সভ্যতার মনস্তত্ত্ব :কিছু প্রশ্ন ও সমাধান

                      
                      মোঃসিফাত হোসেন


সভ্যতার শুরু কোথা থেকে?
এই প্রশ্নের উত্তর হাজার খানেক।বৈজ্ঞানিক গবেষনায় এরকম অনেক প্রশ্নের সমাধান হয়েছে,এখনো হচ্ছে।

প্রাচীন পৃথিবীর ইতিহাস  এতটাই বিস্তৃত  ছিল যে,এখনো অনেককিছু  আবিষ্কার হচ্ছে।এই আবিষ্কার বর্তমান বিশ্বকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।তার পরেও আমরা সামান্যই জেনেছি,সবকিছু জানতে পারিনি।কারন আমাদের জানার মাধ্যম খুবই সীমিত।

সীমিত জ্ঞান সত্যেও সবাই একবাক্যে যে কথাটা স্বীকার করবেন  তা হলো; সভ্যতার শুরু হয়েছে আগুন নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে।আর প্রাচীন পৃথিবীর সবচাইতে বড় আবিষ্কার ছিল চাকা।তারপর তারা বিভিন্ন সময়ে অনেক কিছুই আবিষ্কার করেছে,যার সম্পর্কে আমরা সবে মাত্র জানতে পেরেছি।বিভিন্ন ঐ সময়গুলোকে গবেষকরা নাম দিয়েছেন সভ্যতা।

সভ্যতার প্রথম মানুষ কে?
এর উত্তর হয়তো কেউ জানেনা,তবে পৃথিবীর প্রথম মানুষ হিসেবে আদম (আঃ) কে বেশিরভাগ মানুষই স্বীকার করে।তারা এটাও স্বীকার করে তিনি স্বর্গ থেকে এসেছিলেন।তার আগমনের স্থান,পুত্র ও পরিবার সম্পর্কে অনেক ধর্মগ্রন্থে বলা হয়েছে।
ইসলামি মত অনুসারে আদম (আঃ) এর পুত্র শীস (আঃ) এর উপর পঞ্চাশটি গ্রন্থ নাজিল হয়েছিল।
এর মানে দাড়াচ্ছে পৃথিবীর প্রথম মানব জাতি পড়তে জানতো।
 তাহলে প্রশ্ন আসতেই পারে স্বর্গ থেকে আগত মানুষের সন্তানকে আবার কেন নতুন করে পড়া শিখতে হলো?কেন তারা শিক্ষা থাকা সত্ত্বেও  গুহাচারী হয়ে গেল?
আদম (আঃ) সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকেই তো শিক্ষা পেয়েছিলেন,তাহলে,যে সভ্যতা ছিল; তাকে কেন নতুন করে নামকরণ করা হলো,তাহলে কেনইবা যে ইতিহাস ছিল;তাকে আবার জন্ম নিতে হল?

বাইবেলের এডাম বা কোরানের আদম (আঃ) সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে জ্ঞান প্রাপ্ত ছিল,আল্লাহতায়ালা স্বয়ং নিজে তাকে জ্ঞান দান করেছেন।তাহলে এটা অনুমান করা যায় তিনি অন্তত আগুনের ব্যবহার জানতেন।
আমি এটা বিশ্বাস করবো'না,যারা পড়তে পারার মত জ্ঞান অর্জন করেছিল তারা আগুনের ব্যবহার জানতো'না।
তাহলে কিভাবে সভ্যতার প্রথম শিক্ষা আগুন নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে হলো?
পৃথিবীর প্রথম মানুষ আগুনের ব্যবহার জানলে কেন পরবর্তি প্রজন্মের মানুষকে আগুনের ব্যবহার শিখতে হল নতুন করে?কেন মানুষ গুহা থেকে বেড়িয়ে সাথে সাথে আগুন জ্বালাতে পারলো'না?

