চোর
প্রথম খন্ডঃ
চোর ধরা মুখের কথা না। আমাদের দেশে চোর চুরি করে পালাতে পারলেই আর কোন চিন্তা নেই। এটা লন্ডন বা নিউইয়র্ক না, যে সিসি ক্যামেরা বা অন্য কোন ট্রেইল ধরে চোরকে চিহ্নিত করবে।
এদেশে চোর ধরার সব চাইতে জনপ্রিয় পদ্ধতি হচ্ছে, পরিচিত চোর বা সন্দেহজনক ব্যাক্তিকে আটক করা, তারপর ধোলাই দিয়ে আসল চোরের খবর বের করা। পুলিশ এই কাজে সিদ্ধহস্ত।
সমস্যা হচ্ছে আমি পুলিশ না, এমনকি কোন সখের গোয়েন্দাও না। ব্লগ লিখি, কোন সাংবাদিকও না।
একজন রহস্য প্রিয় মানুষ মাত্র।
টাংগাইলের নাগরপুর থানার বেশ কিছু অংশ চর এলাকা। এসব চরাঞ্চলে চুরির চাইতে ডাকাতি হয় বেশি। তবে চোর বা ডাকাত যাই বলি না কেন, এরা কিন্তু ভয় নামক অনুভূতির সাথে পরিচিত না।
আমি এসেছি নাগরপুরে, আমার মামার বাড়িতে। বর্ষাকাল, প্রায় সাত বছর পর বেড়াতে এসেছি, আসল উদ্দেশ্য নৌকা ভ্রমন। নৌকায় উঠেছি, তবে ভ্রমনের খাতিরে না।
মামা বাড়ি মানেই আনন্দ, কিন্তু সেই আনন্দ নিরানন্দ হতে সময় লাগলো না। হঠাৎ করেই একদিন মামার বাড়িতে চুরি হয়ে গেলো। চোর ধরা যায়নি, একটুর জন্য পালিয়ে গেছে। ঐদিন রাতে আমি যে রকম ঘুমিয়েছি জীবনে কোন দিন এতো গভীর ঘুম ঘুমাইনি। এইটা নাকি বাড়ির সবার ক্ষেত্রেই হয়েছে। সবাই বলাবলি করছে কুফরি না কি যেন করা হয়েছে।
কোন মামলা হলো না। এসব চুরিতে কখনো মামলা হয়না। আসল কথা হচ্ছে, কেউ মামলা করে না। যা চুরি হয়, মামলা করলে খরচ হয় তার চাইতে বেশি। আর সত্যি বলতে মামার কিছুই খোয়া যায়নি, অন্তন এখন পর্যন্ত চোখে পরার মতো কিছু খোয়া যায়নি।
চোর ধরার খুব ইচ্ছা হচ্ছে। কিন্তু কিছু করার না থাকলে ঠিকমতো আক্ষেপও করা যায়না। তাই একা একাই অনুসন্ধান শুরু করলাম। জানি কাজ হবে না। রহস্য নিয়ে পরে থাকা -এই আরকি।
গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো চেক করতে শুরু করলাম, তবে খুব গোপনে। কেউ যদি বলে -'চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে!'- এই ভয়ে কাউকে কিছু বলিনি।
আর দশটা স্বাভাবিক চুরির মতো এই চুরিটাও সিধ কেটে করা হয়েছে।
আমি পায়ের ছাপ দেখছি। সিধ কাটা অংশে পায়ের ছাপ বেশি ঘন। শেষের দিকে পায়ের তালুর সামনের অংশের ছাপ আর হাতের ছাপ বেশি। মানে লোকটা হামাগুরি দিয়ে ঘরে ঢুকেছে। এইটা একটা বাচ্চা ছেলেও বলে দিতে পারবে।
চোর এক দিয়ে ঢুকে অন্য দিক দিয়ে বেড়িয়ে গেছে। কারন পায়ের ছাপ একমুখী। প্রথমে চৌকির দিকে গেছে, তারপর সদর দরজার দিকে গেছে। চাদরে মাটির দাগ। মনে হয় আলমারির চাবি খুজতে এসেছিল।
সদর দরজা হাট করে খোলা। খোলা দরজা দিয়ে বারান্দায় আসলাম। বারান্দায় চোরের পায়ের ছাপ হালকা তবে লম্বা লম্বা।
ছাপের সাথে গুড়ি গুড়ি মাটি আছে। চোর শেষের দিকে দৌড় দিয়েছিল। ঘরের মাঝখান থেকে বারান্দা পর্যন্ত এক পায়ের ছাপ থেকে আরেক পায়ের ছাপ বেশ দূরত্ব বজায় রেখেছে। বারান্দায় সিমেন্টের খুটির অল্প একটু অংশ ভাঙা। বাইরে খুব হালকা একটা গন্ধ ভেসে আছে, কিসের গন্ধ বুঝতে পারছি না।
পায়ের ছাপের গঠন আন্দাজ করলে বোঝা যায় লোকটা হালকা পাতলা, চোর কমবয়সী ছেলেও হতে পারে। সমস্যা হচ্ছে এই রকম লোক গ্রামে অভাব নাই, আর চোর যে এই গ্রামের লোক তাই বা কে বললো!
