Times of twin earth

আগামীকাল সকালবেলা সূর্য পূর্বদিকে উঠবে।-এটা কী ভবিষ্যৎ?
আমি হেটে যাচ্ছি; সামনের পদক্ষেপটি আমার ভবিষ্যৎ।
তবে কী আমি ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছি? আগামী বা পূর্ব শব্দের মধ্যেই  কী ভবিষ্যৎ বা অতীত আবদ্ধ?

অচেনা জগতঃ
স্বপ্ন একটা জগত- অদ্ভুত জগত ।যেখানে শ্রবণ, দর্শন ও অনুভব থাকে। সেখানে  ব্যথা অনুভূত হয় না কিন্তু আনন্দ বা বেদনা অনুভূত হয়। মাত্র দুই মিনিটের একটা স্বপ্ন দেখতে আমাদের চার ঘন্টারও বেশি সময় লাগে। একই দুনিয়ায় একই সময়ে তিনটি ভিন্ন সময়। তিনটি বলছি কারন পৃথিবীর সময় চার ঘন্টা, ঐ একই হিসেবে স্বপ্নের জগত দুই মিনিট আর সত্যি বলতে সপ্নের জগতে কোন সময় নেই অর্থাৎ অসীম সময়! যেখানে অবাদ বিচরণ থাকা স্বত্বেও সবকিছু হয় অচেনা নয়তো আবছা। একই পৃথিবীতেই একই সময়ে “সময়” আপেক্ষিক।

একটা উদাহরণঃ
রহিম সাহেব ৫০ বা ৬০ বছর বয়সে মারা গেছেন। তার ৫০ বা ৬০ বছর বয়স আসলে কী?
পৃথিবীর সময় আর আমাদের বন্ধু গ্রহ মঙ্গলের সময়ের সাথে কোন মিল নেই। শুধু তাই নয় পৃথিবীর সাথে অন্য কোন গ্রহের সময়েরও মিল নেই।
সময় প্রয়োজনে সৃষ্ট। সূর্যই আসলে এক অর্থে সময় তৈরি করেছে বা আমদের দিয়ে করিয়েছে। সূর্যের কারনে ঘন্টা, দিন বা মাস হয়। সূর্য না থাকলে দিন-মাস হতো না। তাহলে এমন কি হতে পারে; বা এমন কোন গ্রহের অস্তিত্ব কি আছে যা আমাদের পরিচিত পৃথিবীর মতো নয়, যেখানে সময়কে স্থির বা গতিশীল করে দেয়া যায় সপ্নের মতো? অথবা যেখানে সময়ও বহু পূর্ব থেকেই স্থির হয়ে আছে?

যে সূর্য নিজে সময় তৈরি করেছে তার নিজের কিন্তু সময়ের দরকার হয় না! পৃথিবীর হিসেবে একটি নক্ষত্রের বয়স দশ লক্ষ বছর হতে পারে। তাই বলে এটাকে নিশ্চিত সময় বলা যাবে না। কারন সময়ের হিসাব আমাদেরটাই সঠিক- এটা কেউ বলে দেয়নি!

ক্রমবর্ধমান মহাবিশ্বঃ

একটা গবেষণা বলছে মহাবিশ্ব ক্রমবর্ধমান। প্রত্যেকটা গ্রহ নিজেদের থেকে অল্প পরিমানে হলেও দূরে সরে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। তাহলে কিন্তু এটা বলাই যায় লক্ষ বছর পূর্বে ৩৬৫ দিনে এক ববছর ছিল না বা লক্ষ বছর পরেও ৩৬৫ দিনে একবছর হবে না।কারন আলোর একটা গতি আছে।এখন পৃথিবীতে সূর্য থেকে আলো আসতে সময় লাগে আট মিনিট আঠারো সেকেন্ড।কিন্তু যদি বর্তমান অবস্থান থেকে সূর্য দূরে সরে যায় তাহলেও কী আট মিনিট আঠারো সেকেন্ড লাগবে পৃথিবীতে আলো পৌছাতে?উত্তরটা হচ্ছে না।   

