থেকে?

আমি একজনক মহিলাকে বিজ্ঞানভিত্তিক একটা চ্যানেলে দেখেছি, যিনি স্মৃতিভ্রষ্ট হওয়ার পর মাতৃভাষা ইংরেজি ভুলে বিশুদ্ধ স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলছে।তিনি জীবনে কোন দিন স্পেন যান'নি,এমনকি স্প্যানিশ ভাষা বলা তো দুরের কথা,কোনদিন শিখতে পর্যন্ত চেষ্টা করেন'নি!
তাহলে এমন অদ্ভুত কান্ড কেন ঘটলো?শূন্য মস্তিষ্ক থেকে সম্পূর্ণ অজানা এই কথা বলার সফলতা কিভাবে সম্ভব? এই নির্দেশ আসে কোথা থেকে?

অপরিপক্ব বা ফাকা মস্তিষ্কে এই নির্দেশ কোথা থেকে আসে আমি জানিনা।তবে এটা জানি মানুষ বা অন্য প্রাণী প্রকৃতি বা  আশেপাশের চরিত্র থেকে আচরন রপ্ত করে।মনোবিজ্ঞানে এটা প্রমানিত সত্য।

মনোবিজ্ঞানের এই সত্য মেনে নিলে বলতে বাধ্য হচ্ছি;তাহলে আচরন রপ্ত করার আগেই মস্তিষ্ক প্রস্তুত অবস্থায় থাকে!তা না হলে সহজাত প্রবৃত্তি নামক শব্দের জন্মই হতো না।কারন "রপ্ত"-নামক বিষয়টাই তাকে আসলে শেখাচ্ছে।এটাই সমগ্র বুদ্ধিবৃত্তির বৃত্ত।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে কে করে দেয় এই প্রস্তুতিটা?"রপ্ত" নামক বিষয়টাকে গেথে দিল প্রাণী মস্তিষ্কে কে?

আরো ধরা যাক,

একটি শিশু জন্মের পরপর কান্না করছে।সব ধরনের পশু-পাখি জন্মের পর এক ধরনের শব্দ করে।তাকে কিন্তু কেউ শিখিয়ে দেয়নি এই আওয়াজটা করতে, তাহলে সে কোথা থেকে নির্দেশ পেলো এই  কান্না বা শব্দ করার?

আরো একটা বিষয় খেয়াল করে দেখবেন একটা পাখির ছানাও কিন্তু জন্মের পর খাবার জন্য হা করে।মস্তিষ্কে কিছু না থাকা সত্ত্বেও সে হা করার নির্দেশ পাচ্ছে কোথা থেকে?যেখানে সব ধরনের শারিরিক বা মানষিক কাজের নির্দেশ আসে মস্তিষ্ক থেকে!
মনোবিজ্ঞান তো তাই বলে।

মানব শিশু বা প্রাণী,প্রত্যেকেই কিছু বিষয় কারো কাছ থেকেই শিক্ষা নেয়'না,তার পরেও তারা এগুলো প্রথম বারেই করে ফেলে।এটাকে দর্শনে সহজাত প্রবৃত্তি বলে।এটা প্রাণীদের প্রথম আচরন বা ধারনা।


তাহলে এই প্রথম ধারনা বা সহজাত প্রবৃত্তির জন্ম কোথা থেকে?
এত বড় একটা ধারনা যা সব ধরনের প্রাণীর মধ্যেই এক!
বিস্মৃত এই চেতনা এমনি এমনি প্রকৃতির খেয়ালে গড়ে উঠেছে একথা পাগলেও বিশ্বাস করবে না,কেননা তাহলে পৃথিবীর কোথাও না কোথাও একটা পার্থক্য দেখা যেতো।কিন্তু পার্থক্য দেখা যায়নি।
তাহলে?

উত্তরটা আছে সৃষ্টকর্তার মাঝে!যিনি নিজেই প্রথম ধারনা।এটা এখন শুধু বিশ্বাসের ব্যাপার নয় যে আমরা সৃষ্ট,আমরা চালিত।
আমাদের প্রত্যেকের প্রথম ধারনাই একটা নির্দেশ,এটা এখন প্রমাণিত!
কেননা আমরা নিজেদের মাঝ থেকেই প্রথম আচরন বা শব্দ তৈরির ক্ষমতা খুজে পাইনি!


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

উচিৎ শিক্ষা

দর্শনঃমোল্লা নাসিরুদ্দিনের ফুঁ

বাঘা বাতাস