সব-ই সাধারন চিন্তা, তবে শুনতে বিস্ময়কর হলেও সত্য, চোর কে- এটা আমি বের করতে পেরেছি! মানে চোর সম্পর্কে একটা অনুমান করতে পারছি। দুটো চিহ্ন এখন আমার ভরসা। প্রথম চিহ্ন পায়ের ছাপ, দ্বিতীয় চিহ্ন খুটির ভাঙা ছোট্ট টুকরো।
এখন কাজ হচ্ছে চোরকে খুজে বের করা। তবে আমার মনে একটা খটকা লাগছে, একটা প্রশ্নই আসছে বারবার মাথাতে, সেই প্রশ্নের উত্তরের জন্য হলেও চোরকে খুজে বের করতে হবে।
দ্বিতীয় খন্ডঃ
গ্রামে ঠিকমতো ব্যাখ্যা করতে পারলে কার বাড়ির বেড়াল খুজছি সেটাও বলে দেয়া সম্ভব।
দিন দুই চেষ্টা করে খুজে বের করলাম এলাকার সবচাইতে অলস ব্যাক্তিকে। অলস ব্যাক্তিরা অন্যের সম্পর্কে জানে বেশি -বলেও বেশি।
অলস ব্যাক্তির নাম জামাল।
আমি জামাল মিয়াকে বললাম, "আমি একজন ব্লগার, অপরাধীদের উপর একটা আর্টিকেল লিখছি, আমি একজনকে খুজছি, তার সাথে আমার সাক্ষাত করিয়ে দিতে পারবেন?"
বলে আমি জামাল মিয়াকে এমন কিছু বর্ননা দিলাম যা সম্ভবত তিন দিন আগেও চোরের ছিল না।
আরো বললাম, "কথা দিচ্ছি কাউকে কিছু বলবো না।"
ব্লগ সম্পর্কে জামাল মিয়ার কোন ধারনা নেই, তাই প্রথমে মনে করলো আমি সাংবাদিক।
সে বললো, "আমি কী অপরাধীগো দালাল?"
অনেক কষ্টে তাকে বুঝাতে পারলাম আমি একজন স্বাধীন গবেষক ছাড়া আর কিছুই না। অবশেষে অপরাধীর নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজনের সাথে কথা বলিয়ে দিতে রাজি হলেন।
আমাকে দুইদিন পরে আসতে বললেন। জামাল মিয়া আগে ভিকটিমকে বুঝিয়ে রাজি করাবে, তারপর দেখা হবে। তবে শর্ত আছে, ভিজিট দিতে হবে। আমি রাজি হয়ে গেলাম।
দুইদিন পর গেলাম সাক্ষাতকার নিতে।
আমি আসলে আসা করিনি লোকটা আমার সাথে কথা বলতে রাজি হবে। জীবনে শুনিনি চোর সাক্ষাতকার দেয়। তবে উন্নত বিশ্বে বড় বড় অপরাধীরা বিশেষ কিছু টিভি চ্যানেলে সাক্ষাতকার দিয়েছে-এটা জানি।
নৌকায় করে যেতে হলো আমাদের, নৌকা জামাল মিয়ার। অন্য কোন রাস্তা আপাতত এই বর্ষাকালে নাই, তাই নদীপথ। আকাশের অবস্থা ভালো না, মেঘে ঢাকা। বিকেল বেলাতেই কেমন রাতের আমেজ, তার উপর চিনিনা কিছুই। ভয় করছে খুব।
জামাল মিয়া মনে হয় আমার মনের অবস্থা টের পেয়েছে। তাই বললো, "ভয়ের কিছু নাই ভাইজান, চোর খুব ভালা মানুষ, নাম আজিজ মিয়া, আমার চাচাতো ভাই, আগে গেরামে থাকতো, এখন থাকে না। চান ফকিরের দোয়ায় সিদ্ধ চোর, চুরি কইরা জীবনে ধরা খায় নাই। তয় অনেকে তারে সন্দেহ করে। তার ইতিহাস বড়ই করুন।"
আমি অবাক হয়ে তাকে প্রশ্ন করলাম, "উনি যে চোর আমি কিন্তু আপনাকে তা বলিনি।"
জামালঃহ, কন নাই, তয় আমি জানি।
সে কিভাবে জানে আমি বলতে পারবো না, তাই আগেই বলেছি অলস লোকেরা জানে বেশি -বলেও বেশি।