রহিম সাহেব বর্তমান সময়ে ৫০ বছর বয়সে মারা গেলেও ১০ লক্ষ বছর পূর্বে হলে বলতে হতো ৯০ বছর, কারন সূর্যের কাছে থাকার কারনে দিন রাত তখন হতো ঘনঘন। আর ১০ লক্ষ বছর পরে হলে বলতে হবে ২০ বছর কারন সূর্য থেকে গ্রহের দূরত্ব যত বেশি হবে রাত-দিন হওয়ার সময় ততো বৃদ্ধি পাবে। কারন ১০ লক্ষ বছর পূর্বে বা পরে ২৪ ঘন্টায় একদিন ছিল না হবেও না।

একসময় মানুষ হাজার বছর বেচে থাকতো,  এখন বাচে না বা বেচে থাকতে পারে না।
এটা হয় আমাদের পরিচিত মহাবিশ্বের আবহাওয়ার কারনে। মহাবিশ্ব সম্প্রসারণের কারনে পৃথিবী সূর্য থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। ফলে জীবনদায়ী উপাদানও কমে যাচ্ছে। আবার এমনও হতে পারে হাজার বছর বেচে থাকা মানুষ আসলে অন্য গ্রহের বাসিন্দা ছিল!

হাজার বছর বেচে থাকার জন্য গ্রহ বা সূর্যের উপাদান যাই বলি না কেন; স্বপ্নের জগতের সময়ের মতো কোন উপাদান যদি আয়ত্বে আনা যায় বা আমাদের জন্য উপযোগী হয়ে ওঠে তবে জীবন আর সময়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না! আর এটা পরকাল নামক বিষয়টিকে আরো সুন্দর করে প্রমান করবে।

পৃথিবীর সবচাইতে মূল্যবান জিনিসটির নাম সময়। সবাই এর সঠিক ব্যবহার করতে চায়। কারন সময় সীমিত,কারন আমাদের জীবন সীমিত।জীবন যদি অসীম হতো তবে কী আমরা সময় দেখার জন্য ঘড়ি কিনতাম বা ক্যালেন্ডার তৈরি করতাম?আমি বলতে চাইছি যদি এরকম হয়; সময় অসীম -তাহলে কী হবে? অনন্তকাল বলে যদি কিছু সত্যিই থাকে তবে সেখানে ঘড়ি আর ক্যালেন্ডার হবে সবচাইতে মূল্যহীন বস্তু!

মন্তব্যসমূহ

  1. একমাএ আল্লাহ সুবাহানাতালা ছারা সব কিছুই মাপার মাপকাঠি আছে থাকবে।সময়েরটা সময়ই বলে দেবে।

    উত্তরমুছুন
  2. এই মন্তব্যটি লেখক দ্বারা সরানো হয়েছে।

    উত্তরমুছুন
  3. সূর্যের সাথে পৃথিবীর প্রদক্ষিনের ডিউরেশন আর সময় কি এক?
    যত ঘন্টায় ই দিন হোক ঘরির কাটা তো একই থাকবে :)
    আঙ্কেল আপনার ফেসবুকের কমেন্ট টা রিপ্লাই দেয়া যায়নি। কোন অপশন নাই আর ঘোলা!

    উত্তরমুছুন
  4. হ্যা এক। বর্তমানে সূর্যের ডিউরেশনে এক বছর,আর পৃথিবীর নিজস্ব ডিউরেশনে ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড,যাকে আমরা একদিন বলি। লক্ষ্য লক্ষ্য বছর পর ঘরিতে ৩০ ঘন্টা বা আরো বেশি সময়ে একদিনন হবে।

    উত্তরমুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

উচিৎ শিক্ষা

দর্শনঃমোল্লা নাসিরুদ্দিনের ফুঁ

বাঘা বাতাস