(বিঃদ্রঃএই  মনস্তত্ত্ব একান্ত আমার ব্যক্তিগত।আমার মনস্তত্ত্ব কারো চিন্তার সাথে নাও মিলতে পারে।)

উত্তর হচ্ছে মহাপ্রলয়।এই প্রলয় হয়েছিল বাইবেলে বর্নিত নোয়া বা কোরানে বর্ণিত নূহ (আঃ) এর সময়ে।এই মহা বিপর্যয় সম্পর্কে সব বিজ্ঞানীই একমত হয়েছেন,তারা স্বীকার করে নিয়েছেন;ভয়াবহ এক প্রাকৃতিক বিপর্যয় একসময় হয়েছিল এবং ভবিষ্যতেও হতে পারে।

নূহ (আঃ) এর সময়ের মহাপ্রলয় মানুষকে বাধ্য করেছে সব কিছু নতুন করে শুরু করতে।সেসময় তারা সব কিছু জানলেও করার মত কিছু ছিলনা।তখন পৃথিবীর প্রায় অধিকাংশ স্থলভাগই পানিতে নিমজ্জিত ছিল।
এখানেই মানুষ তাদের প্রযুক্তি হারিয়ে ফেলেছিল।যার কারনে বিজ্ঞান আজো প্রাচীন পৃথিবীর কোন নিদর্শন পেলে অবাক হয়ে যায়।

তার মানে দাঁড়াচ্ছে প্রলয়ের পুর্বে মানুষ যা প্রযুক্তি অর্জন করেছিল তা প্রলয়ের পরে আবার প্রথম থেকে শুরু করতে হয়েছিল।প্রলয়ের শেষে তারা বাধ্য হয়েছিল গুহাচারী হতে।
গুহা থেকেই মূলত আমাদের সভ্যতার যাত্রা শুরু।

ভেবে দেখুন; যদি পৃথিবী থেকে সব কম্পিউটার বিলুপ্ত হয়ে যায়, তবে একজন কম্পিউটার প্রকৌশলীর কী করার থাকতে পারে?
তার কাছে নতুন একটি কম্পিউটার তৈরি করা শুধু কষ্টকর নয়, অসম্ভব।তারমানে কম্পিউটার নামটাও পৃথিবী থেকে বিদায় নিলো।

স্বভাবতই কোন কিছু বিলুপ্ত হয়ে গেলে তার পুরোটা উদ্ধার করা যায়না।
নূহ (আঃ) এর সময়, পুর্বে ও পরে প্রযুক্তিবিদ থাকলেও তারা গুহাচিত্র অংকন ছাড়া আর কিছুই করতে পারেনি,তাদের সাথে সাথে অজানা অনেক প্রযুক্তিও হারিয়ে গেছে।যার কারনে সভ্যতার ইতিহাস আবার লিখতে হয়েছে।

আমি এখন বলতে চাই মানুষের সভ্যতা আসলে শুরু হয়েছে মানব আগমনের সমান্তরালে।
ভবিষ্যতে যদি কোনদিন এরকম  প্রাকৃতিক বা মনুষ্য ঘটিত সমস্যা তৈরি হয় তবে আমাদের ইতিহাস ও সভ্যতা হারিয়ে যাবে,আমরা তখন বাধ্য হয়ে গুহাচারী হয়ে যাব।পুর্বের সবকিছু চিরতরে হারিয়ে যাবে।আমরা পাথরে বা চামড়ায় নিজেদের সম্পর্কে লিখে যাব,যারা আমাদের সম্পর্কে জানতে পারবে তারা আমাদের পৃথিবীর প্রথম মানুষ হিসেবে ব্যাখ্যা করবে।পৃথিবীর প্রথম সভ্যতা হিসেবেও ব্যাখ্যা করলেও অবাক হবেনা কেউ। আর তা পরবর্তী সভ্যতার জন্য হবে মহা আবিষ্কার।তখন থেকে আবার শুরু হবে আরেক ইতিহাস, আরেক সভ্যতা।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

উচিৎ শিক্ষা

দর্শনঃমোল্লা নাসিরুদ্দিনের ফুঁ

বাঘা বাতাস