একচোখা কুকুর
মোঃসিফাত হোসেন
অভিজ্ঞতার কোন ওজন নাই,যতই অভিজ্ঞতা অর্জন করুন'না কেন;তা জ্ঞানের আয়তনে বাড়লেও ওজনে বাড়বে না।
তবে মাঝে মাঝে মানসিক চাপ তৈরি করতে এর জুরি নেই। ভাল-মন্দ সব অতীত অভিজ্ঞতাই চাপ তৈরি করে।
ভাল অভিজ্ঞতা বলে, আহ!কী সুখেই না ছিলাম,খারাপ অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দেয় আহ!কী কষ্টই না পেলাম।তখনই বোঝা মনে হয়।মনে হয় অভিজ্ঞতার ওজনে আমি পিষ্ট।
তাই যা কিছু অভিজ্ঞতার চোখে- দেখি সমাজ সংস্কারকের মত সমাধান সহ দেখি না,শুধু দেখি;কখনো অন্ধের মত, কখনো চেয়ে দেখার মত, কখনো বা ঘুমিয়ে দেখা স্বপ্নের মত।
খন্ড চিত্র ১:
আজিমপুর ছাপড়া মসজিদের সামনে এক অচেনা বয়স্ক প্রতিবন্ধী লোক দেখলাম।তার শরীরের সাথে কঙ্কালের শরীরের কোন পার্থক্য নেই,চার হাত-পাই বিকলাঙ্গ,মুখে ধবধবে সাদা দাড়ি, খুব কষ্ট করে হামাগুড়ি দিয়ে ভিক্ষা করে চলেছে।গলায় একটা প্ল্যাকার্ড ঝুলান,তাতে লেখা, "আমাকে সাহায্য করুন"।
কিছু যুবক-যুবতী রাস্তার ধারে আয়েশ করে ফুসকা-চটপটি খাচ্ছে,কেউ চা-সমুচা।তারা কেউ মানুষটির দিকে ফিরেও তাকাচ্ছে না।একজন ইউনিভার্সিটির ছাত্রকে দেখলাম অসহায় মানুষটিকে দূরদূর করে তাড়িয়ে দিল,শুধুমাত্র তার গার্লফ্রেন্ডের সাথে আরাম করে বাদাম খাবে বলে।এখন কেউ তাকে বিরক্ত করতে পারবে না।
এরকম চিত্র দেখে দেখে সবাই অভ্যস্ত হয়ে গেছে।সব জায়গায় এক রকম চিত্র দেখলে অভ্যস্ত না হয়েও তো কোন উপায় নেই!
কিছু সামনে একই রকম আরেকজনকে দেখলাম।এর বয়স কম,এই ছেলেটাও প্রতিবন্ধী,সামনে ভিক্ষার বাটি পাতা,কয়েকটা খুচরো পয়সা তাতে।কাগজের অস্থায়ী সাইন বোর্ডে লেখা "আমাকে সাহায্য করুন"
মা পরম যত্নে ছেলেটির মুখে খাবার তুলে দিচ্ছে,কিন্তু ছেলেটি খেতে চাচ্ছে না।
আসলে খাবারটা তার পছন্দ হয়নি।অভাগী মা এর থেকে ভাল কিছু জোগাড় করতে পারেনি।কিন্তু ছেলে সেটা জানে না,বুঝতেও চাইছে না।আশেপাশে অনেকেই খাচ্ছে,অনেকে খাবার ফেলেও দিচ্ছে কিন্তু এই ছেলেটা জানেনা, তাকে দেয়ার মত খাবার কারো কাছে নেই।
আমি এরকম দৃশ্য অনেক দেখেছি যা লিখে শেষ করা যাবে না।অনেক মানুষ আছে যাদের অসহায় স্থির চোখই অদৃশ্য প্ল্যাকার্ড, আর তাতে লেখা,
"আমাকে সাহায্য করুন"
খন্ড চিত্র ২:আমি ডিসকভারি আর ন্যাশনাল জিওগ্রাফি চ্যানেল খুব মনযোগ দিয়ে দেখি।এই চ্যানেল গুলোতে শিক্ষণীয় অনেক কিছু দেখায় যা আমার অভিজ্ঞতাকে ওজনহীনভাবে বৃদ্ধি করে চলেছে।
