বেহাত ডায়রি
মোঃসিফাত হোসেন
আমার বন্ধুর ডায়রি বেহাত হয়ে আমার কাছে চলে এসেছে।খুব সাধারন ডায়রি,কিছু অভিজ্ঞতা লেখা।ডায়রি যে রকম হয়,সে রকম-ই। মাঝেমাঝে কাটাকাকাটি।তবে কয়েকটা বিষয় আমার কাছে খুব ইন্টারেস্টিং মনে হয়েছে,তাই ডায়রির কিছু অংশ বন্ধুর ভাষাতে আপনাদের জন্য তুলে দিলাম।ওকে আবার বলে দেবেন'না যেন! তাহলে আমার আর উপায় থাকবেনা।
৭ জানুয়ারি ২০০৯
আমার নাম হাসমত,নামের মত জীবনটা হাসিখুশি নয়।তবে জীবনে যেখানেই গিয়েছি,না চাইলেও কোথা থেকে যেন হাসি এসে খোচা দিয়ে গেছে।হাসির দাত আছে আমার জানা ছিল'না।সবাই হেসেছে,হাসতে পারিনি কেবল আমি।
৮ জানুয়ারি ২০০৯
চাকরির পিছনে ঘুরতে ঘুরতে জুতার মত জীবনও ক্ষয় হয়ে গেছে।ডাক্তার ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট খেতে বলেছে।খাচ্ছি, কিন্তু চাকরি হচ্ছে'না।নিজের আপন মামাও এখন টাকা ছাড়া আমার সাথে বেহুদা কথা বলেন'না।
বেসরকারি এক স্কুলের কেরানির জন্য আজ ডেকেছিল আমাকে।
হেড মাষ্টার মজা করে জিজ্ঞেস করলো," তোমার বাবার নাম কি?"
উত্তর দিলাম।
তারপর জিজ্ঞেস করলো,"তোমার থানায়
কতজন মানুষ আছে?"
উত্তর জানা ছিলনা, আন্দাজ মত বলে দিলাম।
স্যার মুচকি মুচকি হেসেই বললেন,"প্রত্যকের নাম বলতে থাকো,আমি চা খেয়ে আসি।"
চাকরি না দিলে না করে দে,এভাবে কেন কথা বলিস।বলি,আমি কি আদম শুমারির রেজিস্টার খাতা নাকি,যে খুললেই জনসংখ্যা বেড়িয়ে আসবে?
চার চারবার পরিক্ষা দিয়ে এস এস সি পাস করেছি,কেউ কদর করলো'না।এত কষ্ট করে কয়জন পাস করেছে দুনিয়াতে?
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৯
বড় চাচা আজ জোড় করে আমাদের ওয়ার্ড মেম্বারের বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিল,মেম্বার সাহেব লেখাপড়া জানেনা, শুধু টিপসই দিতে পারে।তাই একজন সহকারী দরকার।মটর সাইকেল চালানো আর মোটামুটি লেখালেখি জানলেই চলবে।সাহস করে সামনে গেলাম।
ভেবেছিলাম জিজ্ঞেস করবে সতের কেজি গম থেকে ছয় কেজি সাড়ে তিন পোয়া চুরি করলে কত কেজি থাকে?
তা-না জিজ্ঞেস করে বলে থালাবাসন ধুতে পারি কিনা?কত বড় অপমান! দাড়া,ভোটার হই একবার,তরে ভোট দিলে আমার নাম হাসমত না।
১৯ মার্চ ২০০৯
কয়েকদিন যাবত ছিপ ফেলে নদীতে বসে থাকি,মাছ ধরা তো দূরে থাক বড়শিতে একটা ঠোকরও দেয় না কেউ।
রাতে স্বপ্ন দেখি,কত বড় একটা বোয়াল মাছ ধরেছি,সেই বোয়াল হঠাত করে পুটি মাছ হয়ে গেল,হাত ফস্কে বেড়িয়ে যাওয়ার সময় দেখি মুখে হাত চাপা দিয়ে হেসে বলছে,"আমাকেও ধরতে পারে না।"
সত্যি সত্যি যদি দাত কেলিয়ে হাসে;এই ভয়ে আর মাছ ধরতে যাইনি কোনদিন।
কি লজ্জা পুটি মাছও আমাকে দেখে হাসে।
২৩ জুন ২০০৯
অনেক সাধনার পর ছোট বোনের বান্ধবীর সাথে দেখা করতে যাব আজ।ওই মেয়ে কিছু জানে না,সাধনা যা করার আমি একাই করেছি।চুপকরে বসে থাকার নামও সাধনা।কয়জন চুপকরে বসে থাকতে পারে!
