বিদ্যা বিসর্জন

শিক্ষা ক্ষেত্রে কিছু সিস্টেম আছে যা বোকা বোকা কিন্তু তা বুঝতে পারার মতো মেধা আমার নেই। আবার বুঝতে পারলেও অনকে সময় করার কিছু না থাকায় গাধা হয়ে থাকতেই বেশি ভালো লাগে!

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমাকে একটা সার্টিফিকেট ধরিয়ে দিয়েছে, যা দেখিয়ে আমি এককাপ চা-ও পান করতে পারিনি! সম্মান পরিক্ষায় জয়ী হয়েও আমাকে বারবার প্রমান করতে হচ্ছে আমি পূর্বে সম্মানিত ছিলাম, জয়ী হয়েছিলাম। মোবাইলের মিনিট কেনার মতো করে সার্টিফিকেটের মেয়াদ বাড়ানোর মতো ঘটনা!

বিশ্ববিদ্যালয় মানে বিশ্ব মানের কিছু। কিন্তু শিক্ষক নিবন্ধন পরিক্ষা দিয়া প্রমান পাইলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনার মান হাইস্কুলের চাইতে খারাপ! বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে হাইস্কুলের শিক্ষক উপযোগী করতে ব্যর্থ হয়েছে, যা আমাকে পরিক্ষা দিয়া বারবার প্রমান করতে হচ্ছে। এটাও প্রমান করতে হচ্ছে- আমি স্কুলের শিক্ষক হিসেবে অযোগ্য! অথচ আমি কিছু একটার যোগ্য হওয়ার জন্য পড়াশুনা শুরু করেছিলাম।

কর্তৃপক্ষ আমাকে কিসের সার্টিফিকেট দিলো তা ভেবে পাচ্ছি না। তাই আমি আবার হাইস্কুলে ভর্তি হতে চাই, এটা জানার জন্য যে সার্টিফিকেট ছিঁড়ে ঝালমুড়ি খাওয়া যাবে কি-না!

আরো একটা একটা জিনিস আমি বুঝতে পারি না, টেস্টিমোনিয়াল নামক একখণ্ড কাগজ প্রদান করা হয়েছে আমাকে। এর মূল্য কোথায় তা জানতে পারিনি। হাইস্কুলের কাসেম স্যার জানতে পারেন, তাকে জিজ্ঞেস করে দেখতে হবে।

আমাকে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানও একটা চারিত্রিক সনদপত্র প্রদান করেছেন।।যার নিজেরই চরিত্রের ঠিক নাই তিনি নাকি আবার চারিত্রিক সনদপত্রদেন।তার চারিত্রিক সনদপত্র তার মতই, যা চোর আর আমার মধ্যে কোন পার্থক্য করতে পারে না!


অনার্স পাশ করেও আমাকে যে প্রশ্নটি রেহাই দেয়নি তার নাম অভিজ্ঞতা। অভিজ্ঞতাবাদ সম্পর্কে লিখতে লিখতে কলম ভেঙেছি, খাতা ছিঁড়েছি- লাভ হয়নি কিছুই। যেখানেই গিয়েছি সেখানেই প্রশ্ন, "আপনার অভিজ্ঞতা কত বছরের?"
উত্তরে সবখানে বলেছি, "চব্বিশ বছরের।"
প্রশ্নকর্তা বরাবর অবাক হয়ে পালটা প্রশ্ন করেছে, "ইয়ার্কি মারছেন, আপনার বয়স তো ছাব্বিশই পার হয়নি!"

আমি বলেছি, "ইয়ার্কি আমি মারবো কেন, ইয়ার্কি তো মারছেন আপনি। যারা পড়ায়; পড়ালে তাদের অভিজ্ঞতা বাড়ে, তাহলে চব্বিশ বছর ধরে সেই একই শ্রেণীর ব্যক্তিদের কাছে পড়ে আমার অভিজ্ঞতা শূন্য তা আপনাকে কে বলল? পড়াশুনার নাম কি অভিজ্ঞতা নয়?"
আর কোন প্রশ্ন করেনি, সোজা বের করে দিয়েছে!

এ নিয়ে আর তর্ক নয়, কেননা যুক্তি বিদ্যা পড়ে বুঝেছি এরিস্টটল নিছক সময় কাটানোর জন্য যুক্তিবিদ্যা আবিষ্কার করেছিলেন! বেচে থাকলে আমিও তার সাথে সময় কাটাতাম!

