চশমা


“আপনি কেন চশমা ব্যবহার করেন? কোন কিছু দেখতে; নাকি দেখা আটকাতে?”

প্রথম খন্ডঃ

আমার এক চাচা দোকানী, কমবয়সী। বয়স কতো হবে? বড়জোর তিরিশ। তিনি সাইকেলের পার্টস বিক্রি করেন।
বয়স্ক এক লোক তার দোকানে এসেছে, পার্টস কিনতে না; একটা ঠিকানা দেখাতে। বৃদ্ধ লোকটি পড়তে জানে না। তাই চাচাকে দেখিয়ে বলল,”বাবাজী দেখেনতো এই এলাকাটা কোন দিকে?”-বলে হাতের ছোট্ট কাগজখণ্ডটি বাড়িয়ে দিলেন। আমার চাচা হটাৎ করেই ব্যস্ত হয়ে গেলেন, কাজকর্ম বেড়ে গেলো খালি দোকানেই। কিছু সময় আতিপাতি করে টেবিলের ড্রয়ার খুজল। তারপর নিরাশ হয়ে মুরুব্বিকে বলল,”মুরুব্বি, আমি তো চশমা ছাড়া চোখে কম দেখি,আজ চশমা বাড়িতে রেখে এসেছি।”
মুরুব্বি ও আচ্ছা বলে কাগজখণ্ডটি নিয়ে চলে গেলো। চাচা বড় করে নিশ্বাস ছাড়লেন।

যে লোক জীবনে স্কুলে যায়নি; একটা চশমা তার মানইজ্জত বাচিয়ে দিয়েছে আজ।

দ্বিতীয় খন্ডঃ

গ্রামে ধর্মীয় সভার আয়োজন করা হয়েছে। আশপাশের এলাকা মাইকিং করা শেষ। রাস্তার মোড়ে মোড়ে যেমন পোস্টার লাগানো হয়েছে; তেমনি অনেকের বাড়ীতে গিয়েও কার্ড দেয়া হয়েছে।
রেজাদের ছোট চাচা বিরাট বিত্ত-বৈভবের মালিক। তাই তার কাছে গ্রামবাসীর আশা অন্য সবার চাইতে বেশি। গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তার কাছে এসেছেন। চশমা পরা একজন গণ্যমান্য ব্যক্তি সুদৃশ্য একটি কার্ডে বড়বড় অক্ষরে লিখলেন “জনাব আজমল সাহেব।”লেখা শেষে চশমা পকেটে রেখে দিলেন।

আকমল চাচা রেজাদের বাবা, তিনি আজমল চাচার বড় ভাই। ভাগ্যদোষে গরীব। একই উঠানে আলাদা বাড়ীতে দুই ভাই থাকেন। তাকেও দাওয়াত দেয়া হল, খামবিহীন, নাম বিহীন একটা ছাপানো কাগজের মাধ্যমে। রেজাদ তোবড়ানো সেই কাগজ একজনকে টেনে টেনে সোজা করতে দেখেছে। তখন আমি বা রেজাদ কেউই অবাক হইনি, কারন এটা হয়। অবাক হয়েছি তখন; যখন দেখলাম  আকমল চাচা আর আজমল চাচার অনুদান সমান! গ্রামের কেউ এটা আশা করেনি।

গ্রামে আরো মানুষ আছে, যারা সাহাজ্য করতে পারবে না- তাদের জন্যও দাওয়াতের ব্যবস্থা আছে-মাইকের আওয়াজ।

“বলার মতো বিধ্বংসী মুখ যার আছে, তার শোনার মতো সুক্ষ্ম কানও আছে। অনেকে জানে কলম শুধু বলতে পারে, তবে কলম শুনতে পারে বলেই বলতে পারে। মাঝেমাঝে তারই প্রমাণ দিতে হয়।”

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

উচিৎ শিক্ষা

দর্শনঃমোল্লা নাসিরুদ্দিনের ফুঁ

বাঘা বাতাস