খাইখাই



                               মোঃসিফাত হোসেন




প্রত্যেক সমাজেই কিছু মানুষ থাকে যারা নিজেকে খুব চালাক মনে করে।চালাকির মাত্রা যাচাই করার জন্য যদি কোন মিটার থাকতো তবে তারা চোখ পাকিয়ে বলতো এই মিটারে গণ্ডগোল আছে।যদি বলি স্যার এটা তো মেড ইন জাপান।উত্তরে তিনি বলতেন আজকাল ভাল জিনিস বাজারে পাওয়া যায় না।

চেয়ারম্যান সাধারণত গম চুরি করেন না,যা করেন তা হলো প্রত্যেকের কাছ থেকে দুই কেজি মত রেখে দেন।এটাকে চুরি বলে না,বলে হিসাব।এজন্য ইউনিয়ন পরিষদকে পরিসংখ্যান বিদ্যার স্কুল বলতে পারেন আপনি।

আলি বাবা সাহেব সেইরকম একটা স্কুলের চেয়ারম্যান।উনি নিজে মনে করেন,কষ্ট করে নির্বাচিত হয়েছি বেতন দেয় কয় টাকা!নিজের খরচ উঠাতে গেলে কিছু নিজের কাছে রেখে দিলে সমস্যা নাই,সবতো নিজেদেরই!

একজন লোক এসেছেঃ
"চেয়ারম্যান সাহেব,আমার একটা চারিত্রিক সনদপত্র দরকার।"
চেয়ারম্যানঃ"নিয়ে যান।"
চেয়ারম্যান সাহেব সব সময় নিজে চারিত্রিক সনদপত্র প্রদান করেন।

নতুন মেম্বার জিজ্ঞেস করলেন,"স্যার সম্মানীর গম দিয়ে কী করবেন?"
চেয়ারম্যানঃ"আমার ছেলে খাবে,আপনিও কিছু নিয়ে যান।"
মেম্বারঃ"ইয়ে,মানে,স্যার এত খেলে যদি কলিজা,কিডনি,ফুসফুস সব অচল হয়ে যায়?"
চেয়ারম্যানঃ"কি বললেন!"
মেম্বারঃ"না,মানে আমি আমার কথা বলছিলাম,আপনার ছেলের নয়।"
চেয়ারম্যানঃ"ও আচ্ছা।"
মেম্বারঃ"সচিব কিছু বলবে না?"
চেয়ারম্যানঃ"যে লোক ২০ টাকা ঘুষ খায় তাকে ২০০ টাকা দিলে ইউনিয়ন পরিষদ আপনাকে লিখে দেবে।"
মেম্বারঃ"দারুন কথা বলেছেন বটে।"

কিছুদিন পরঃ

চেয়ারম্যান সাহেব তার ছেলেকে নিয়ে মহা বিপদে আছেন।ছেলে পরে ক্লাস সেভেনে,মাথার অবস্থা খুব খারাপ।এইটা আসল সমস্যা না,সমস্যা ছেলেটা অতিরিক্ত খায়।ফলাফল;ওজন ৯৬ কেজি।
কোথাও দাওয়াতে গেলে খেতে খেতে অসুস্থ হয়ে যায়,কিন্তু খাওয়া বন্ধ হয় না।হাসপাতালে ছেলেটার শার্টের পকেটে একবার দুই টুকরা গরুর মাংস পাওয়া গিয়েছিল,তবুও দমেনি।

এজন্য অবশ্য চেয়ারম্যান সাহেব নিজেই দায়ী,তিনিই ছেলেকে খাওয়া শিখিয়েছেন।

ডাক্তার ছেলেকে পরামর্শ দিয়েছে দুই বেলা দুটো পাতলা রুটি খাওয়ার জন্য।পরিসংখ্যান বিদ্যার স্কুলের চেয়ারম্যান সাহেবের মহা খাদক ছেলে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করেছিল,
"স্যার,আমি কি খাওয়ার আগে রুটি খাবো,নাকি খাওয়ার পরে!"


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

উচিৎ শিক্ষা

দর্শনঃমোল্লা নাসিরুদ্দিনের ফুঁ

বাঘা বাতাস