প্রাগৈতিহাসিক
এপোক্যালিপটো মুভিতে এজটেক সভ্যতার যে বিভৎস মানব হত্যা দেখানো হয়েছে,তাতে আমি রোমাঞ্চিত হয়নি,হয়েছি ভীত।মুভিতে যে ভয়াবহতা উপলব্ধ করেছি,বাস্তবে যে তা কতটা ভয়াবহ ছিল;তা আর ভাবতে চাই না।কারন এজটেকরা বাস্তবে এরকমভাবে মানুষ হত্যা করতো।
মুভিতে দেখানো হয়েছে; রাজার সামনে জীবন্ত বন্দীর হৃদপিন্ড ধারাল অস্ত্র দিয়ে বুক চিড়ে বের করা হচ্ছে।বের করে তা আগুনে পোরানো হচ্ছে,যা খাবে রাজা আর রাজার পুত্ররা,ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে তাতে তারা হবে শক্তিধর!
বন্দী মানুষটা তখনো মারা যায়নি,ছটফট করছে,চারজন ব্যক্তি তাকে শক্ত করে ধরে রেখেছে।তখন ভয়ানক দর্শন একজন জল্লাদ বন্দীর মাথা এককোপে কেটে দিল।মাথা সিঁড়ি দিয়ে গড়িয়ে নামছে,নিচে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের মধ্যে যে ধরতে পারবে মাথা তার,আর দেহ সাধারন জনগোষ্ঠীর।
কত ভয়াবহ ব্যাপার!তাইনা?
তারা বর্বর ছিল, কারন তারা কুসংস্কারাচ্ছন্ন ছিল।ধর্ম বলতে তখন ছিল শুধু রাজার গোলামী করা।চাষা বা বন্দীর জীবন বিষয়টা রাজা বা সম্পদশালীদের কাছে তখন ছিল অতি নগণ্য!একটা খেলনা ভেঙে ফেলার চাইতেও নগন্য!
এপোক্যালিপটো মুভির শেষ দৃশ্যে দেখা যায় বৃটিশরা খুনি ও অসভ্য জাতি এজটেকদের ধ্বংস করার জন্য চলে আসে।তাদের ক্ষমতা ও যোগ্যতার বলে ধীরেধীরে পৃথিবী সভ্য সমাজের দিকে যাত্রা করে।
বর্তমানে ইংলিশরা এই জঘন্য প্রথাটার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে সমর্থ হয়েছে।
গ্রেট বৃটেন তাদের দেশে মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ করেছে।
বর্তমান সভ্যতায় বিভিন্ন দেশে মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ। মানবাধিকার সংস্থাগুলো গলা ফাটিয়ে ফেলছেন মৃত্যুদণ্ড বিষয়টা সারা বিশ্বে বন্ধ করার জন্য।
যুগে যুগে সভ্যতা উন্নত হয়েছে।
তার পরেও কি থেমে থেকেছে তাদের অবৈধ কুট কৌশলের হত্যা- যুদ্ধ ?আইন করে দেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে মৃত্যুদণ্ড,কিন্তু তাদের গুলিতে বা বোমায় মানুষ হত্যা কি থেমে গেছে?সভ্য সমাজের মানুষ হিসেবে নিজেকে দাবী করে তারা কি থেমে থেকেছে সেই এজটেকদের মত খুন করা থেকে?
অনেক ব্রিটিশ-আমেরিকান যুদ্ধের নামে চুরি করে দেশের জাতীয় বীর খেতাব লাভ করেছে,নৃত্যের তালে তালে নেচেছে,করেছে আকন্ঠ মদ্যপান।
এজটেকরা কুসংস্কারাচ্ছন্ন ছিল বলে মানুষ বলি দিয়ে তাদের মাংস খেতো।সভ্য সমাজীরা মানুষ খুন করে খায় মদ!
সিস্টেম পরিবর্তন হয়েছে, জাতিতে খুনিই রয়ে গেছে নামধারী সভ্য সমাজের ওই মানুষগুলো।নিজের পোষাক আর ভাষা পরিবর্তন করেছে কিন্তু চিন্তায় সেই প্রাগৈতিহাসিক আর বর্বর-ই রয়ে গেছে।
প্রাচীন মানুষেরা লজ্জা নিবারণের জন্য ব্যবহার করতো গাছের ছাল-পাতা।
তখন লজ্জা নিবারিত হয়েছিল,এখন পোশাক পড়েছি,লজ্জা নিবারিত হয়নি।
আমরা সভ্যজাতি but প্রতিনিয়ত অসভ্য বীজ বপন করে চলেছি।এভাবেই এক সভ্যতাকে পিছনে ফেলে তৈরী করছি আরেক নতুন সভ্যতা কিন্তু চরিএ প্রায় একই রয়েগেছে।শেষ কোথায়???
উত্তরমুছুনশিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড।আপনি যদি আপনার সন্তানকে চারিত্রিক শিক্ষা না দেন,তবে সে সরীসৃপের মত হাটবে।এটা আপনার দোষ,এর কোন শেষ নেই।
উত্তরমুছুনসভ্যতার মেরুদন্ড তৈরী করে শিক্ষক। আজ কাল তো শিক্ষকদের কেই অমেরুদন্দী প্রাণী মনে হয়।
উত্তরমুছুন"আমাদের দেশে সেই ছেলে হবে কবে?"না হয়ে হবে, "আমাদের দেশে হবে সেই শিক্ষক কবে?"
উত্তরমুছুন