একবার এক অনুষ্ঠানে দেখলাম এক তরুণী ডাস্টবিন থেকে একটা কুকুর ছানা কুড়িয়ে পেয়েছে।কোন অজানা কারনে ছানাটির দুটো চোখ নষ্ট হয়ে গেছে।তরুণী কুকুর ছানাটি হাসপাতালে নিয়ে গেল।ডাক্তার পরিক্ষা নিরিক্ষা করে অপারেশন করার কথা বললেন।ভাল হলে হতেও পারে,তবে নিশ্চিত করে বলা যাবে না।
তরুণী সেদিনই ইন্টারনেটে একটি লেখা পোষ্ট করল,তাতে লেখা
"কুকুরের চোখ অপারেশনে সাহায্য করুন"
অল্প কিছুদিনের মধ্যে সাড়ে চার হাজার ডলার সংগ্রহ করা হল।
কুকুর ছানা এখন বেশ বড় হয়েছে,সে ভাল আছে।তার চোখের অপারেশন হয়েছে।অপারেশনের পর এক চোখে দেখতে পায়, অপর চোখটি ভাল হবার নয়, চিরতরে নষ্ট হয়ে গেছে।
খুব খারাপ লাগছে বলতে আমাদেরও ঐ কুকুরের মত এক চোখ নষ্ট হয়ে গেছে,আমরা এখন চোখ থাকতেও দেখি না।আমি সমাজের একজন কোটিপতিকে মসজিদের দান বক্সে দশ টাকা দিয়ে আট টাকা ফেরত নিতে দেখেছি,দেখেছি শত কোটি টাকা খরচ করে জতীয় সংগীত গাইতে,দেখেছি ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে সমাজ সংস্কারের নাম করে ঘন্টার পর ঘন্টা বক্তৃতা দিতে।তাদের মত বিত্তবান লোকের কাছে আমার দেশের ঐ প্রতিবন্ধী মানুষ দুটোর মুল্য আমেরিকার ঐ একচোখা কুকুরের চাইতে কম।কুকুর প্রেমী ঐ তরুণীর মত মানুষও আমার দেশে বড় অভাব।
অভিজ্ঞতার কোন ওজন নাই,যতই অভিজ্ঞতা অর্জন করুন'না কেন;তা জ্ঞানের আয়তনে বাড়লেও ওজনে বাড়বে না।
তবে মাঝে মাঝে মানসিক চাপ তৈরি করতে এর জুরি নেই। ভাল-মন্দ সব অতীত অভিজ্ঞতাই চাপ তৈরি করে।
ভাল অভিজ্ঞতা বলে, আহ!কী সুখেই না ছিলাম,খারাপ অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দেয় আহ!কী কষ্টই না পেলাম।তখনই বোঝা মনে হয়।মনে হয় অভিজ্ঞতার ওজনে আমি পিষ্ট।
তাই যা কিছু অভিজ্ঞতার চোখে- দেখি সমাজ সংস্কারকের মত সমাধান সহ দেখি না,শুধু দেখি;কখনো অন্ধের মত, কখনো চেয়ে দেখার মত, কখনো বা ঘুমিয়ে দেখা স্বপ্নের মত।
খন্ড চিত্র ১:
আজিমপুর ছাপড়া মসজিদের সামনে এক অচেনা বয়স্ক প্রতিবন্ধী লোক দেখলাম।তার শরীরের সাথে কঙ্কালের শরীরের কোন পার্থক্য নেই,চার হাত-পাই বিকলাঙ্গ,মুখে ধবধবে সাদা দাড়ি, খুব কষ্ট করে হামাগুড়ি দিয়ে ভিক্ষা করে চলেছে।গলায় একটা প্ল্যাকার্ড ঝুলান,তাতে লেখা, "আমাকে সাহায্য করুন"।
কিছু যুবক-যুবতী রাস্তার ধারে আয়েশ করে ফুসকা-চটপটি খাচ্ছে,কেউ চা-সমুচা।তারা কেউ মানুষটির দিকে ফিরেও তাকাচ্ছে না।একজন ইউনিভার্সিটির ছাত্রকে দেখলাম অসহায় মানুষটিকে দূরদূর করে তাড়িয়ে দিল,শুধুমাত্র তার গার্লফ্রেন্ডের সাথে আরাম করে বাদাম খাবে বলে।এখন কেউ তাকে বিরক্ত করতে পারবে না।
এরকম চিত্র দেখে দেখে সবাই অভ্যস্ত হয়ে গেছে।সব জায়গায় এক রকম চিত্র দেখলে অভ্যস্ত না হয়েও তো কোন উপায় নেই!