"আচ্ছা এরিস্টটল মশাই, যুক্তিবিদ্যা কী বলে; আমাকে প্রমান করার জন্য সার্টিফিকেট, সার্টিফিকেট প্রমান করার জন্য নম্বর পত্র, নম্বর পত্র প্রমান করার জন্য টেস্টিমোনিয়াল, টেস্টিমোনিয়াল প্রমান করার জন্য কি আবার আমি?"
এরিস্টটলঃ ঘাট হয়েছে যুক্তিবিদ্যা আবিষ্কার করে, মাফ করে দে!
"আচ্ছা; দিলাম।"

দুইঃ

হাইস্কুলে নতুন করে পড়তে চাওয়ার একটা কারন আছে। কাসেম স্যারের বলা বহুদিনের পুরনো একটা গল্পের সাথে আমাদের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার একটা মিল খুজে পাচ্ছি।

আমাদের বিজ্ঞান ক্লাসের শিক্ষক ছিলেন কাসেম স্যার। পড়া না পাড়লে তিনি কখনোই মারধোর করতেন না, তবে গল্পের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিতেন আমাদের অবস্থা কতটা খারাপ।

তিনি একবার খুব সহজ একটা বিষয় পড়াচ্ছিলেন।
বিষয়ঃ আহ্নিক গতির কারনে কিভাবে রাত দিন হয়?
স্যার গ্লোব টেবিলে রেখে মোমবাতি জ্বালিয়ে সুন্দর করে আহ্নিক গতি ব্যাখ্যা করলেন। সবাই বুঝেছি, কিন্তু সব ক্লাসেই ছত্রাক থাকে। এরকম এক ছত্রাক গো ধরে রইলো। সে অহেতুক তর্ক জুড়ে দিলো স্যারের সাথে।
গাধাদের ব্যাপারটা আমরা না বুঝলেও স্যারেরা কিন্তু ঠিকই বুঝেন।

স্যার তার অভ্যাস মতো গল্প শুরু করলেন। কাসেম স্যার প্রচুর পান খেতেন, যার কারনে তার মুখ ভরে কথা বেড় হতো; আর তিনি কিছুটা টেনে টেনে কথা বলতেন। তাই তার কথা শুনে মনে হয় বেশ ভারিক্কি আবার কিছুটা হাস্যকর।

"এক গ্রামে এক বাবা অতি জ্ঞানী ছেলে দেখে মেয়ে বিয়ে দিয়েছে। কিন্তু মেয়ের বাবার মনে শান্তি নেই। ছেলে অত্যন্ত জ্ঞানী। সারাদিন শুধু প্রশ্ন করে আর জানতে চায়। শ্বশুরের অবস্থা বেগতিক।

শ্বশুর আনতে গেছে জামাইকে নৌকা করে। জামাই বাবাজি গভীর ধ্যানে নদী লক্ষ্য করছেন। এক সময় সে শ্বশুর মশাইকে টেনে টেনে প্রশ্ন করলো, "আব্বা, ও আব্বা, এই যে এত বড় নদী- এর মাটি গেলো কই?"
শ্বশুরের এমনিতেই মেজাজ খারাপ ছিল তারপরেও জোর করে মুখে হাসি টেনে বলল, "আব্বা, এখানে মাত্র দুই কোদাল মাটি ছিল।"
জামাই অবাক হয়ে বলল, "মাত্র দুই কোদাল, আচ্ছা তাই বা গেল কোথায়?"
শ্বশুরঃ এক কোদাল আমি খেয়েছি, আর এক কোদাল খেয়েছে তোমার মা। আমি খেয়েছি তোমার কাছে মেয়ে বিয়ে দিয়ে, আর তোমার মা খেয়েছে তোমার মতো গুণধর পুত্র জন্ম দিয়ে!
জামাইঃ তাতেই এত বড় নদী হয়ে গেল আব্বা!
শ্বশুরঃ জে আব্বা, তাতেই কাম হয়ে গেল।
জামাইঃ তাহলে তো আপনি আর মা মিলে আমাদের এলাকায় একটা নদী বানিয়ে দিতে পারেন, মাঝেমধ্যে নৌকা চালাতে পারতাম।
শ্বশুরঃ (মনে মনে) মাটি মনে হয় আরেক কোদাল খাইলাম!

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

উচিৎ শিক্ষা

দর্শনঃমোল্লা নাসিরুদ্দিনের ফুঁ

বাঘা বাতাস