ছোট বোনের পরিক্ষা তাই এই উছিলায় দেখতে যাব।দুদিন আগে চাচাতো ভাই ইমন বলেছিল,"ভাই,ধরেন,দেখা করতে যাওয়ার আগের দিন থেকে আপনার খুউব পেট খারাপ,একেবারে কাহিল অবস্থা,তখন কি করবেন?"
সেদিন কি করতাম জানিনা তবে মন খারাপ হল খুব।খুব খুব খারাপ হলো।
আমার মুখের অবস্থা দেখে ইমন কিছু একটা আন্দাজ করেছিল মনে হয়।ও বলল,"এরকম হলে আমাকে একটু সুযোগ দিয়েন।"বলে হাসতে হাসতে বিছানা থেকে পড়ে গেল।
শকুনের দোয়ায় গরু মরেনা-এই প্রবাদ আজ মিথ্যা প্রমাণিত হল।শত শত গরু মরল।
সকাল থেকে আমার সেকি পেট খারাপ! তা না বললেই আনন্দ হয়।একেবারে বিছানার সাথে লেগে যাওয়ার মত অবস্থা।
ইমন আমার চাইতে স্বাস্থে ভাল,নইলে দাওয়াত দিয়ে মারামারি করতাম।
তারপর আর কোনদিন ঐ মেয়ের সাথে দেখা হয় নাই।এক হিসেবে ভাল-ই হয়েছে,দেখা গেল ফুসকা খাচ্ছি,তখন পেটে হর্ন বাজছে,আর সবাই হিহি হরে পেত্নীর মত হাসছে।দরকার নাই দেখা করার।
২১-মার্চ-২০০৯
এই ঘটনা কয়েকদিন আগে ঘটেছে।লিখতে ভুলে গেছি।
সকালবেলা বাজারে গিয়েছিলাম,আজ বাবা সাথে যায়নি তাই বড় ভাইয়ের সাথে গেলাম।ভাইকে আসার সময় বললাম,"ভাই, দোকানী আমাদের ঠকিয়েছে?একটা জিনিস ফ্রি ছিল,সে দেয় নাই।"
বড় ভাইঃ"আগে বললি না কেন?কি ফ্রি ছিল?"
"এই যে দেখ"বলে হাতে ঝুলানো তেলের টিন দেখালাম;সেখানে লেখা "কোলেস্টেরল ফ্রি"
বড় ভাই হো হো করে হেসে বলল,"ওই ফ্রি লাগবে না,চল বাড়ী যাই।"
এখানে হাসার কি আছে,দোকানী আমাদের ঠকিয়েছে,আর ভাই হাসছে!কেউ ঠকালেও বলা যাবেনা। যাহ;আর বাজারেই যাব না কোন দিন!
২-এপ্রিল-২০০৯
হাই স্কুলের মফিজ স্যার আমাদের কৃষি শিক্ষা পড়াতেন,আমাকে ছোট বেলা থেকেই আদর করে গরু নামে ডাকতেন।
আজ জিজ্ঞেস করল,"কিরে, তোর ভাগ্নের খবর কি?"
আমার খবর জিজ্ঞেস না করে ভাগ্নের খবর?তাছাড়া আমার তো কোন ভাগ্নে নাই!
স্যারকে বললাম,"কার কথা বলছেন স্যার?"
স্যার:"কেন,তোদের একটা ষাঁড় বাছুর আছে না?তোর তো ভাগ্নেই হয়।ভাল আছে?"
ওরে,আমারে কেউ ধর!আমি শেষমেশ ষাঁড় বাছুরের মামা হয়ে গেছি!আর কি হওয়া বাকি আছে আমার!
সেদিন থেকে কেন জানিনা গরু জাতি আমাকে দেখলেই হাম্বা হাম্বা করে ডাকে।আচ্ছা গরুর হাসি কী হাম্বা ডাকের মত?