যাহোক সন্ধ্যার কিছুক্ষন আগে আমরা নৌকা থেকে নামলাম।
একটা চর মতো জায়গায় আজিজ মিয়ার বাস, মোটামুটি বিচ্ছিন্ন জায়গা। ছোট্ট একটা বাঁশের চাটাই ঘরে একা থাকেন। প্রথমে জামাল মিয়া ভিতরে গেলেন, তারপর গেলাম আমি।
উনাকে দেখে ভয় দূর হয়ে গেল আমার, খুব মায়াও হলো। স্বাস্থ্য খুব খারাপ লোকটার।মনে হয় হাপানী আছে। বয়স আন্দাজ করা মুশকিল। চল্লিশও হতে পারে আবার ষাটও হতে পারে।
আজিজ মিয়ার ডাকাতের মতো মোটা শরীর বা ইয়া বড় গোফ নেই।
আমাকে বললো," ভিতরে আসেন।"
ঘরের ভিতরের অবস্থা আজিজ মিয়ার মতোই করুন। আজিজ মিয়া বাশের চাটাইয়ের উপর ছেড়া কাথায় চাদর গায়ে আধশোয়া অবস্থায় শুয়ে আছে, আমি বসলাম তার পাশে। মনে হয় লোকটার জ্বর এসেছে।
জামাল মিয়া চলে গেলো নৌকা পাহারা দিতে।
জামাল মিয়া আগেই সব ঠিক করে রেখেছে তাই দুই একটা কথা বলে মূল আলোচনায় চলে আসলাম।
আমার সাথে আজিজ মিয়ার বক্তব্য সরাসরি তুলে দিলাম এখানে। আগেই বলে রাখি আমি জীবনে কারো সাক্ষাতকার গ্রহন করিনি। তাই প্রশ্নের ধারাবাহিকতা না খুজে পেলে কেউ গাল দেবেন না দয়া করে।
"আপনার নাম কি?"
আজিজঃনাম দিয়া কী করবেন। কুত্তা বিলায়ের নাম থাকে না, তারা কী খুব মছিবতে আছে?"
প্রথম উত্তরেই ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেছি। এই লোক সম্ভবত দুনিয়ার উপরে মহা বিরক্ত। তাই তারাতারি প্রশ্ন করলাম, "দুনিয়ায় এতো পেশা থাকতে এই পেশা কেন বেছে নিলেন?"
আজিজঃচালান ছাড়া ব্যাবসা, এইজন্যে।
"আচ্ছা, কতোগুলো চুরি করেছেন জীবনে?"
আজিজঃহিসাব নাই।
"আপনার কোন আত্মীয় স্বজন নাই?"
আজিজঃনা।
"কেন, একা অসুস্থ অবস্থায় কষ্ট হচ্ছে না?"
"আত্মীয় স্বজন না থাকাই ভালা।"বুঝলাম লোকটা আর কিছু বলবে না। সম্ভবত আজিজ মিয়ার করুন কাহিনী এখানেই।
"আপনার চুরি করতে খারাপ বা লজ্জা লাগে না?"
আজিজঃশরম পাওয়ার কিছু নাই। পরিচিত মানুষ না থাকলে শরম এতো সহজে আসে না। আর ধরা না খাইলে কেউ চোর না।"
"জীবনে ধরা খেয়েছেন কতবার?"
আজিজঃএকবারও না
"আজকে খাবেন।"
আজিজ মিয়া কপাল কুচকে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন।
"আমার মামা মানে রমিজ মিয়ার বাড়িতে যে চুরি করেছে, আমার ধারনা সে আপনি।"
আজিজ মিয়া ছোট্ট করে হেসে বললেন, "কোন পরমান নাই।"
"আছে, আপনার হাটু গুরুতর জখম হয়েছে, এইটাই প্রমান।"
লোকটার হাটু চাদরে ঢাকা ছিল। তবে এবার সে সত্যিই বিস্মিত হলো। তার হাসিটা উধাও হয়ে গেছে।
আমাকে জিজ্ঞেস করলো, "আপনে ক্যামনে জানলেন? জামাল কইছে না-কি?"
তার কথার উত্তর না দিয়ে আমি বললাম, "আমি কিন্তু প্রমান করতে পারবো।"
"ক্যামনে?"
