আপেক্ষিক তত্ত্ব
বিজ্ঞানের বেশিরভাগ তত্ত্ব আখের ছোবড়ার মতো খটমটে, একেবারে অরুচিকর। কিন্তু ফলাফলটা দারুন! তত্ত্ব যতো কঠিনই হোক না কেন বুঝতে পারলে মজা পাওয়া যায়। একটা উদাহরনের সাহায্যে বিষয়টা ব্যাখ্যা করছি;
যেমন ধরুন, একটি গাড়ি যদি ২০ কিলোমিটার বেগে চলে, আর চলন্ত বাস থেকে কেউ সামনের দিকে একটি বল ১০ কিলোমিটার বেগে ছুড়ে মারে, তবে বলের গতি কতো হবে?
অনেকে বলবে ৩০ কিলোমিটার। তবে আসল কথা হচ্ছে বল না চাইতেই কিন্তু বাসের বাড়তি গতি পেয়ে গেছে। বাসের গতি বলের নিজস্ব গতি নয়; সহায়ক গতি মাত্র। ফলে বলের নিজস্ব গতি হবে বল ছুড়ে মারার কেন্দ্র থেকে বাসের গতি বাদ দিয়ে বলের অর্জিত গতি, মানে ১০ কিলোমিটার।
এ নিয়ে অনেক তর্ক আছে, তাই আইনস্টাইন নিজেই বাংলাদেশে এসেছে আসল আপেক্ষিক তত্ত্ব বোঝাতে। আইনস্টাইন আসবেন অথচ বিশাল লোকসমাগম হবে না -এ হতেই পারে না। তাই সব ধরনের মানুষ তাকে দেখতে ও শুভেচ্ছা দিতে এসেছে।
আইনস্টাইন প্লেন থেকে নামছেন। বিভিন্ন পেশার মানুষ চিন্তা করছে;
বিজ্ঞানীঃবুঝি ভাই বুঝি, সবই বুঝি। ই-ইকুয়াল এম, সি স্কয়ার তো? বাংলাদেশে আসছেন- দুই দিন থাকেন, সদরঘাটের পানি খান। ই-ইকুয়াল এম, সি কিউব হতে বড়জোর তিনদিন লাগবে।
ইঞ্জিনিয়ারঃএটা কোন কোম্পানির প্লেন? শব্দটা গুলিস্তানের লেগুনার মতো!
ডাক্তারঃহায় হায় রে, সিটিস্ক্যান মেশিনটা নষ্ট হওয়ার আর সময় পেলো না রে!
রাজনীতিকঃজার্মান-আমেরিকান লোক; আপেক্ষিকতার নামে আবার পেট্রোল বোমা বানানোর প্রজুক্তি চুরি করবে না তো!
পুলিশঃটাকা ছাড়া উত্তর-দক্ষিণ, পূর্ব-পশ্চিম কোন দিকেই যাইতে পারবা না মামু! যতো বড় বিজ্ঞানীই হওনা কেন।
ছাত্রঃস্যারের মার খেতে খেতে জীবন শেষ, আসছে আরো মার খাওয়াতে। পরিক্ষার পরে আসলে কি এমন ক্ষতি হতো বাপু!
টেইলার্সঃলোকটার প্যান্টটা যা ফিটিংস
হয়েছে না, খাসা!
বিউটিশিয়ানঃহেয়ার স্টাইলটা এক্কেবারে যুগান্তকারী, বাকান স্পাইক করা চুল। দারুন আইডিয়া! তবে কোন কোম্পানির হেয়ারজেল ব্যবহার করা হয়েছে জিজ্ঞেস করতে হবে।
সাংবাদিকঃসাড়ে তিনশ টাকায় কি টিভিতে একটা সাক্ষাতকার দিতে রাজী হবে?
বেকারঃদেশের যা অবস্থা চাচা; ঈদের বাজারে সেমাইয়ের কারখানায়ও চাকরী পাইবা না।
বাবুর্চিঃমনে হয় লোকটারে ঠিকমতো খাইতে দেওয়া হয় না, নাইলে চেহারা এমন ভেটকি মাছের মতো ক্যান? আমাগো দ্যাশের মানুষতো মাশাল্লা বেগুন ভর্তা খাইয়াই নাদুসনুদুস!
কৃষকঃগরু বাছুর পালতে হয়নাতো-তাই বোঝ না। একদিন খ্যাতে ধান কাটো- বুঝবা ছত্রিশ দিনে কয় মাস হয়- খাম্বা কোনহানকার!
কবিঃচুল তার কাকের বাসা, গোফ তার ঘন,
হাসিতে পাবনার ছাট, মনটা চনমন।
দেখো মানুষ, দেখো জনতা, দেখো তোমরা।
চোখ বাদে মুখটা তার, আস্ত মিষ্টি কুমড়া!
পাগলঃআরে দোস্ত, এতো দিন কই আছিলা! জিঞ্জিরা বাজারে কতো খুচছি তোমারে!
পাতি চোরঃএরে মাইরা লাভ নাই, দেইখ্যাইতো খচ্চরের লাহান লাগে, হালায় নিশ্চিত আমার মতোই ধোলাইখাল থেইকা আইছে!
আইনস্টাইন তুখোড় মেধাসম্পন্ন মানুষ, সে খুব ভালো করেই জানে বাঙালী মুখে বলে কী আর অন্তরে ভাবে কী!
তাই সবার মতিগতি টের পেয়ে এয়ারপোর্টে একচক্কর দিয়েই প্লেনে উঠে গেলো। পাইলট জিজ্ঞেস করলো, “ কী হল স্যার, লেকচার দেবেন না?
আইনস্টাইন বলল,”দরকার নাই তর লেকচারের, তাড়াতাড়ি প্লেন ঘোরা। আপেক্ষিক তত্ত্বের নতুন সংজ্ঞা পাইছি। বিরাট মজাও পাইছি !”
আইনস্টাইন কি তত্ত্ব পাইছিলো ?
উত্তরমুছুনএটা বাংগালী তত্ত্ব,পাঠিয়ে দেবো
উত্তরমুছুন