আমার বন্ধুর ডায়রি বেহাত হয়ে আমার কাছে চলে এসেছে।খুব সাধারন ডায়রি,কিছু অভিজ্ঞতা লেখা।ডায়রি যে রকম হয়,সে রকম-ই। মাঝেমাঝে কাটাকাকাটি।তবে কয়েকটা বিষয় আমার কাছে খুব ইন্টারেস্টিং মনে হয়েছে,তাই ডায়রির কিছু অংশ বন্ধুর ভাষাতে আপনাদের জন্য তুলে দিলাম।ওকে আবার বলে দেবেন'না যেন! তাহলে আমার আর উপায় থাকবেনা।
৭ জানুয়ারি ২০০৯
আমার নাম হাসমত,নামের মত জীবনটা হাসিখুশি নয়।তবে জীবনে যেখানেই গিয়েছি,না চাইলেও কোথা থেকে যেন হাসি এসে খোচা দিয়ে গেছে।হাসির দাত আছে আমার জানা ছিল'না।সবাই হেসেছে,হাসতে পারিনি কেবল আমি।
৮ জানুয়ারি ২০০৯
চাকরির পিছনে ঘুরতে ঘুরতে জুতার মত জীবনও ক্ষয় হয়ে গেছে।ডাক্তার ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট খেতে বলেছে।খাচ্ছি, কিন্তু চাকরি হচ্ছে'না।নিজের আপন মামাও এখন টাকা ছাড়া আমার সাথে বেহুদা কথা বলেন'না।
বেসরকারি এক স্কুলের কেরানির জন্য আজ ডেকেছিল আমাকে।
হেড মাষ্টার মজা করে জিজ্ঞেস করলো," তোমার বাবার নাম কি?"
উত্তর দিলাম।
তারপর জিজ্ঞেস করলো,"তোমার থানায়
কতজন মানুষ আছে?"
উত্তর জানা ছিলনা, আন্দাজ মত বলে দিলাম।
স্যার মুচকি মুচকি হেসেই বললেন,"প্রত্যকের নাম বলতে থাকো,আমি চা খেয়ে আসি।"
চাকরি না দিলে না করে দে,এভাবে কেন কথা বলিস।বলি,আমি কি আদম শুমারির রেজিস্টার খাতা নাকি,যে খুললেই জনসংখ্যা বেড়িয়ে আসবে?
চার চারবার পরিক্ষা দিয়ে এস এস সি পাস করেছি,কেউ কদর করলো'না।এত কষ্ট করে কয়জন পাস করেছে দুনিয়াতে?
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৯
বড় চাচা আজ জোড় করে আমাদের ওয়ার্ড মেম্বারের বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিল,মেম্বার সাহেব লেখাপড়া জানেনা, শুধু টিপসই দিতে পারে।তাই একজন সহকারী দরকার।মটর সাইকেল চালানো আর মোটামুটি লেখালেখি জানলেই চলবে।সাহস করে সামনে গেলাম।
ভেবেছিলাম জিজ্ঞেস করবে সতের কেজি গম থেকে ছয় কেজি সাড়ে তিন পোয়া চুরি করলে কত কেজি থাকে?
তা-না জিজ্ঞেস করে বলে থালাবাসন ধুতে পারি কিনা?কত বড় অপমান! দাড়া,ভোটার হই একবার,তরে ভোট দিলে আমার নাম হাসমত না।
১৯ মার্চ ২০০৯
কয়েকদিন যাবত ছিপ ফেলে নদীতে বসে থাকি,মাছ ধরা তো দূরে থাক বড়শিতে একটা ঠোকরও দেয় না কেউ।
রাতে স্বপ্ন দেখি,কত বড় একটা বোয়াল মাছ ধরেছি,সেই বোয়াল হঠাত করে পুটি মাছ হয়ে গেল,হাত ফস্কে বেড়িয়ে যাওয়ার সময় দেখি মুখে হাত চাপা দিয়ে হেসে বলছে,"আমাকেও ধরতে পারে না।"
সত্যি সত্যি যদি দাত কেলিয়ে হাসে;এই ভয়ে আর মাছ ধরতে যাইনি কোনদিন।
কি লজ্জা পুটি মাছও আমাকে দেখে হাসে।
২৩ জুন ২০০৯
অনেক সাধনার পর ছোট বোনের বান্ধবীর সাথে দেখা করতে যাব আজ।ওই মেয়ে কিছু জানে না,সাধনা যা করার আমি একাই করেছি।চুপকরে বসে থাকার নামও সাধনা।কয়জন চুপকরে বসে থাকতে পারে!