কিছু সামনে একই রকম আরেকজনকে দেখলাম।এর বয়স কম,এই ছেলেটাও প্রতিবন্ধী,সামনে ভিক্ষার বাটি পাতা,কয়েকটা খুচরো পয়সা তাতে।কাগজের অস্থায়ী সাইন বোর্ডে লেখা "আমাকে সাহায্য করুন"
মা পরম যত্নে ছেলেটির মুখে খাবার তুলে দিচ্ছে,কিন্তু ছেলেটি খেতে চাচ্ছে না।
আসলে খাবারটা তার পছন্দ হয়নি।অভাগী মা এর থেকে ভাল কিছু জোগাড় করতে পারেনি।কিন্তু ছেলে সেটা জানে না,বুঝতেও চাইছে না।আশেপাশে অনেকেই খাচ্ছে,অনেকে খাবার ফেলেও দিচ্ছে কিন্তু এই ছেলেটা জানেনা, তাকে দেয়ার মত খাবার কারো কাছে নেই।
আমি এরকম দৃশ্য অনেক দেখেছি যা লিখে শেষ করা যাবে না।অনেক মানুষ আছে যাদের অসহায় স্থির চোখই অদৃশ্য প্ল্যাকার্ড, আর তাতে লেখা,
"আমাকে সাহায্য করুন"
খন্ড চিত্র ২:আমি ডিসকভারি আর ন্যাশনাল জিওগ্রাফি চ্যানেল খুব মনযোগ দিয়ে দেখি।এই চ্যানেল গুলোতে শিক্ষণীয় অনেক কিছু দেখায় যা আমার অভিজ্ঞতাকে ওজনহীনভাবে বৃদ্ধি করে চলেছে।
একবার এক অনুষ্ঠানে দেখলাম এক তরুণী ডাস্টবিন থেকে একটা কুকুর ছানা কুড়িয়ে পেয়েছে।কোন অজানা কারনে ছানাটির দুটো চোখ নষ্ট হয়ে গেছে।তরুণী কুকুর ছানাটি হাসপাতালে নিয়ে গেল।ডাক্তার পরিক্ষা নিরিক্ষা করে অপারেশন করার কথা বললেন।ভাল হলে হতেও পারে,তবে নিশ্চিত করে বলা যাবে না।
তরুণী সেদিনই ইন্টারনেটে একটি লেখা পোষ্ট করল,তাতে লেখা
"কুকুরের চোখ অপারেশনে সাহায্য করুন"
অল্প কিছুদিনের মধ্যে সাড়ে চার হাজার ডলার সংগ্রহ করা হল।
কুকুর ছানা এখন বেশ বড় হয়েছে,সে ভাল আছে।তার চোখের অপারেশন হয়েছে।অপারেশনের পর এক চোখে দেখতে পায়, অপর চোখটি ভাল হবার নয়, চিরতরে নষ্ট হয়ে গেছে।
খুব খারাপ লাগছে বলতে আমাদেরও ঐ কুকুরের মত এক চোখ নষ্ট হয়ে গেছে,আমরা এখন চোখ থাকতেও দেখি না।আমি সমাজের একজন কোটিপতিকে মসজিদের দান বক্সে দশ টাকা দিয়ে আট টাকা ফেরত নিতে দেখেছি,দেখেছি শত কোটি টাকা খরচ করে জতীয় সংগীত গাইতে,দেখেছি ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে সমাজ সংস্কারের নাম করে ঘন্টার পর ঘন্টা বক্তৃতা দিতে।তাদের মত বিত্তবান লোকের কাছে আমার দেশের ঐ প্রতিবন্ধী মানুষ দুটোর মুল্য আমেরিকার ঐ একচোখা কুকুরের চাইতে কম।কুকুর প্রেমী ঐ তরুণীর মত মানুষও আমার দেশে বড় অভাব।
'তাদের মত বিত্তবান লোকের কাছে আমার দেশের ঐ প্রতিবন্ধী মানুষ দুটোর মুল্য আমেরিকার ঐ একচোখা কুকুরের চাইতে কম।'--করুন বাস্তব।
উত্তরমুছুনএটা সত্য কথা,আমার কিছু করার নাই
উত্তরমুছুন