"বলবো, তবে আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।"
লোকটা আমার দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে বললো, "যদি ধরাইয়া না দেন, তাইলে উত্তর দিমু।"
আমি বললাম,"আমি আপনাকে ধরতে আসি নাই, একটা উত্তর জানতে এসেছি।"
আজিজঃজানা থাকলে উত্তর দিবো, আপনার যা বলার বলেন।
"ঠিক আছে বলছি, আপনি কিভাবে ভিতরে ঢুকেছেন সে ব্যাখ্যাতে না গেলাম। আমার ধারনা আপনি বেড়িয়ে আসার সময় সিমেন্টের খুটিতে আঘাত পেয়েছেন। বেশ জোরে আঘাত পেয়েছেন, আঘাতের ফলে খুটির একটা অংশ ভেঙে গেছে, সদ্য ভাঙা। খুটির আর অংশের মতো পুরনো না, নতুন ভাঙা । সম্ভবত আপনার পা-ও ভেঙেছে।
বাড়ি প্রত্যেক দিন ঝাড়ু দেয়া হয়। টুকরোটি ঐখানে থাকার কথা না। খুটির খুব কাছে আপনার পায়ের ছাপ ছিল। তবে এইটা প্রমান করে না যে আপনিই চুরি করেছেন।"
"তবে মজার ব্যাপার হলো বারান্দার পর থেকে বেশ কিছুদূর আপনার পায়ের ছাপ পেয়েছি একটা, শুধু বাম পায়ের। হাতের ছাপও আছে আবছা ভাবে। তখনই বুঝেছি আপনি ডান পায়ে আঘাত পেয়ে পড়ে গিয়েছিলেন। খুটিতে রক্তের দাগ ছিল না। অর্থাৎ আপনার পা ভেঙেছে কিন্তু কাটেনি।
তারপর এরকম লোক খুজতে শুরু করলাম, যিনি দুই একদিনের মধ্যে ডান হাটুতে বেশ গুরুতর চোট পেয়েছে। পায়ের ছাপের মাপ আমার কাছে আছে, আপনার পায়ের সাথে মিলিয়ে দেখলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে।"
আজিজ মিয়া বিস্ময়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেছে। সে আমাকে প্রশ্ন করতে পারতো, ডান হাটুতে আঘাত পেয়েছে এরকম লোক খুজলে আরো পাওয়া যাবে, তারা কী সবাই চোর?
কিন্তু প্রশ্ন করেনি।
অপরাধী মনের দিক থেকে দুর্বল হয়, তাই প্রশ্নের ফাক ফোকর ধরতে পারে না, একটু ব্যতিক্রম দেখলেই অপরাধ স্বীকার করে ফেলে।
এইবার আমতা আমতা করে আজিজ মিয়া বললো," আপনের প্রশ্ন কী?"
"চুরির রাতে আমরা স্বাভাবিকের চাইতে বেশি ঘুমিয়েছি কেন?"
আজিজ মিয়া খুব অল্প কথায় উত্তর দিলেন, "নেশা জ্বালাইয়া ধুয়া দিছি, তাই বেহুঁশ হইয়া সবাই ঘুমাইছেন।"
এই সাধারন বিষয়টা বুঝতে না পারার জন্য আজিজ মিয়ার সামনে আমি লজ্জা পেলাম। স্কুলে পড়া না পারলে যেরকম লজ্জা পেতাম-ঠিক সেরকম। স্যারেরা ঠিক-ই বলতো বড় হয়ে আমি ভাল মানের চোরও হতে পারবো না।
আমি আজিজ মিয়ার পকেটে কিছু টাকা গুজে দিলাম যাতে ঔষধ কিনতে পারে। আজিজ মিয়া টাকার দিকে ফিরেও তাকালেন না। তার মাথা নত হয়ে বুকের কাছে ঠেকে আছে।
তারপর আর কোন কথা হয়নি, তাকে ধরিয়েও দেইনি। চলে এসেছি সোজা মামার বাড়ি।
এবার একটা সত্যি কথা বলি, আমি কিন্তু আজিজ মিয়াকে দেখার পরও নিশ্চিত ছিলাম না যে -সেই মামার বাড়িতে চুরি করেছে! তিনি এক্সিডেন্ট করেও আঘাত পেয়ে থাকতে পারেন, তবে তার বিছানায় মামার চকচকে কালো লাইটটা চোখে পরার পর আমি তাকে -"আজ ধরা খাবেন"- কথাটা বলেছি। আর ঐ লাইটটা আমিই মামাকে দিয়েছিলাম। আজিজ মিয়া লাইট লুকিয়ে রাখার কথা চিন্তাও করে নাই। আমি খেয়াল করছি -এটাও দেখেনাই।
আমার মামাও মনে হয় জানে না তার লাইট চুরি হয়ে গেছে!
চোর ধরা মুখের কথা না। আমাদের দেশে চোর চুরি করে পালাতে পারলেই আর কোন চিন্তা নেই। এটা লন্ডন বা নিউইয়র্ক না, যে সিসি ক্যামেরা বা অন্য কোন ট্রেইল ধরে চোরকে চিহ্নিত করবে।
এদেশে চোর ধরার সব চাইতে জনপ্রিয় পদ্ধতি হচ্ছে, পরিচিত চোর বা সন্দেহজনক ব্যাক্তিকে আটক করা, তারপর ধোলাই দিয়ে আসল চোরের খবর বের করা। পুলিশ এই কাজে সিদ্ধহস্ত।
সমস্যা হচ্ছে আমি পুলিশ না, এমনকি কোন সখের গোয়েন্দাও না। ব্লগ লিখি, কোন সাংবাদিকও না।
একজন রহস্য প্রিয় মানুষ মাত্র।
টাংগাইলের নাগরপুর থানার বেশ কিছু অংশ চর এলাকা। এসব চরাঞ্চলে চুরির চাইতে ডাকাতি হয় বেশি। তবে চোর বা ডাকাত যাই বলি না কেন, এরা কিন্তু ভয় নামক অনুভূতির সাথে পরিচিত না।
আমি এসেছি নাগরপুরে, আমার মামার বাড়িতে। বর্ষাকাল, প্রায় সাত বছর পর বেড়াতে এসেছি, আসল উদ্দেশ্য নৌকা ভ্রমন। নৌকায় উঠেছি, তবে ভ্রমনের খাতিরে না।
মামা বাড়ি মানেই আনন্দ, কিন্তু সেই আনন্দ নিরানন্দ হতে সময় লাগলো না। হঠাৎ করেই একদিন মামার বাড়িতে চুরি হয়ে গেলো। চোর ধরা যায়নি, একটুর জন্য পালিয়ে গেছে। ঐদিন রাতে আমি যে রকম ঘুমিয়েছি জীবনে কোন দিন এতো গভীর ঘুম ঘুমাইনি। এইটা নাকি বাড়ির সবার ক্ষেত্রেই হয়েছে। সবাই বলাবলি করছে কুফরি না কি যেন করা হয়েছে।
কোন মামলা হলো না। এসব চুরিতে কখনো মামলা হয়না। আসল কথা হচ্ছে, কেউ মামলা করে না। যা চুরি হয়, মামলা করলে খরচ হয় তার চাইতে বেশি। আর সত্যি বলতে মামার কিছুই খোয়া যায়নি, অন্তন এখন পর্যন্ত চোখে পরার মতো কিছু খোয়া যায়নি।
চোর ধরার খুব ইচ্ছা হচ্ছে। কিন্তু কিছু করার না থাকলে ঠিকমতো আক্ষেপও করা যায়না। তাই একা একাই অনুসন্ধান শুরু করলাম। জানি কাজ হবে না। রহস্য নিয়ে পরে থাকা -এই আরকি।
গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো চেক করতে শুরু করলাম, তবে খুব গোপনে। কেউ যদি বলে -'চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে!'- এই ভয়ে কাউকে কিছু বলিনি।
আর দশটা স্বাভাবিক চুরির মতো এই চুরিটাও সিধ কেটে করা হয়েছে।
আমি পায়ের ছাপ দেখছি। সিধ কাটা অংশে পায়ের ছাপ বেশি ঘন। শেষের দিকে পায়ের তালুর সামনের অংশের ছাপ আর হাতের ছাপ বেশি। মানে লোকটা হামাগুরি দিয়ে ঘরে ঢুকেছে। এইটা একটা বাচ্চা ছেলেও বলে দিতে পারবে।
চোর এক দিয়ে ঢুকে অন্য দিক দিয়ে বেড়িয়ে গেছে। কারন পায়ের ছাপ একমুখী। প্রথমে চৌকির দিকে গেছে, তারপর সদর দরজার দিকে গেছে। চাদরে মাটির দাগ। মনে হয় আলমারির চাবি খুজতে এসেছিল।
সদর দরজা হাট করে খোলা। খোলা দরজা দিয়ে বারান্দায় আসলাম। বারান্দায় চোরের পায়ের ছাপ হালকা তবে লম্বা লম্বা।
ছাপের সাথে গুড়ি গুড়ি মাটি আছে। চোর শেষের দিকে দৌড় দিয়েছিল। ঘরের মাঝখান থেকে বারান্দা পর্যন্ত এক পায়ের ছাপ থেকে আরেক পায়ের ছাপ বেশ দূরত্ব বজায় রেখেছে। বারান্দায় সিমেন্টের খুটির অল্প একটু অংশ ভাঙা। বাইরে খুব হালকা একটা গন্ধ ভেসে আছে, কিসের গন্ধ বুঝতে পারছি না।
পায়ের ছাপের গঠন আন্দাজ করলে বোঝা যায় লোকটা হালকা পাতলা, চোর কমবয়সী ছেলেও হতে পারে। সমস্যা হচ্ছে এই রকম লোক গ্রামে অভাব নাই, আর চোর যে এই গ্রামের লোক তাই বা কে বললো!
সব-ই সাধারন চিন্তা, তবে শুনতে বিস্ময়কর হলেও সত্য, চোর কে- এটা আমি বের করতে পেরেছি! মানে চোর সম্পর্কে একটা অনুমান করতে পারছি। দুটো চিহ্ন এখন আমার ভরসা। প্রথম চিহ্ন পায়ের ছাপ, দ্বিতীয় চিহ্ন খুটির ভাঙা ছোট্ট টুকরো।
এখন কাজ হচ্ছে চোরকে খুজে বের করা। তবে আমার মনে একটা খটকা লাগছে, একটা প্রশ্নই আসছে বারবার মাথাতে, সেই প্রশ্নের উত্তরের জন্য হলেও চোরকে খুজে বের করতে হবে।
দ্বিতীয় খন্ডঃ
গ্রামে ঠিকমতো ব্যাখ্যা করতে পারলে কার বাড়ির বেড়াল খুজছি সেটাও বলে দেয়া সম্ভব।
দিন দুই চেষ্টা করে খুজে বের করলাম এলাকার সবচাইতে অলস ব্যাক্তিকে। অলস ব্যাক্তিরা অন্যের সম্পর্কে জানে বেশি -বলেও বেশি।
অলস ব্যাক্তির নাম জামাল।
আমি জামাল মিয়াকে বললাম, "আমি একজন ব্লগার, অপরাধীদের উপর একটা আর্টিকেল লিখছি, আমি একজনকে খুজছি, তার সাথে আমার সাক্ষাত করিয়ে দিতে পারবেন?"
বলে আমি জামাল মিয়াকে এমন কিছু বর্ননা দিলাম যা সম্ভবত তিন দিন আগেও চোরের ছিল না।
আরো বললাম, "কথা দিচ্ছি কাউকে কিছু বলবো না।"
ব্লগ সম্পর্কে জামাল মিয়ার কোন ধারনা নেই, তাই প্রথমে মনে করলো আমি সাংবাদিক।
সে বললো, "আমি কী অপরাধীগো দালাল?"
অনেক কষ্টে তাকে বুঝাতে পারলাম আমি একজন স্বাধীন গবেষক ছাড়া আর কিছুই না। অবশেষে অপরাধীর নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজনের সাথে কথা বলিয়ে দিতে রাজি হলেন।
আমাকে দুইদিন পরে আসতে বললেন। জামাল মিয়া আগে ভিকটিমকে বুঝিয়ে রাজি করাবে, তারপর দেখা হবে। তবে শর্ত আছে, ভিজিট দিতে হবে। আমি রাজি হয়ে গেলাম।
দুইদিন পর গেলাম সাক্ষাতকার নিতে।
আমি আসলে আসা করিনি লোকটা আমার সাথে কথা বলতে রাজি হবে। জীবনে শুনিনি চোর সাক্ষাতকার দেয়। তবে উন্নত বিশ্বে বড় বড় অপরাধীরা বিশেষ কিছু টিভি চ্যানেলে সাক্ষাতকার দিয়েছে-এটা জানি।
নৌকায় করে যেতে হলো আমাদের, নৌকা জামাল মিয়ার। অন্য কোন রাস্তা আপাতত এই বর্ষাকালে নাই, তাই নদীপথ। আকাশের অবস্থা ভালো না, মেঘে ঢাকা। বিকেল বেলাতেই কেমন রাতের আমেজ, তার উপর চিনিনা কিছুই। ভয় করছে খুব।
জামাল মিয়া মনে হয় আমার মনের অবস্থা টের পেয়েছে। তাই বললো, "ভয়ের কিছু নাই ভাইজান, চোর খুব ভালা মানুষ, নাম আজিজ মিয়া, আমার চাচাতো ভাই, আগে গেরামে থাকতো, এখন থাকে না। চান ফকিরের দোয়ায় সিদ্ধ চোর, চুরি কইরা জীবনে ধরা খায় নাই। তয় অনেকে তারে সন্দেহ করে। তার ইতিহাস বড়ই করুন।"
আমি অবাক হয়ে তাকে প্রশ্ন করলাম, "উনি যে চোর আমি কিন্তু আপনাকে তা বলিনি।"
জামালঃহ, কন নাই, তয় আমি জানি।
সে কিভাবে জানে আমি বলতে পারবো না, তাই আগেই বলেছি অলস লোকেরা জানে বেশি -বলেও বেশি।
যাহোক সন্ধ্যার কিছুক্ষন আগে আমরা নৌকা থেকে নামলাম।
একটা চর মতো জায়গায় আজিজ মিয়ার বাস, মোটামুটি বিচ্ছিন্ন জায়গা। ছোট্ট একটা বাঁশের চাটাই ঘরে একা থাকেন। প্রথমে জামাল মিয়া ভিতরে গেলেন, তারপর গেলাম আমি।
উনাকে দেখে ভয় দূর হয়ে গেল আমার, খুব মায়াও হলো। স্বাস্থ্য খুব খারাপ লোকটার।মনে হয় হাপানী আছে। বয়স আন্দাজ করা মুশকিল। চল্লিশও হতে পারে আবার ষাটও হতে পারে।
আজিজ মিয়ার ডাকাতের মতো মোটা শরীর বা ইয়া বড় গোফ নেই।
আমাকে বললো," ভিতরে আসেন।"
ঘরের ভিতরের অবস্থা আজিজ মিয়ার মতোই করুন। আজিজ মিয়া বাশের চাটাইয়ের উপর ছেড়া কাথায় চাদর গায়ে আধশোয়া অবস্থায় শুয়ে আছে, আমি বসলাম তার পাশে। মনে হয় লোকটার জ্বর এসেছে।
জামাল মিয়া চলে গেলো নৌকা পাহারা দিতে।
জামাল মিয়া আগেই সব ঠিক করে রেখেছে তাই দুই একটা কথা বলে মূল আলোচনায় চলে আসলাম।
আমার সাথে আজিজ মিয়ার বক্তব্য সরাসরি তুলে দিলাম এখানে। আগেই বলে রাখি আমি জীবনে কারো সাক্ষাতকার গ্রহন করিনি। তাই প্রশ্নের ধারাবাহিকতা না খুজে পেলে কেউ গাল দেবেন না দয়া করে।
"আপনার নাম কি?"
আজিজঃনাম দিয়া কী করবেন। কুত্তা বিলায়ের নাম থাকে না, তারা কী খুব মছিবতে আছে?"
প্রথম উত্তরেই ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেছি। এই লোক সম্ভবত দুনিয়ার উপরে মহা বিরক্ত। তাই তারাতারি প্রশ্ন করলাম, "দুনিয়ায় এতো পেশা থাকতে এই পেশা কেন বেছে নিলেন?"
আজিজঃচালান ছাড়া ব্যাবসা, এইজন্যে।
"আচ্ছা, কতোগুলো চুরি করেছেন জীবনে?"
আজিজঃহিসাব নাই।
"আপনার কোন আত্মীয় স্বজন নাই?"
আজিজঃনা।
"কেন, একা অসুস্থ অবস্থায় কষ্ট হচ্ছে না?"
"আত্মীয় স্বজন না থাকাই ভালা।"বুঝলাম লোকটা আর কিছু বলবে না। সম্ভবত আজিজ মিয়ার করুন কাহিনী এখানেই।
"আপনার চুরি করতে খারাপ বা লজ্জা লাগে না?"
আজিজঃশরম পাওয়ার কিছু নাই। পরিচিত মানুষ না থাকলে শরম এতো সহজে আসে না। আর ধরা না খাইলে কেউ চোর না।"
"জীবনে ধরা খেয়েছেন কতবার?"
আজিজঃএকবারও না
"আজকে খাবেন।"
আজিজ মিয়া কপাল কুচকে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন।
"আমার মামা মানে রমিজ মিয়ার বাড়িতে যে চুরি করেছে, আমার ধারনা সে আপনি।"
আজিজ মিয়া ছোট্ট করে হেসে বললেন, "কোন পরমান নাই।"
"আছে, আপনার হাটু গুরুতর জখম হয়েছে, এইটাই প্রমান।"
লোকটার হাটু চাদরে ঢাকা ছিল। তবে এবার সে সত্যিই বিস্মিত হলো। তার হাসিটা উধাও হয়ে গেছে।
আমাকে জিজ্ঞেস করলো, "আপনে ক্যামনে জানলেন? জামাল কইছে না-কি?"
তার কথার উত্তর না দিয়ে আমি বললাম, "আমি কিন্তু প্রমান করতে পারবো।"
"ক্যামনে?"
"বলবো, তবে আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।"
লোকটা আমার দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে বললো, "যদি ধরাইয়া না দেন, তাইলে উত্তর দিমু।"
আমি বললাম,"আমি আপনাকে ধরতে আসি নাই, একটা উত্তর জানতে এসেছি।"
আজিজঃজানা থাকলে উত্তর দিবো, আপনার যা বলার বলেন।
"ঠিক আছে বলছি, আপনি কিভাবে ভিতরে ঢুকেছেন সে ব্যাখ্যাতে না গেলাম। আমার ধারনা আপনি বেড়িয়ে আসার সময় সিমেন্টের খুটিতে আঘাত পেয়েছেন। বেশ জোরে আঘাত পেয়েছেন, আঘাতের ফলে খুটির একটা অংশ ভেঙে গেছে, সদ্য ভাঙা। খুটির আর অংশের মতো পুরনো না, নতুন ভাঙা । সম্ভবত আপনার পা-ও ভেঙেছে।
বাড়ি প্রত্যেক দিন ঝাড়ু দেয়া হয়। টুকরোটি ঐখানে থাকার কথা না। খুটির খুব কাছে আপনার পায়ের ছাপ ছিল। তবে এইটা প্রমান করে না যে আপনিই চুরি করেছেন।"
"তবে মজার ব্যাপার হলো বারান্দার পর থেকে বেশ কিছুদূর আপনার পায়ের ছাপ পেয়েছি একটা, শুধু বাম পায়ের। হাতের ছাপও আছে আবছা ভাবে। তখনই বুঝেছি আপনি ডান পায়ে আঘাত পেয়ে পড়ে গিয়েছিলেন। খুটিতে রক্তের দাগ ছিল না। অর্থাৎ আপনার পা ভেঙেছে কিন্তু কাটেনি।
তারপর এরকম লোক খুজতে শুরু করলাম, যিনি দুই একদিনের মধ্যে ডান হাটুতে বেশ গুরুতর চোট পেয়েছে। পায়ের ছাপের মাপ আমার কাছে আছে, আপনার পায়ের সাথে মিলিয়ে দেখলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে।"
আজিজ মিয়া বিস্ময়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেছে। সে আমাকে প্রশ্ন করতে পারতো, ডান হাটুতে আঘাত পেয়েছে এরকম লোক খুজলে আরো পাওয়া যাবে, তারা কী সবাই চোর?
কিন্তু প্রশ্ন করেনি।
অপরাধী মনের দিক থেকে দুর্বল হয়, তাই প্রশ্নের ফাক ফোকর ধরতে পারে না, একটু ব্যতিক্রম দেখলেই অপরাধ স্বীকার করে ফেলে।
এইবার আমতা আমতা করে আজিজ মিয়া বললো," আপনের প্রশ্ন কী?"
"চুরির রাতে আমরা স্বাভাবিকের চাইতে বেশি ঘুমিয়েছি কেন?"
আজিজ মিয়া খুব অল্প কথায় উত্তর দিলেন, "নেশা জ্বালাইয়া ধুয়া দিছি, তাই বেহুঁশ হইয়া সবাই ঘুমাইছেন।"
এই সাধারন বিষয়টা বুঝতে না পারার জন্য আজিজ মিয়ার সামনে আমি লজ্জা পেলাম। স্কুলে পড়া না পারলে যেরকম লজ্জা পেতাম-ঠিক সেরকম। স্যারেরা ঠিক-ই বলতো বড় হয়ে আমি ভাল মানের চোরও হতে পারবো না।
আমি আজিজ মিয়ার পকেটে কিছু টাকা গুজে দিলাম যাতে ঔষধ কিনতে পারে। আজিজ মিয়া টাকার দিকে ফিরেও তাকালেন না। তার মাথা নত হয়ে বুকের কাছে ঠেকে আছে।
তারপর আর কোন কথা হয়নি, তাকে ধরিয়েও দেইনি। চলে এসেছি সোজা মামার বাড়ি।
এবার একটা সত্যি কথা বলি, আমি কিন্তু আজিজ মিয়াকে দেখার পরও নিশ্চিত ছিলাম না যে -সেই মামার বাড়িতে চুরি করেছে! তিনি এক্সিডেন্ট করেও আঘাত পেয়ে থাকতে পারেন, তবে তার বিছানায় মামার চকচকে কালো লাইটটা চোখে পরার পর আমি তাকে -"আজ ধরা খাবেন"- কথাটা বলেছি। আর ঐ লাইটটা আমিই মামাকে দিয়েছিলাম। আজিজ মিয়া লাইট লুকিয়ে রাখার কথা চিন্তাও করে নাই। আমি খেয়াল করছি -এটাও দেখেনাই।
আমার মামাও মনে হয় জানে না তার লাইট চুরি হয়ে গেছে!
হুমায়ন আহমেদ আমার খুব প্রিয় একজন মানুষ।সে চলে গেলেও মিসির আলিকে রেখেগেছেন। তার ছায়া তোমার মধ্যে দেখতে পাচ্ছি। আমি তোমাকে অনেক পছন্দ করি।
উত্তরমুছুনআমার আফসোস একটাই; মূল্যায়ন নামক জিনিসটা আমার ভাগ্যে নাই। ব্লগের লেখা চুরি করা খুব সহজ। তাই আমি এখন কোন কিছু আসাও করি না।
উত্তরমুছুনএক কথায় অসাধারণ ♥️
উত্তরমুছুনসময় নিয়ে পড়ার জন্য ধন্যবাদ। উৎসাহ দিয়ে সাথে থাকবেন আশা করছি।
মুছুন