ছোট বোনের পরিক্ষা তাই এই উছিলায় দেখতে যাব।দুদিন আগে চাচাতো ভাই ইমন বলেছিল,"ভাই,ধরেন,দেখা করতে যাওয়ার আগের দিন থেকে আপনার খুউব পেট খারাপ,একেবারে কাহিল অবস্থা,তখন কি করবেন?"
সেদিন কি করতাম জানিনা তবে মন খারাপ হল খুব।খুব খুব খারাপ হলো।
আমার মুখের অবস্থা দেখে ইমন কিছু একটা আন্দাজ করেছিল মনে হয়।ও বলল,"এরকম হলে আমাকে একটু সুযোগ দিয়েন।"বলে হাসতে হাসতে বিছানা থেকে পড়ে গেল।
শকুনের দোয়ায় গরু মরেনা-এই প্রবাদ আজ মিথ্যা প্রমাণিত হল।শত শত গরু মরল।
সকাল থেকে আমার সেকি পেট খারাপ! তা না বললেই আনন্দ হয়।একেবারে বিছানার সাথে লেগে যাওয়ার মত অবস্থা।
ইমন আমার চাইতে স্বাস্থে ভাল,নইলে দাওয়াত দিয়ে মারামারি করতাম।
তারপর আর কোনদিন ঐ মেয়ের সাথে দেখা হয় নাই।এক হিসেবে ভাল-ই হয়েছে,দেখা গেল ফুসকা খাচ্ছি,তখন পেটে হর্ন বাজছে,আর সবাই হিহি হরে পেত্নীর মত হাসছে।দরকার নাই দেখা করার।
২১-মার্চ-২০০৯
এই ঘটনা কয়েকদিন আগে ঘটেছে।লিখতে ভুলে গেছি।
সকালবেলা বাজারে গিয়েছিলাম,আজ বাবা সাথে যায়নি তাই বড় ভাইয়ের সাথে গেলাম।ভাইকে আসার সময় বললাম,"ভাই, দোকানী আমাদের ঠকিয়েছে?একটা জিনিস ফ্রি ছিল,সে দেয় নাই।"
বড় ভাইঃ"আগে বললি না কেন?কি ফ্রি ছিল?"
"এই যে দেখ"বলে হাতে ঝুলানো তেলের টিন দেখালাম;সেখানে লেখা "কোলেস্টেরল ফ্রি"
বড় ভাই হো হো করে হেসে বলল,"ওই ফ্রি লাগবে না,চল বাড়ী যাই।"
এখানে হাসার কি আছে,দোকানী আমাদের ঠকিয়েছে,আর ভাই হাসছে!কেউ ঠকালেও বলা যাবেনা। যাহ;আর বাজারেই যাব না কোন দিন!
২-এপ্রিল-২০০৯
হাই স্কুলের মফিজ স্যার আমাদের কৃষি শিক্ষা পড়াতেন,আমাকে ছোট বেলা থেকেই আদর করে গরু নামে ডাকতেন।
আজ জিজ্ঞেস করল,"কিরে, তোর ভাগ্নের খবর কি?"
আমার খবর জিজ্ঞেস না করে ভাগ্নের খবর?তাছাড়া আমার তো কোন ভাগ্নে নাই!
স্যারকে বললাম,"কার কথা বলছেন স্যার?"
স্যার:"কেন,তোদের একটা ষাঁড় বাছুর আছে না?তোর তো ভাগ্নেই হয়।ভাল আছে?"
ওরে,আমারে কেউ ধর!আমি শেষমেশ ষাঁড় বাছুরের মামা হয়ে গেছি!আর কি হওয়া বাকি আছে আমার!
সেদিন থেকে কেন জানিনা গরু জাতি আমাকে দেখলেই হাম্বা হাম্বা করে ডাকে।আচ্ছা গরুর হাসি কী হাম্বা ডাকের মত?
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন